☰

গরমে কষ্ট পাচ্ছিল ছনুয়া হোসাইনিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা, এগিয়ে এলেন এমরুল কায়েস

সোমবার, ১১ মে ২০২৬
গরমে কষ্ট পাচ্ছিল ছনুয়া হোসাইনিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা, এগিয়ে এলেন এমরুল কায়েস ছনুয়া উপকূলীয় হোসাইনিয়া দাখিল মাদ্রাসায় উপহার দেওয়া সিলিংফ্যান
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার ছনুয়া ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছনুয়া উপকূলীয় হোসাইনিয়া দাখিল মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের পাঠদানের পরিবেশ উন্নয়নে ৮টি উন্নতমানের সিলিং ফ্যান উপহার দিয়েছেন ছনুয়া উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি ও সমাজসেবক লায়ন মো. আমিরুল হক (এমরুল কায়েস)। ফ্যানগুলো শ্রেণিকক্ষে সংযুক্তির জন্য তিনি ১০ হাজার নগদ টাকা উপহার দিয়েছেন।

রবিবার (১০ মে) ব্যক্তিগত উদ্যোগে তিনি এসব সিলিং ফ্যান মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেন। একইসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়ন কার্যক্রমে সহযোগিতা হিসেবে নগদ ১০ হাজার টাকাও প্রদান করেন।

মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, ছনুয়া উপকূলীয় হোসাইনিয়া দাখিল মাদ্রাসা ইউনিয়নের একমাত্র এমপিওভুক্ত মাদ্রাসা হওয়ায় এখানে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত সিলিং ফ্যান না থাকায় গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তির মধ্যে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল। অতিরিক্ত গরমে অনেক শিক্ষার্থী শ্রেণিকক্ষে মনোযোগ ধরে রাখতে ব্যর্থ হচ্ছিল বলেও জানা গেছে।

এ প্রেক্ষাপটে গত এপ্রিল মাসে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এমরুল কায়েস। ওই অনুষ্ঠানে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ শ্রেণিকক্ষে ফ্যান সংকটের বিষয়টি তার নজরে আনলে তিনি দ্রুত সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দেন। তারই ধারাবাহিকতায় অল্প সময়ের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় সিলিং ফ্যান উপহার দিয়ে প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন করেন তিনি।

এ বিষয়ে এমরুল কায়েস বলেন, “এই মাদ্রাসাটি আমার ইউনিয়নের একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘদিন অবহেলিত থাকলেও বর্তমানে নতুন সুপার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামোগত উন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সেই উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অংশীদার হতে পেরে আমি আনন্দিত। শিক্ষার্থীদের স্বাচ্ছন্দ্যময় পরিবেশ নিশ্চিত করতে আমি সবসময় এই প্রতিষ্ঠানের পাশে থাকবো।”

মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আবদুর রশিদ বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে গরমের কারণে কষ্ট পাচ্ছিল। বিষয়টি উপলব্ধি করে এমরুল কায়েস সাহেব যেভাবে দ্রুত সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। এই ফ্যানগুলো শিক্ষার্থীদের পাঠদানের পরিবেশ অনেকটাই স্বস্তিদায়ক করবে। আমরা তার প্রতি কৃতজ্ঞ।”

অভিভাবক ও সচেতন মহল মনে করছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মৌলিক সমস্যা সমাধানে সমাজের বিত্তবান ও সচেতন ব্যক্তিদের এমন মানবিক উদ্যোগ শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

কে এই এমরুল কায়েস?

চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী বাঁশখালী উপজেলার সর্বদক্ষিণের জনপদ ছনুয়া। যে জনপদ যুগ যুগ ধরে পড়ে ছিল অবহেলার অন্ধকারে। বর্ষায় হাঁটু-সমান কাঁদা মাড়িয়ে স্কুলে যেতো এখানকার শিশুরা। ভেজা বই, মলিন ইউনিফর্ম আর কাঁদায় মাখা জীবন ছিল তাদের নিত্যদিনের সঙ্গী।

এই কষ্টগুলো একদিন গভীরভাবে নাড়া দেয় ছনুয়ারই এক প্রগাঢ় হৃদয়ের মানুষকে। যার নাম লায়ন মো. আমিরুল হক। এমরুল কায়েস নামে যিনি পরিচিত সবার কাছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগ থেকে মাস্টার্স পাস করা এই সমাজসেবক নিজ গ্রামকে নিয়ে ভাবতে বসেন শিল্পীর মতো, স্বপ্নের মতো।

