স্থানীয় নির্বাচনের জন্য প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ— জানালেন প্রতিমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক, বাঁশখালী টুডে>>
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, ‘বিএনপিকে হুমকি দেবেন না, বিএনপি কারো হুমকিকে পরোয়া করে না। বিএনপিই একমাত্র দল, যে দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়া, বেগম খালেদা জিয়া ও তাদের সুযোগ্য পুত্র তারেক জিয়া। তিন প্রধানই জাতিসংঘে ভাষণ দিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। আমরা সেই দলের কর্মী হিসেবে নিজেদের গর্ববোধ করি।’
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাঁশখালীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপির চট্টগ্রাম সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মাহবুবুর রহমান শামীমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় তিনি জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমানকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে একটি রাজনৈতিক দল আছে, যারা ধর্মের ব্যবহার করে। এই অঞ্চলেও বেহেশতের টিকিট দেওয়ার কথা বলে ভোট দিয়েছিল। বেহেশত তো দূরের কথা, এমন পানি দিয়েছিল, সেই পানির ঠেলায় অস্থির হয়ে গিয়েছিলাম। সাহায্য তো দূরের কথা। তিনি বন্যার মধ্যে এসেছিলেন। দেখেছি পাঞ্জাবি খুলেছে, মাঝে মাঝে গেঞ্জিও খুলেছে। হাঁটু পানিতে নেমেছে, এইটুকুই। কিন্তু কিছু দেয়নি। কিন্তু আপনাদের নেতা ও আপনাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নাটক করার জন্য এখানে আসেননি৷ তিনি ১০০ টি পরিবারকে ঘর দিয়েছেন।
তিনি বলেন, আমি একটু আগে পাঞ্জাবি খোলা যে লোকটির কথা বললাম, আমি টিভিতে দেখেছি পাঞ্জাবির পকেট থেকে বের করে একশো টাকা, পঞ্চাশ টাকা বাচ্চাদেরকে দিতে। বন্যার মধ্যে বাড়ি থেকেই বের হতে পারছি না। টাকা কি খাবো? দরকার ছিল খাদ্য। দরকার ছিল স্যালাইন। দরকার ছিল বিশুদ্ধ পানি। এই দলের অভিনয় দেখতে দেখতে আজকে আমরা অস্থির।
জামায়াতকে ‘অকৃতজ্ঞ’ দল হিসেবে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, ২০০১ সালে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া জামায়াতের দুই নেতাকে মন্ত্রী করেছিলেন। এর মাধ্যমে তাদের ‘রাজাকারের তকমা’ দূর করার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু জামায়াত এখন সেসব কথা ভুলে গেছে।
মীর শাহে আলম বলেন, এই সরকার জনগণের সরকার, দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে নির্বাচিত। অথচ ছয় মাস না যেতেই তারা লংমার্চ করে সরকার পতনের হুমকি দিচ্ছে। আগামী বছরের জানুয়ারিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে জানিয়ে তিনি দলের নেতাকর্মীদের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে হবে। বাঁশখালীর প্রতিটি ইউনিয়নে যেন আমাদের দলের প্রার্থীদের ভূমিধস জয় হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এবার স্থানীয় নির্বাচন ও উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি একক প্রার্থীকে সমর্থন দেবে। যারা এর বিরোধিতা করবে বা বিদ্রোহী প্রার্থী হবে, তাদের বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি। এর মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
এনসিপি ও জামায়াতের সঙ্গে আওয়ামী লীগের পুরোনো সম্পর্ক রয়েছে দাবি করে মীর শাহে আলম বলেন, ভারতে পলাতক নেতাদের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ থাকতে পারে। তাদের পুরোনো সম্পর্ক আবারও জোড়া লাগতে পারে। দেশে তারা বর্তমানে যে আন্দোলন করছে, তা আওয়ামী লীগকে সহায়তা করার শামিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
১১ দলীয় জোটের নেতাদের সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তারা সংসদে এক কথা বললেও বাইরে আরেক কথা বলেন। তারা নানারকম অভিনয় করছেন। এনসিপির নেতাদের বয়স কম। অথচ তারা সম্মান দিয়ে রাজনৈতিক ভাষায় কথা বলেন না। তারেক রহমানকে নিয়ে বিশ্রী ভাষায় কথা বলেন।
দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মীর শাহে আলম বলেন, দলের জন্য যারা দুঃসময়ে কাজ করেছেন, তারা ঠিকাদারিসহ বৈধ সব সুযোগ পাবেন।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আন্তরিক উদ্যোগে এখানকার সড়ক, কালভার্ট ও বেড়িবাঁধের উন্নয়নকাজ শিগগির শুরু হবে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫১০টি পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে ঘর নির্মাণ ও পুনর্বাসনের জন্য আর্থিক সহায়তার চেক।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এনজিও-বিষয়ক প্রধান ড. মোহাম্মদ জকরিয়া বলেন, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের উদ্যোগে বাঁশখালী উপজেলার এই পরিবারগুলোকে দেওয়া হচ্ছে ৩০ হাজার টাকা করে। এই হিসাবে মোট ব্যয় হচ্ছে ১ কোটি ৫৩ লাখ টাকা।
অনুষ্ঠানের সভাপতি চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে জেলা পরিষদ আন্তরিকভাবে কাজ করছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো যাতে দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারে এবং ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে, সে জন্য এ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম, চট্টগ্রাম ওয়াসার চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইদ্রিস মিয়া, স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব মনোয়ারা বেগম, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাসুদ আলম ও বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুহুল আমিন প্রমুখ।