☰

তৈলারদ্বীপ সেতুর টোলে সরব এমপি, ভাড়া নৈরাজ্যে নীরবতা—প্রশ্ন যাত্রীদের

বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
তৈলারদ্বীপ সেতুর টোলে সরব এমপি, ভাড়া নৈরাজ্যে নীরবতা—প্রশ্ন যাত্রীদের বাঁশখালী সড়কে যাত্রী হয়রানির প্রতীকী ছবি
নিজস্ব প্রতিবেদক, বাঁশখালী টুডে:
দীর্ঘ ১৮ বছরের টোলের বোঝা যেন তৈলারদ্বীপ সেতুর ওপর দিয়ে চলাচলকারী মানুষের নিত্যসঙ্গী। সেই বোঝা লাঘবের দাবিতে এবার সরব হয়েছেন চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মুহাম্মদ জহিরুল ইসলাম। 

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের আওতাধীন সেতুগুলোতে নতুন করে টোল আদায়ের আলোচনার মধ্যেই তিনি সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর কাছে ডিও লেটার পাঠিয়ে তৈলারদ্বীপ সেতুর টোল ও ইজারা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।

তবে এই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও স্থানীয় যাত্রীদের মনে উঠেছে আরেকটি প্রশ্ন—টোলের বিরুদ্ধে যখন সংসদ সদস্যের এমন সোচ্চার অবস্থান, তখন বছরের পর বছর ধরে চলতে থাকা সিএনজি অটোরিকশার ভাড়া নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে কেন কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই?

স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সেতুর টোল আদায় কার্যত বন্ধ থাকলেও যাত্রীভাড়া এক টাকাও কমেনি। বরং অনেক ক্ষেত্রে আগের তুলনায় দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করছেন সিএনজি অটোরিকশা চালকরা। প্রতিদিন কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ যাত্রীরা অতিরিক্ত ভাড়া দিতে বাধ্য হলেও এ বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

যাত্রীদের ভাষ্য, "টোল বন্ধ করে যদি মানুষের যাতায়াত ব্যয় না কমে, তাহলে সাধারণ মানুষের প্রকৃত লাভ কোথায়?" তাদের মতে, শুধু টোল প্রত্যাহার নয়, সড়কে ভাড়া নৈরাজ্য বন্ধ করাও জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্বের অংশ হওয়া উচিত।

ডিও লেটারে সংসদ সদস্য উল্লেখ করেন, সাঙ্গু নদীর ওপর নির্মিত পটিয়া-আনোয়ারা-বাঁশখালী-টৈটং সড়কের তৈলারদ্বীপ সেতু দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগমাধ্যম। প্রতিদিন হাজারো মানুষ কর্মস্থল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ নানা প্রয়োজনে এই সেতু ব্যবহার করেন।

তিনি আরও বলেন, প্রচলিত নীতিমালা অনুযায়ী একটি সেতুর নির্মাণ ব্যয় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টোলের মাধ্যমে উঠে আসার কথা। অথচ প্রায় ১৮ বছর ধরে এ সেতুতে টোল আদায় অব্যাহত রয়েছে। এতে স্থানীয় জনগণ, যাত্রী ও পরিবহন মালিকদের অতিরিক্ত আর্থিক ব্যয়ের পাশাপাশি নিত্যদিনের যানজট ও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

সংসদ সদস্যের দাবি, টোল প্লাজায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হওয়ায় মূল্যবান কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে, পরিবহন পরিচালনার ব্যয় বাড়ছে এবং এর প্রভাব পড়ছে পণ্য পরিবহন ও সাধারণ মানুষের যাতায়াত ব্যয়ের ওপর। তাই জনদুর্ভোগ কমাতে এবং সড়কে স্বাভাবিক যান চলাচল নিশ্চিত করতে দ্রুত টোল আদায় ও ইজারা বাতিল করা প্রয়োজন।

ডিও লেটারে তিনি বিষয়টি মানবিক ও জনস্বার্থের দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মন্ত্রণালয়ের প্রতি অনুরোধ জানান।

স্থানীয় সূত্র জানায়, পটিয়া, আনোয়ারা ও বাঁশখালীর মধ্যে যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এই তৈলারদ্বীপ সেতু। দীর্ঘদিন ধরে টোল আদায় নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা, পরিবহন শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে। তাদের অভিযোগ, টোলের কারণে যেমন যাতায়াত ব্যয় বেড়েছে, তেমনি টোল প্লাজায় যানজট সৃষ্টি হয়ে সময় ও জ্বালানির অপচয়ও হচ্ছে।

তবে স্থানীয়দের একটি বড় অংশের মতে, টোল প্রত্যাহারের দাবির পাশাপাশি বাঁশখালী সড়কে দীর্ঘদিন ধরে চলা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, যাত্রী হয়রানি এবং ভাড়া নৈরাজ্য বন্ধেও সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। তাদের প্রত্যাশা, সাধারণ মানুষের যাতায়াত ব্যয় কমাতে হলে শুধু টোল নয়, গণপরিবহনে ভাড়া নিয়ন্ত্রণ ও যাত্রীসেবার বিষয়েও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

283 জন পড়েছেন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে বাঁশখালীতে উৎপাদিত চা পাতা