সম্পাদকের কলাম>>
পবিত্র ঈদুল ফিতর মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। এই উৎসবকে ঘিরে মানুষ পরিবার-পরিজনের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে নিজ নিজ বাড়িতে ছুটে যান। কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, ঈদকে কেন্দ্র করে কিছু অসাধু পরিবহনচালক ও সংশ্লিষ্ট মহলের কারণে যাত্রীদের জন্য এই আনন্দের যাত্রা অনেক সময়ই হয়ে ওঠে দুর্ভোগের।
চট্টগ্রাম থেকে বাঁশখালী হয়ে পিএবি সড়কে চলাচলকারী সিএনজি অটোরিকশা ও বাসের ক্ষেত্রে প্রতি বছর ঈদ এলেই দেখা যায় ভাড়া নৈরাজ্য। নতুন ব্রীজ থেকে বাঁশখালীর জলদি পর্যন্ত জনপ্রতি ৪০০-৫০০ টাকা “উঠানামা” ভাড়া নেওয়ার একটি অস্বাভাবিক সংস্কৃতি বছরের পর বছর ধরে চলে আসছে।
সাধারণ সময়ে যে ভাড়া অনেক কম, ঈদের সময় সেটি তিন থেকে চার গুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়া হয়। অথচ এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়ে না। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে যাত্রীরা প্রতিবাদ করলেও তারা প্রায়ই অসহায় হয়ে পড়েন। কারণ বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থা সীমিত, আর ঈদের সময় মানুষের যাতায়াতের চাপ থাকে বেশি। ফলে বাধ্য হয়েই অনেক যাত্রী গলাকাটা ভাড়া দিয়ে যাতায়াত করেন। এতে করে ঈদযাত্রা হয়ে ওঠে স্বস্তির বদলে দুশ্চিন্তার।
একটি সভ্য সমাজে এ ধরনের ভাড়া নৈরাজ্য কোনোভাবেই কাম্য নয়। পরিবহন খাতের শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা এবং যাত্রীদের অধিকার রক্ষা করা প্রশাসনের দায়িত্ব। তাই আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে এখনই কঠোর নজরদারি ও ভ্রাম্যমাণ অভিযান জোরদার করা জরুরি। নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা কার্যকর করা, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়কারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া এবং যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাত্রা নিশ্চিত করা সময়ের দাবি।
ঈদ আনন্দের উৎসব। এই আনন্দকে কোনোভাবেই ভাড়া নৈরাজ্যের কারণে ম্লান হতে দেওয়া যায় না। তাই বাঁশখালীবাসীর প্রত্যাশা—উঠানামা ৪০০-৫০০ টাকার এই অযৌক্তিক সংস্কৃতির অবসান ঘটুক এবং এবারের ঈদযাত্রা হোক স্বস্তির।
মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন
সম্পাদক ও প্রকাশক, বাঁশখালী টুডে।
belaluddinctg2002@gmail.com