নিজস্ব প্রতিবেদক, বাঁশখালী টুডে: রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক মামলায় স্বামী লায়ন আমিরুল হক এমরুল কায়েস কারাগারে যাওয়ার ১৫ দিন অতিবাহিত হতে চলেছে। কিন্তু সেই অনুপস্থিতি মানবিক দায়িত্ববোধকে থামিয়ে দিতে পারেনি। মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে সপ্তাহব্যাপী প্লাবিত ছনুয়ার মানুষের দুঃসময়জুড়ে খোঁজখবর নিয়েছেন তাঁর সহধর্মিণী, অধ্যক্ষ জেসমিন সোলতানা রিভা। নীরবে, নিভৃতে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যে প্রশংসা কুড়িয়েছে। তিনি ছনুয়া ব্লাড ব্যাংক নামের একটি সংগঠনকে নগদ টাকা দিয়েছেন বন্যা কবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য। এছাড়াও অসহায় মানুষকে ফোন করে নগদ অর্থ সহায়তা দিয়েছেন জেসমিন সোলতানা রিভা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, চলমান বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহযোগিতায় তিনি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ছনুয়া ব্লাড ব্যাংক-এর সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়ে খোঁজখবর নেন এবং দুর্গত মানুষের পাশে থাকার আন্তরিকতা প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে ছনুয়া ব্লাড ব্যাংকের মুখপাত্র কাজী মুহিব উল্লাহ বলেন, "একজন মানুষকে অন্যায়ভাবে বন্দি করা যেতে পারে, কিন্তু তাঁর আদর্শ, মানবিকতা আর মানুষের প্রতি ভালোবাসাকে কখনো বন্দি করা যায় না।"
তিনি আরও বলেন, "লায়ন আমিরুল হক এমরুল কায়েস একজন ভদ্র, সচেতন, শিক্ষিত, জনবান্ধব ও পরোপকারী মানুষ। তিনি শুধু নিজেই মানবসেবায় নিয়োজিত ছিলেন না, তাঁর পুরো পরিবারকেও সেই মানবিক আদর্শে গড়ে তুলেছেন। আজ তিনি কারাগারে থাকলেও তাঁর পরিবারের সেই মানবিক চর্চা থেমে নেই। তাঁর সহধর্মিণী নিজ উদ্যোগে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বানভাসি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছেন। দূরে থেকেও তিনি ছনুয়ার মানুষের খোঁজখবর রেখেছেন।"
স্থানীয়দের ভাষ্য, মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা কোনো প্রাচীর মানে না। কারাগারের দেয়াল একজন মানুষকে আটকে রাখতে পারে, কিন্তু তাঁর আদর্শ ও মানবিক চেতনা পরিবার-পরিজনের মাধ্যমে সমাজে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। সেই বাস্তবতারই যেন আরেকটি প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছেন অধ্যক্ষ জেসমিন সোলতানা রিভা।
ছনুয়ার অনেকেই বলেন, লায়ন আমিরুল হক এমরুল কায়েস মুক্ত থাকলে দুর্যোগের শুরু থেকেই দুর্গত মানুষের পাশে ছুটে যেতেন। কারণ মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানোই ছিল তাঁর দীর্ঘদিনের পরিচয় ও সামাজিক অঙ্গীকার। বন্যার এই দুর্যোগে তাঁর পরিবারের মানবিক উদ্যোগ নতুন করে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে—সত্যিকারের মানবসেবা কোনো ব্যক্তি বা অবস্থানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি একটি আদর্শ, যা প্রতিকূল সময়েও মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকে।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক মামলায় চট্টগ্রামের স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অরবিট ক্রেডিট স্কুল অ্যান্ড কলেজ, শরীফা আর্ট স্কুল, শরীফা সুন্দর লেখা শেখার স্কুল, ছনুয়া মৌলভী নজরুল ইসলামপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়, ছনুয়া শরীফা-নজরুল মডেল মাদ্রাসা এবং শরীফা প্রকাশনীর প্রতিষ্ঠাতা লায়ন মো. আমিরুল হক এমরুল কায়েসের গ্রেপ্তারের ঘটনায় প্রতিবাদ জোরালো হচ্ছে।
তাকে গ্রেপ্তারের পর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রায় এক হাজার মানুষ প্রতিবাদ জানিয়ে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। অনেকে বলছেন, এ ঘটনার মাধ্যমে সমাজসেবক এমরুল কায়েসের জনপ্রিয়তা দ্বিগুণ হয়েছে। জামায়াত, বিএনপি, এনসিপি নেতা ও সর্বস্তরের মানুষ তার মুক্তির দাবিতে এককাট্টা।
ইউপি নির্বাচনের আগে ষড়যন্ত্র
