☰

বাঁশখালীর সড়কে ভাড়া নৈরাজ্য: তড়িৎ পদক্ষেপ গ্রহণ করুন

শনিবার, ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
বাঁশখালীর সড়কে ভাড়া নৈরাজ্য: তড়িৎ পদক্ষেপ গ্রহণ করুন ফাইল ছবি
সম্পাদকের কলাম>>
মইজ্জারটেক থেকে সিএনজি অটোরিকশায় যাত্রাকালে এক চালকের সঙ্গে কথোপকথনে উঠে আসে বাঁশখালীর দীর্ঘদিনের একটি বাস্তবতা—ভাড়া নৈরাজ্য। প্রশ্ন ছিল সহজ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তৈলারদ্বীপ সেতুতে টোল উঠে যাওয়ার পর এবং পথে পথে টোকেনের নামে চাঁদাবাজি বন্ধ হওয়ার পরও কেন সিএনজি ভাড়া কমেনি? উত্তরে চালক জানান, এটি ‘২০ বছরের পুরোনো ভাড়া’।

কিন্তু বাস্তবতা হলো—এই দাবি সত্য নয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জ্বালানি, যন্ত্রাংশ, জীবনযাত্রার ব্যয় যেমন বেড়েছে, তেমনি বহুবার ভাড়ার কাঠামোও পরিবর্তিত হয়েছে। ফলে “২০ বছরে ভাড়া বাড়েনি”— এই যুক্তি বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এটি মূলত যাত্রীদের প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার একটি কৌশলমাত্র।

পরিবর্তনের সুফল বাঁশখালীর জনগণ পেল না কেন?

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে নানা ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। সড়কে অবৈধ চাঁদাবাজি বন্ধ হয়েছে, টোল উঠে গেছে, চলাচলে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। স্বাভাবিকভাবেই আশা করা হয়েছিল, এসব পরিবর্তনের সুফল যাত্রীরা ভাড়ার ক্ষেত্রেও পাবেন। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। বরং দেখা যাচ্ছে, চালকরা পূর্বের মতোই উচ্চ ভাড়া আদায় করে চলেছেন। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে যাত্রীদের প্রতি কোনো ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশের পরিবর্তে তারা আগের অনৈতিক প্রথাই ধরে রেখেছেন।  বাঁশখালীর প্রধান সড়কে প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতি, শুক্র ও শনিবার ভাড়া দ্বিগুণ বা কখনো তিনগুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে নেওয়া একটি ‘অঘোষিত নিয়মে’ পরিণত হয়েছে। যাত্রীদের প্রতিবাদ করলে অনেক সময় তাদের অপমানিত ও হয়রানির শিকার হতে হয়।

বিশেষ করে ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা কিংবা বড় ধর্মীয় ও সামাজিক আয়োজনের সময় এই ভাড়া নৈরাজ্য ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। বর্তমানে কুম্ভ মেলা ও কুতুবদিয়ার মালেক শাহ হুজুরের ওরস উপলক্ষে হাজার হাজার মানুষের যাতায়াত চলছে। এই সুযোগে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে চারগুণ পর্যন্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য, এ বিষয়ে বাঁশখালী উপজেলা প্রশাসনের কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া নৈরাজ্য চললেও অসাধু চালকদের বিরুদ্ধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা খুব একটা চোখে পড়ে না। একইভাবে রাজনৈতিক নেতারাও এ বিষয়ে বরাবরই নীরব থেকেছেন। জনগণের দুর্ভোগের বিষয়টি রাজনৈতিক অগ্রাধিকারের তালিকায় কখনোই গুরুত্ব পায়নি। ফলে এই অনিয়ম প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আগামী দিনে বাঁশখালীতে মানুষের যাতায়াত আরও বাড়বে। এই পরিস্থিতিতে ভাড়া নৈরাজ্য যদি নিয়ন্ত্রণে না আসে, তাহলে যাত্রীদের দুর্ভোগ বহুগুণে বাড়বে। ইতোমধ্যেই চালকরা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের সুযোগ খুঁজে বসে আছে—এমন আশঙ্কা অমূলক নয়।

করণীয় কী?

এই সংকট থেকে উত্তরণে কয়েকটি জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন—
১. প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট ভাড়ার তালিকা প্রকাশ ও প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা।

২. নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা।

৩. অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।

৪. যাত্রী অভিযোগ গ্রহণের জন্য হটলাইন বা অভিযোগ কেন্দ্র চালু করা।

৫. চালক ও মালিক সমিতির সঙ্গে সমন্বয় করে ন্যায়সংগত ভাড়া কাঠামো নির্ধারণ করা।

মোদ্দা কথা,  বাঁশখালীর মানুষ আজ শুধু সরু সড়ক নয়, ভাড়া নৈরাজ্যের দ্বিগুণ যন্ত্রণায় জর্জরিত। একটি অঞ্চলের উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো দিয়ে হয় না; নাগরিক সেবায় ন্যায়বিচার ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। অতএব, এখনই সময় প্রশাসনের দৃঢ় ভূমিকা নেওয়ার। অন্যথায়, এই ভাড়া নৈরাজ্য আরও গভীর সামাজিক বৈষম্য ও জনঅসন্তোষের জন্ম দেবে। বাঁশখালীর মানুষ আর জিম্মি থাকতে চায় না—তারা চায় ন্যায্য ভাড়া, সম্মানজনক যাত্রা এবং দায়িত্বশীল প্রশাসন।

মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন
সম্পাদক,  বাঁশখালী টুডে।
belaluddinctg2002@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৬১০৯২৪০৮৭
444 জন পড়েছেন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে বাঁশখালীতে উৎপাদিত চা পাতা