☰

মোস্তাফিজের সঙ্গে রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে আলোচিত লিয়াকত আলীর ছেলে এবার উপজেলা নির্বাচনে

শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬
মোস্তাফিজের সঙ্গে রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে আলোচিত লিয়াকত আলীর ছেলে এবার উপজেলা নির্বাচনে ফাইল ছবি
নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাঁশখালীতে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক সংগ্রাম ও প্রতিকূলতার প্রতীক হিসেবে পরিচিত লিয়াকত আলী তালুকদার আবারও আলোচনায়। তবে এবার তার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক লড়াই নয়, বরং তার উত্তরসূরির মাধ্যমে। আসন্ন বাঁশখালী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তার জ্যেষ্ঠ পুত্র আমীর মো. মাশরুহুল আলী (বাবর)।

লিয়াকত আলী তালুকদার স্থানীয় রাজনীতিতে এক সংগ্রামী চরিত্র হিসেবে পরিচিত। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি সরল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও নানা বাধা-বিপত্তির কারণে নিজের ভোটটিও কেন্দ্রে গিয়ে দিতে পারেননি। তার অভিযোগ, তৎকালীন সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর প্রভাববলয়ে পড়ে তিনি বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ওই নির্বাচনে মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী তার চাচা রশিদ আহমদ চৌধুরীকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী করতে সক্রিয় ছিলেন। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ২০১৭ সালের ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী জাফর আহমদ মনোনয়নপত্র জমা দিতে যাওয়ার পথে অপহরণের শিকার হন বলে অভিযোগ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতেও লিয়াকত আলী তালুকদার নিজের অবস্থান ধরে রাখেন এবং প্রতিকূলতার মধ্যেও রাজনৈতিকভাবে টিকে থাকার চেষ্টা চালিয়ে যান। ২০২২ সালের ইউপি নির্বাচনে লিয়াকত আলী তালুকদার সকাল ১০টায় নির্বাচন বর্জন করেন এবং একতরফা ভাবে জিতে যান সাবেক এমপি মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর চাচা রশিদ আহমদ চৌধুরী।

পরবর্তীতে ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর সরল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী তালুকদার আইনি প্রতিকার চেয়ে মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীসহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালতে মামলাও দায়ের করেন, যা তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধকে নতুন মাত্রা দেয়। এই পটভূমিতে তার ছেলে বাবরের প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাবর পেশায় একজন ব্যবসায়ী এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত একজন নীরব সমাজসেবক হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকে তিনি দীর্ঘদিন ধরে অসহায় মানুষের পাশে কাজ করে যাচ্ছেন বলে স্থানীয়রা জানান।

বিশ্লেষকদের মতে, বাবরের প্রার্থিতা কেবল একটি পারিবারিক রাজনৈতিক ধারাবাহিকতা নয়, বরং এটি বাঁশখালীর রাজনীতিতে একটি বিকল্প ধারার ইঙ্গিতও বহন করছে। বিশেষ করে তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত নন; এমন ঘোষণা তাকে দলীয় রাজনীতির বাইরে একটি “সবার প্রার্থী” হিসেবে তুলে ধরার কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে বাবর বাঁশখালী টুডেকে বলেন, ‘আমি কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত নই। এলাকার সেবা করার ইচ্ছে থাকলে রাজনীতির বাইরেও তা সম্ভব। দলমত নির্বিশেষে সকলের সমর্থন নিয়ে বাঁশখালীকে একটি আধুনিক, উন্নত ও পর্যটনসমৃদ্ধ উপজেলায় রূপান্তর করতে চাই।
1155 জন পড়েছেন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে বাঁশখালীতে উৎপাদিত চা পাতা