নিজস্ব প্রতিবেদক:
জাতীয় সংসদের আজকের (২৬ এপ্রিল) বৈঠকে লিখিত উত্তরদানের জন্য প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশগ্রহণ করে সড়ক, পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর কাছে আনোয়ারা-বাঁশখালী-পেকুয়া-চকরিয়া সড়ক প্রশস্থকরণ প্রকল্প কবে নাগাদ অনুমোদন হবে তা জানতে চান চট্টগ্রাম ১৬ (বাঁশখালী) আসনের সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা জহিরুল ইসলাম এমপি।
বাঁশখালীর সংসদ সদস্যের প্রশ্নের লিখিত উত্তরে সড়ক, পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী জনাব শেখ রবিউল আলম জানান, প্রকল্পটির মূল্যায়ন (পিইসি) কমিটির সভা ইতিমধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুমোদনের জন্য প্রকল্পটি একনেক সভায় উপস্থাপন কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
অধ্যক্ষ মাওলানা জহিরুল ইসলাম আশা প্রকাশ করেন, আগামী একনেক সভায় বাঁশখালীর মানুষের বহুল প্রত্যাশিত এই প্রকল্পটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অনুমোদন দিবেন এবং অনুমোদন শেষে দ্রুত সময়েই এই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে।
এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো টানেলে যানবাহনের চলাচল বৃদ্ধি করা, দক্ষিণ চট্টগ্রামে ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারিত করা, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি করা এবং কক্সবাজার পর্যন্ত একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা। এই লক্ষ্যে, টানেল সড়ক থেকে কক্সবাজারের প্রধান সড়ক পর্যন্ত ৫৬ কিলোমিটার টইটং সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিন্তু প্রায় এক বছর ধরে প্রকল্পটি মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় আটকে আছে। এই কারণে টানেলের ব্যবহার এবং দক্ষিণ চট্টগ্রামের সড়ক ব্যবস্থার উন্নতি ব্যাহত হচ্ছে।
এই বৃহৎ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে টানেল হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত অর্থনৈতিক উন্নয়নের সম্ভাবনা আরও বাড়বে। এছাড়াও, এটি চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের একটি বিকল্প পথ হিসেবে কাজ করবে, যা যাত্রী সুবিধা বৃদ্ধি করবে এবং চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে আনবে।
এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ চট্টগ্রামের আনোয়ারা, বাঁশখালী, চকরিয়া এবং কক্সবাজারের সাথে সড়ক যোগাযোগে একটি বড় পরিবর্তন আসবে। এতে লক্ষ লক্ষ মানুষ উপকৃত হবে, টানেলের ব্যবহার বাড়বে এবং টোল আদায়ের মাধ্যমে কর্তৃপক্ষের লোকসানও কমবে।
সড়ক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, টানেলের সাথে সংযোগকারী সড়ক নেটওয়ার্ক উন্নয়নের জন্য এই মেগা প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন ও অনুমোদনের জন্য চলতি বছরের জানুয়ারিতে সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে এটি এখনও অনুমোদন পায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পিএবি-টইটং সড়কের আনোয়ারা কালা বিবি দীঘির মোড় থেকে বাঁশখালীর চাঁনপুর বাজার পর্যন্ত ১০০ ফুট জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু চাঁনপুর বাজার থেকে চকরিয়া পর্যন্ত সড়কটি মাত্র ১৮ ফুট প্রশস্ত, যা যান চলাচলের জন্য যথেষ্ট নয়। এর ফলে এই সড়কে প্রায়ই যানজট ও দুর্ঘটনা ঘটে।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা জানান, প্রকল্পটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। এটি বাস্তবায়িত হলে সড়কের যানজট ও দুর্ঘটনা কমবে এবং লক্ষ লক্ষ মানুষ উপকৃত হবে। এছাড়াও, এটি কক্সবাজারের সাথে চট্টগ্রামের একটি বিকল্প সড়ক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।