- নিজস্ব প্রতিবেদক, বাঁশখালী টুডে>> বাঁশখালীতে রাতের আঁধারে অবৈধভাবে দখল হওয়া এক বীর মুক্তিযোদ্ধার মার্কেট স্থানীয় ব্যবসায়ী ও জনতার সহায়তায় পুনরায় দখলমুক্ত করা হয়েছে। খবর পেয়ে বাঁশখালী থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দুইজনকে আটক করে। এ ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখায় স্থানীয় প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন সাধারণ ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী। মার্কেটটি পুনরায় ফিরে পাওয়া এবং এলাকায় শান্তি ফিরে আসায় ব্যবসায়ী মহলে স্বস্তি নেমে এসেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে পুঁইছড়ি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা সুলতানুল গণি চৌধুরী ওরফে লেদু মিয়ার দুই তলাবিশিষ্ট মার্কেটের কার্যালয়, দোকান ও বোর্ডিং জোরপূর্বক দখল করে টিনের ঘেরা দেয় রশিদ আহমদ ও তাঁর লোকজন। এ ঘটনার পর থেকে উভয় পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা দেখা দেয় এবং রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়। এতে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দেয়।
অবশেষে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাঁশখালী থানার কর্মকর্তা ইনচার্জ (ওসি) মো. রবিউল হকের নেতৃত্বে পুলিশি অভিযান পরিচালনা করা হয়। স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও ঐক্যবদ্ধ হয়ে দখলদারদের উচ্ছেদ করে প্রকৃত ব্যবসায়ীদের হাতে দোকানপাট ও ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ ফিরিয়ে দেন। দখলমুক্ত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় স্বস্তি নেমে আসে।
অভিযোগ রয়েছে, রিফাত নামের সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ও গিয়াস উদ্দিন গত বৃহস্পতিবার ভবনটির সামনে টিন দিয়ে ঘেরাও করে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে দখল করে নেয়। রিফাত চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল্লাহ কবির লিটনের অনুসারী। গিয়াস উদ্দিন নিজেকে ছাত্রদল নেতা পরিচয় দিলেও তার ফেসবুক আইডিতে বিএনপি বিরোধী বিভিন্ন স্ট্যাটাস দেখা যায়। গিয়াস উদ্দিনের ফেসবুক আইডিতে দেখা যায়, তিনি রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম ব্যাঙ্গ করে ‘ফাক-রুল’ নাম দিয়ে স্ট্যাটাস দেন এবং মির্জা আব্বাসকে নিয়ে বিরুপ মন্তব্য করেন।
ঘটনাস্থল থেকে খোরশেদ ও বোরহান নামে দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সোমবার মার্কেটের তত্ত্বাবধায়ক (কেয়ারটেকার) মিজানুর রহমান কাজল বাদী হয়ে ৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা বেশ কয়েকজনকে আসামি করে বাঁশখালী থানায় মামলা করেছেন।
পুঁইছড়ি ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. সাদ্দাম হোসেন মানিক জানান, উচ্ছেদ অভিযানের সময় পুলিশের কঠোর অবস্থান ও জনরোষ থেকে বাঁচতে অবৈধ দখলদারেরা ভবনের জানালা দিয়ে পালিয়ে যায়।
বাঁশখালী থানার ওসি মো. রবিউল হক বলেন, ‘দোকানপাট দখল ও টিনের ঘেরা দেওয়ার বিষয়টি জানতে পেরে কোনো প্রকার সংঘাত ছাড়াই সমাধানের চেষ্টা করা হয়। পরে পুলিশের বিশেষ ফোর্স ঘটনাস্থলে পৌঁছে উচ্ছেদ পরিচালনা করে আগের মালিকদের জায়গা বুঝিয়ে দেয়। এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন বলেন, ঘটনাটি জানার পরপরই উপজেলা প্রশাসন তা গুরুত্বের সঙ্গে নেয়। তবে কোনো অবস্থাতেই আইন নিজেদের হাতে তুলে নেওয়া উচিত নয়। প্রশাসন সব অপশক্তির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে কাজ করছে। পুলিশকে বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’