এরপর গড়ে তোলেন  ‘ছনুয়া উন্নয়ন পরিষদ’ নামে একটি অরাজনৈতিক, নির্মল মানবসেবার পতাকা। ২০১২ সালে গঠিত এই সংগঠনের মাধ্যমে তিনি হাঁটেন গ্রাম থেকে গ্রাম, কাঁদা থেকে কাঁদা, মানুষের আশা থেকে মানুষের স্বপ্নে। তার অবিরাম প্রচেষ্টায় ছনুয়ার আনাচে–কানাচে বদলের হাওয়া লাগে৷ নির্মিত হয় অন্তত ৩০টি রাস্তা। তিন দশক ধরে ছনুয়ার মানুষের জন্য নিজ ঘামের প্রতিটি ফোঁটাকে তিনি আশীর্বাদে পরিণত করেছেন।

বাধা এসেছে, এসেছে সমালোচনার ঝড়
২০২২ সালে দুষ্কৃতকারীরা ভেঙে দেয় তার নির্মিত আলহাজ্ব মৌলভী নজরুল ইসলাম সড়কের নামফলক৷ কিন্তু তিনি হতাশ হননি, দমে যাননি। বরং আরও দৃপ্ত পদক্ষেপে তৈরি করেছেন জলকদর খালের উপর সাঁকো, ছাত্রছাত্রীদের জন্য করেছেন যাত্রীছাউনি নির্মাণ। ছনুয়া মনুমিয়াজী ঘাটে তৈরি করেছেন আরেকটি ছাউনি, আর ছনুয়া বাজার থেকে জেটিঘাট পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ করেছেন নিজের মমতা দিয়ে, নিজের শ্রমে। লায়ন মো. আমিরুল হক এমরুল কায়েস বলেন, “আজ থেকে বিশ বছর আগে ছনুয়ার পরিবর্তনের স্বপ্ন নিয়ে পথে নেমেছিলাম। পদে পদে বাধা এসেছিল, তবুও থামিনি।" ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতার পালাবদলের পর কিছু কুচক্রী মহল তার বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার চেষ্টা চালালেও দিনশেষে তাদের সব ষড়যন্ত্রই পরাজিত হয় সত্যের কাছে, মানুষের কাছে।

শিক্ষা উন্নয়নে তার আলোকবর্তিকা
অবহেলিত ছনুয়ার শিক্ষায় আলোর দিশা দেখাতে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন আলহাজ্ব মৌলভী নজরুল ইসলামপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় এবং নিজ বাবা-মায়ের স্মৃতিকে ধারণ করে নির্মাণ করেন শরীফা–নজরুল মডেল মাদ্রাসা। চট্টগ্রাম শহরেও তিনি রেখে গেছেন শিক্ষার উজ্জ্বল ছাপ।  প্রতিষ্ঠা করেছেন প্রখ্যাত অরবিট ক্রেডিট স্কুল অ্যান্ড কলেজ। এছাড়াও শরীফা আর্ট স্কুল ও শরীফা সুন্দর হাতের লেখা শেখার স্কুল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বুনেছেন আগামী প্রজন্মের সৃজনশীল ভবিষ্যতের বীজ।

ছনুয়ার মানুষের আজকের ভাবনা
দীর্ঘদিন ধরে ছনুয়ার মানুষ ছিল দুটি পরিবারের প্রভাবের ছায়ায়, যার কারণে থমকে ছিল উন্নয়নের চাকা।
আজ তারা বদলে যাচ্ছে, জেগে উঠছে। পরিবর্তনের মশাল হাতে নিতে চাইছে। তাদের বিশ্বাস, দুই পরিবারের দীর্ঘদিনের ছায়া ভেঙে তৃতীয় এক আলোর পথিক হিসেবে এমরুল কায়েস ছাড়া বিকল্প নেই।


জন্ম, শিক্ষা ও কীর্তি
লায়ন মো. আমিরুল হক এমরুল কায়েস জন্ম নিয়েছেন ছনুয়ার আলহাজ্ব অলিমিয়া সিকদারপাড়ার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে। তিনি শুধু সমাজসেবক নন; উপমহাদেশজুড়ে খ্যাতি পাওয়া এক স্বনামধন্য ক্যালিগ্রাফার, যার শিল্পে মিশে আছে মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা, জন্মভূমির প্রতি অনন্ত দায়বদ্ধতা।
305 জন পড়েছেন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে বাঁশখালীতে উৎপাদিত চা পাতা