মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন, বাঁশখালী:
বাঁশখালীর ছেলবন গ্রামের নুরানীয়া জামে মসজিদ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে অযত্নে অবহেলায় পড়ে আছে। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে চলাচল করে প্রায় ২০ হাজার মানুষ। টানা কয়েকদিনের বৃষ্টিতে এই সড়কে বড় বড় গর্ত ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, সরকার যায় সরকার আসে। কিন্তু এই গ্রামের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয় না। তাদের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম সড়কটি কাদায় একাকার হয়ে আছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আইডিভুক্ত সড়ক হলেও এ পর্যন্ত কারও টনক নড়েনি।
গ্রামবাসীর দীর্ঘদিনের ক্ষোভের প্রতিফলন ঘটেছে বুধবার সকালে। এলাকাবাসী জড়ো হয়ে দীর্ঘদিনের বেহাল ও চলাচল-অযোগ্য অবস্থার প্রতিবাদে স্থানীয় এলাকাবাসীর উদ্যোগে প্রতীকী কচু রোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ছাত্রনেতা হাছান মো. জুনাইদ রাসেল জানান, দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি সংস্কারের অভাবে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত, কাদা ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থী, সাধারণ পথচারী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ সর্বস্তরের মানুষ প্রতিদিন চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। বারবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ধর্ণা দিলেও প্রতিকার মিলছে না।
জামায়াত নেতা মাওলানা জামাল উদ্দিন জিহাদী বলেন, এই এলাকার মানুষ এখন পানি বন্দি। জরুরি কাজে পেকুয়ায় যাওয়ার জন্য একটি সাঁকো ছিল। সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় এই এলাকার মানুষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন।
এ বিষয়ে বাঁশখালী উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মোহাম্মদ ইফরাদ বিন মুনির বলেন, বাঁশখালীতে প্রায় রাস্তার অবস্থা তো খারাপ। সব সড়কের বর্তমান অবস্থা নিয়ে অবগত আছি। কিন্তু দুঃখের বিষয়, আমাদের তো এখন প্রজেক্ট নেই। যারা কচু রোপণ করে প্রতিবাদ করেছে, তারা ভালো কাজ করেছে। এখন সবার নজরে পড়বে আশাকরি। আপনারাও লেখালেখি করেন। আমাকে তখন উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ থেকে চিঠি লিখবে, ঐ রাস্তার প্রাক্কলন প্রস্তুত করার জন্য। নতুন প্রকল্প আসলে এই রাস্তাটি আমি দেখবো। আমাকে রাস্তার নামটি হোয়াটসঅ্যাপে দিয়ে রাখেন।
প্রসঙ্গত, এই সড়কটি ছনুয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বাঁশখালী বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব রেজাউল হক চৌধুরীর ওয়ার্ডে অবস্থিত। স্থানীয়রা জানান, রেজাউল হক চৌধুরী ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি ১৪ বছর যাবত ছনুয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন।