নিজস্ব প্রতিবেদক, বাঁশখালী টুডে:
আজান, ইমামতি আর কোরআনের সুরে যে মানুষটি দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে আলোকিত করে এসেছেন একটি মসজিদের প্রাঙ্গণ, সেই মানুষটিকেই পাওয়া গেল নিথর, ঝুলন্ত অবস্থায়। সীতাকুণ্ডের সোনাইছড়ি ইউনিয়নের বাংলাবাজার এলাকার রাজা মিয়া সওদাগর জামে মসজিদে যেন নেমে এসেছে এক গভীর শোকের ছায়া।
মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে মসজিদের দোতলা থেকে উদ্ধার করা হয় ইমাম মো. আমির হোসেনের (৪৩) ঝুলন্ত মরদেহ। তাঁর বাড়ি চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার সরল ইউনিয়নের মিনজীরিতলা গ্রামে। দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে তিনি ওই মসজিদে ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। মসজিদের দোতলার একটি ছোট কক্ষই ছিল তাঁর বসবাসের ঠিকানা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বিকেলে আসরের নামাজে ইমামতি করেছিলেন তিনি। তখনও কেউ বুঝতে পারেনি, সেটিই হয়তো তাঁর জীবনের শেষ ইমামতি। মাগরিবের সময় মুসল্লিরা এসে দেখেন মসজিদের দরজায় তালা। ভেবেছিলেন, হয়তো কোনো প্রয়োজনে বাইরে গেছেন ইমাম সাহেব। কিন্তু এশার নামাজের সময়ও একই দৃশ্য দেখে উদ্বেগ বাড়তে থাকে।
অবশেষে সন্দেহের বশে কয়েকজন মুসল্লি দোতলার জানালা দিয়ে উঁকি দেন। আর তখনই চোখে পড়ে হৃদয়বিদারক দৃশ্য—সিলিং ফ্যানের হুকের সঙ্গে ঝুলছে প্রিয় ইমামের নিথর দেহ। মুহূর্তেই নেমে আসে শোক আর স্তব্ধতার আবরণ।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইফতেখার আহমেদ জানান, সবুজ রঙের একটি কাপড় গলায় প্যাঁচানো অবস্থায় তাঁর ঝুলন্ত মরদেহ পাওয়া যায়। নিচে একটি মই পড়ে ছিল। পাশাপাশি তাঁর কক্ষ থেকে একটি চিরকুটও উদ্ধার করা হয়েছে। সেখানে পারিবারিক কলহসংক্রান্ত কিছু কথা লেখা রয়েছে বলে জানা গেছে।
যে মানুষটি প্রতিদিন মানুষকে ধৈর্য, আশা ও আলোর পথের কথা শোনাতেন, তাঁর এমন বিদায়ে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে বিষাদের ছায়া। মসজিদের মিনার আজও দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু সেই পরিচিত কণ্ঠস্বর আর শোনা যাবে না—এমন বাস্তবতা যেন মেনে নিতে পারছেন না স্থানীয় মুসল্লিরা।