নিজস্ব প্রতিবেদক, বাঁশখালী টুডে:
‘ছনুয়ায় বিভিন্ন স্লুইসগেট বন্ধ রাখার খবর পেয়েছি। তাদের তথ্য সংগ্রহ করতেছি। যারা স্লুইসগেট বন্ধ রেখে ছনুয়ার মানুষকে পানি বন্দি করে রেখেছে, তাদের পরিণাম শুভ হবে না’ — এমনটি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান আশিক।
ছনুয়া ইউনিয়নের মান্নানপাড়ার বাসিন্দা ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মফিজুর রহমান আশিক বলেন, ১৯৯১ সালের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর অন্যতম ছিল বাঁশখালী। দুঃখজনক হলেও সত্য, সেই ভয়াবহ দুর্যোগের ৩৫ বছর পরও বাঁশখালীর উপকূলীয় আটটি ইউনিয়নে প্রায় তিন লাখ মানুষের বসবাসের তুলনায় পর্যাপ্ত সাইক্লোন শেল্টার বা ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়নি।
তিনি বলেন, এত দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ না হওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক। উপকূলীয় জনগণের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তার স্বার্থে অবিলম্বে কমপক্ষে আরও ৩০–৩৫টি আধুনিক সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, টানা ভারী বর্ষণ, সমুদ্রের জোয়ারের পানির প্রভাব এবং পাহাড়ি ঢলের কারণে ছনুয়া ইউনিয়নসহ বাঁশখালীর বিভিন্ন এলাকা বর্তমানে পানিবন্দী। হাজার হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য জরুরি ভিত্তিতে পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানীয় পানি, স্যালাইন, শিশু খাদ্য, প্রয়োজনীয় ওষুধ, চিকিৎসাসেবা, পশুখাদ্য এবং নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান তিনি। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, জেলে, দিনমজুর ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর জন্য বিশেষ পুনর্বাসন সহায়তা এবং কৃষিঋণ ও ক্ষুদ্রঋণের কিস্তি সাময়িক স্থগিত করারও আহ্বান জানান।
মফিজুর রহমান আশিক অভিযোগ করে বলেন, সম্প্রতি কিছু অসাধু মাছ ব্যবসায়ী তাদের মাছের ঘেরের খালে বাঁধ দিয়ে এবং স্লুইস গেটে মাছ ধরার জাল বসিয়ে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করেছেন। এছাড়া অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে অনেক বেড়িবাঁধ দুর্বল হয়ে ভেঙে গিয়ে বন্যা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়েছে। তিনি এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান।
তিনি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগকে পুঁজি করে জনগণের জীবন ও সম্পদকে ঝুঁকির মুখে ফেলার কোনো সুযোগ দেওয়া যাবে না। প্রশাসনকে কঠোর নজরদারি ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম বন্ধ করতে হবে।