অক্টোবর থেকে শুরু হচ্ছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। স্থানীয় বিএনপির এক নেতা এমরুল কায়েসকে প্রতিপক্ষ মনে করে রাজনৈতিক ট্যাগ লাগিয়ে মামলায় নাম জড়িয়ে দিয়েছে; এমনটি অভিযোগ তার পরিবারের। কারণ, এমরুল কায়েস আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সম্ভাবনা রয়েছে।
এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক কাজ করার কারণে এমরুল কায়েসের জনপ্রিয়তা আকাশছোঁয়া। তার এই জনপ্রিয়তা কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। জনপ্রিয়তার কারণে তার নাম এই মামলায় জড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
পরিবারের খোঁজ নিলেন বাঁশখালীর এমপি
এদিকে ছনুয়ার উন্নয়নের কান্ডারী লায়ন মো. আমিরুল হক এমরুল কায়েস এর পরিবারের খোঁজ নিয়েছেন চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা জহিরুল ইসলাম। এমরুল কায়েসের সহধর্মিণী অধ্যক্ষ জেসমিন সোলতানা রিভাকে ফোন করে তিনি খোঁজখবর নেন এবং শান্তনা দেন।
এ বিষয়ে অধ্যক্ষ জেসমিন সোলতানা রিভা বলেন, ওনি একজন এমপি মানুষ। নিজ থেকে ফোন করে আমার স্বামীর খোঁজখবর নিয়েছেন। এই বিপদে আমাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন। এই জন্য আমি উনার কাছে কৃতজ্ঞ।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিন্দার ঝড়, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার স্ট্যাটাস
চট্টগ্রামের স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অরবিট ক্রেডিট স্কুল অ্যান্ড কলেজ, শরীফা আর্ট স্কুল, শরীফা সুন্দর লেখা শেখার স্কুল, ছনুয়া মৌলভী নজরুল ইসলামপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়, ছনুয়া শরীফা-নজরুল মডেল মাদ্রাসা এবং শরীফা প্রকাশনীর প্রতিষ্ঠাতা লায়ন মো. আমিরুল হকের গ্রেপ্তারের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
ছনুয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি আবদুল্লাহ আল মামুন ফয়সাল ফেসবুকে লিখেছেন, যে দেশে গুণীজনের সমাদর নেই সে দেশে গুণী জন্মায় না, নিঃসন্দেহে একজন সাদা মনের মানুষ, নির- অহংকার, পরোপকারী, একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা, শিক্ষাবিদ, ইমরুল কায়েস ভাইয়ের অযৌক্তিক গ্রেপ্তারে তীব্র নিন্দা ও নিঃশর্ত মুক্তি চাই।
ছনুয়া ইউনিয়ন জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কফিল উদ্দিন লিখেছেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলে তাঁদের পরিবার চরম নির্যাতনের শিকার হলে অনেকেই মুখ ফিরিয়ে নিলেও লায়ন আমিরুল হক (ইমরুল কায়েস) নিয়মিত খোঁজখবর নিয়েছেন এবং সাহস জুগিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ইমরুল কায়েস একজন শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক, যিনি শিক্ষা বিস্তার ও মানুষের কল্যাণে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছেন। তাঁর বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ন্যায়বিচার নিশ্চিতের মাধ্যমে দ্রুত নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান এবং তাঁর জন্য দোয়া কামনা করেন।
সাবেক শিবির নেতা কাজী মুহিব উল্লাহ লিখেছেন, “ইমরুল কায়েস ভাইয়ের নিঃশর্ত মুক্তি চাই। তিনি একজন শিক্ষিত, মার্জিত, নিরহংকার ও স্বেচ্ছাসেবী মানুষ। দল-মত নির্বিশেষে একজন ভালো মানুষের পক্ষে সবাইকে দাঁড়ানো উচিত।”
একুশে ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা শামিম উল্লাহ আদিল লিখেছেন, “তিনি একজন সমাজসেবী, শিক্ষানুরাগী ও মানবিক মানুষ। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে ছবি থাকলেই কেউ অপরাধী হয়ে যায় না। জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত একটি মহল তাকে হয়রানির চেষ্টা করছে। আমি তার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছি।”
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমন্বয়কারী সদস্য শাহেদুল আলম সিকদার তার ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে লিখেছেন, “আমিরুল হক একজন শিক্ষিত, মার্জিত, নিরহংকার ও পরোপকারী মানুষ। দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে একজন ভালো মানুষের পক্ষে কথা বলা আমাদের দায়িত্ব। তার বিরুদ্ধে অন্যায় হলে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা উচিত।”
