নিজস্ব প্রতিবেদক, বাঁশখালী টুডে>>
“বাঁশখালী শুধু একটি উপজেলার নাম নয়, এটি সাত লক্ষাধিক মানুষের আবেগ, আত্মমর্যাদা ও ভালোবাসার ঠিকানা”-এমন মন্তব্য করে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বাঁশখালীর সন্তানদের সবচেয়ে বেশি অবদান ছিল বলে দাবি করেছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মফিজুর রহমান আশিক।
চট্টগ্রামের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের বাঁশখালীর ছেলেদের নিয়ে করা কটূক্তির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, একটি জনপদের কিছু মানুষের কর্মকাণ্ডের দায় কোনোভাবেই পুরো এলাকার মানুষের কাঁধে চাপানো যায় না।
বাঁশখালী-সমুদ্রের নীল জলরাশি আর পাহাড়ের সবুজ ছায়ায় ঘেরা এক বৈচিত্র্যময় জনপদ। এই মাটির মানুষের পরিচয় শুধু ভৌগোলিক সীমানায় নয়; উদারতা, সরলতা, আন্তরিকতা ও অতিথিপরায়ণতায়ও। বাংলাদেশের অন্য সব এলাকার মতো এখানেও ভালো-মন্দ মিলিয়েই মানুষের বসবাস। তাই দু-একজনের অপরাধ কিংবা কর্মকাণ্ড দিয়ে একটি বিশাল জনপদের লাখো মানুষকে বিচার করা যেমন অন্যায়, তেমনি তা মানুষের আত্মমর্যাদাকেও আঘাত করে।
মফিজুর রহমান আশিক বলেন, বাঁশখালীর মানুষকে ঢালাওভাবে “সবচেয়ে বেশি সন্ত্রাসী” হিসেবে আখ্যায়িত করা শুধু দুঃখজনক নয়, এটি নিন্দনীয় ও অপমানজনক। বিশেষ করে একজন জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে এমন মন্তব্য কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়।
তিনি বলেন, এই মাটির অসংখ্য সন্তান দেশ-বিদেশে নিজেদের মেধা, যোগ্যতা, সততা ও কর্মদক্ষতার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। দেশের শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাঁশখালীর সন্তানেরা কৃতিত্বের সঙ্গে পড়াশোনা করছেন। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন অনেকে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাঁশখালীর বহু কৃতী সন্তান বাংলাদেশের পতাকাকে সম্মানের সঙ্গে তুলে ধরছেন।
সীমান্তের ওপারে কিংবা সাগরপাড়ের প্রবাসজীবনেও বাঁশখালীর সন্তানেরা সংগ্রামের গল্প লিখছেন প্রতিদিন। ঘাম ঝরিয়ে, আপনজন থেকে দূরে থেকে তাঁরা দেশে পাঠাচ্ছেন বিপুল পরিমাণ রেমিট্যান্স। তাঁদের শ্রম, মেধা ও ত্যাগের প্রতিটি বিন্দু বাংলাদেশের অর্থনীতির ভিতকে আরও শক্ত করছে।
মফিজুর রহমান আশিক আরও বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বাঁশখালীর অসংখ্য সন্তান হামলা, মামলা, নির্যাতন, জেল-জুলুম ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানেও বাঁশখালীর বহু সন্তান জীবন বাজি রেখে রাজপথে নেমেছিলেন। ভয়কে জয় করে আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিয়ে তাঁরা স্বৈরাচারী শাসনের পতন ত্বরান্বিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
“যে মাটির সন্তান অন্যায়ের বিরুদ্ধে বুক পেতে রাজপথে দাঁড়িয়েছে, যে মাটির সন্তান দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে প্রবাসে ঘাম ঝরিয়েছে, যে মাটির সন্তান শিক্ষা, প্রশাসন, পেশা ও কর্মক্ষেত্রে দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছে-সেই বাঁশখালীর সন্তানদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করার সুযোগ নেই,” বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, কোনো একটি এলাকার মানুষকে একটি অপমানজনক বিশেষণে চিহ্নিত করা শুধু ব্যক্তিকে নয়, অপমান করে একটি জনপদের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও মানুষের আত্মপরিচয়কে।
ডা. শাহাদাত হোসেনের বক্তব্যে বাঁশখালীর অসংখ্য সন্তান গভীরভাবে মর্মাহত ও অপমানিত হয়েছেন উল্লেখ করে মফিজুর রহমান আশিক বলেন, “আমরা বাঁশখালীর সন্তানদের পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি আহ্বান জানাই—তিনি যেন তাঁর বক্তব্যের জন্য নিঃশর্ত ও আন্তরিকভাবে ক্ষমা চান এবং ভবিষ্যতে কোনো একটি এলাকার মানুষকে নিয়ে এমন ঢালাও ও অবমাননাকর মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকেন।”
তিনি বলেন, বাঁশখালীর মানুষ সম্মান দিতে জানে, অতিথিকে আপন করে নিতে জানে, আবার দেশের প্রয়োজনে ত্যাগ স্বীকার করতেও জানে। একজন কিংবা কয়েকজন ব্যক্তির অপরাধ দিয়ে পুরো বাঁশখালীকে বিচার করা কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
“বাঁশখালী কোনো অপমানের নাম নয়-এটি সংগ্রামের নাম, সম্ভাবনার নাম, আত্মমর্যাদার নাম। এই জনপদের মানুষের সম্মান ও আত্মপরিচয়ের বিরুদ্ধে অবমাননাকর কোনো বক্তব্যের প্রতিবাদ আগামীতেও অব্যাহত থাকবে”—বলেন মফিজুর রহমান আশিক।