নিজস্ব প্রতিবেদক, বাঁশখালী টুডে>>
প্রতিদিনের মতো মাছের পোনা আহরণ করতে বাবার হাত ধরে সাগরের চরে গিয়েছিল সাকিবুল হাসান (১০)। কিন্তু কে জানত, বাবার সঙ্গে এই যাওয়াই হবে তার জীবনের শেষ যাত্রা! মাছের পোনা ধরতে গিয়ে আর বাড়ি ফেরা হলো না চতুর্থ শ্রেণির এই শিক্ষার্থীর।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে বাঁশখালীর ছনুয়া ইউনিয়নের মনুমিয়াজী ঘাটের উত্তর পাশে মর্মান্তিক এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সাকিবুল হাসান ছনুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে ছনুয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের শুকলালপাড়ার মোহাম্মদ হোছাইনের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো রবিবার সকালেও বাবার সঙ্গে জোয়ারের পানিতে সাগরের চরে মাছের রেণু আহরণ করতে যায় সাকিব। বাবা মোহাম্মদ হোছাইন, চাচাসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা চরে নেট জাল বসিয়ে বাগদা ও গলদা চিংড়ির পোনা আহরণে ব্যস্ত ছিলেন। এরই মধ্যে সবার অগোচরে সাগরের স্রোতে তলিয়ে যায় সাকিব। পরে অনেক খোঁজাখুঁজির পর ঘটনাস্থল থেকে সাকিবের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ছনুয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মোহাম্মদ কালু বলেন, ‘ছেলেটি মৃগী রোগী ছিল বলে শুনেছি। প্রতিদিন বাবার সঙ্গে মাছ ধরতে যেত। আজ হঠাৎ করেই এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে গেল।’
ছনুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘সাকিবুল হাসান আমার বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র ছিল। একটি সম্ভাবনাময় জীবনের এভাবে অকালে ঝরে যাওয়া অত্যন্ত বেদনাদায়ক।’