কুয়েত প্রবাসী নাসির উদ্দীন লিখেছেন, “আমির ভাইয়ের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে আমার ধারণা রয়েছে। আমার জানা মতে, তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না। তিনি একজন পরোপকারী মানুষ এবং এলাকার উন্নয়নে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। আমি তার মুক্তি দাবি করছি।”
পুঁইছড়ি ইউনিয়নের সমাজসেবক রোটারিয়ান মুবিনুল হক মুবিন লিখেছেন, “ইমরুল কায়েস আমার নিকট আত্মীয়। তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির গোল্ড মেডেলপ্রাপ্ত, জাতীয়ভাবে স্বীকৃত একজন অঙ্কনশিল্পী এবং ইসলামি ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের ইসলামিক ক্যালিগ্রাফির অন্যতম শিল্পী। তিনি অরবিট স্কুল অ্যান্ড কলেজের কর্ণধার এবং ‘শরীফা আর্ট’-এর প্রণেতা। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা, সমাজসেবা ও ছনুয়ার মানুষের উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে আসছেন। রাজনৈতিক মতভেদ ভুলে সবার সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোই ছিল তাঁর পরিচয়। আজ তিনি কারাগারে। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হোক, সত্য উদঘাটিত হোক। একই সঙ্গে তাঁর প্রতি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে দ্রুত মুক্তির দাবি জানাচ্ছি।”
গ্রেপ্তার হলেন যেভাবে
এর আগে, শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে চান্দগাঁও থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল সাদা পোশাকে জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা এলাকা থেকে লায়ন মো. আমিরুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে চান্দগাঁও থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলার ৮৪ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সাবেক চেয়ারম্যানের ষড়যন্ত্র, এজাহারে নাম নিয়ে প্রশ্ন
এদিকে, আমিরুল হকের পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না। বরং দীর্ঘদিন ধরে অরাজনৈতিক ও সেবামূলক সংগঠন ছনুয়া উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি হিসেবে এলাকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কারণে এক বিএনপি নেতা তার প্রতি ক্ষুব্ধ ছিলেন। তাদের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই তাকে আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট হিসেবে মামলায় জড়ানো হয়েছে।
এছাড়া মামলার এজাহারে ‘মো. ইমরুল কায়েস’ নাম উল্লেখ থাকলেও জাতীয় পরিচয়পত্রে তার নাম ‘মো. আমিরুল হক’ বলে দাবি করেছেন স্বজনরা। বিষয়টি নিয়েও এলাকায় নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
জামিন নামঞ্জুর, কারাগারে প্রেরণ
রোববার (৫ জুলাই) চট্টগ্রাম চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১-এ তার পক্ষে জামিন আবেদন করা হলে আদালত তা নামঞ্জুর করেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
আমিরুল হকের স্ত্রী অধ্যক্ষ জেসমিন সোলতানা রিভা বলেন, “আমার স্বামী কখনো রাজনীতি করেননি। তিনি মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন। আমরা ন্যায়বিচার চাই এবং প্রয়োজন হলে উচ্চ আদালতে যাব।”
ছনুয়া উন্নয়ন পরিষদের বিবৃতি
আমিরুল হকের গ্রেপ্তারের নিন্দা ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে বিবৃতি দিয়েছে ছনুয়া উন্নয়ন পরিষদ। সংগঠনের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সাংবাদিক বেলাল উদ্দিন বলেন, “তিনি চেয়ারম্যান না হয়েও এলাকার রাস্তা, কালভার্ট, যাত্রী ছাউনি, সাঁকোসহ নানা উন্নয়নমূলক কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাকে আওয়ামী লীগের ট্যাগ দিয়ে গ্রেপ্তার করা অত্যন্ত দুঃখজনক। জুলাই আন্দোলনে আহত অনেককেই তিনি চিকিৎসা সহায়তা দিয়েছেন। আমরা তার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছি।”
এইচএসসি পরীক্ষার্থী কন্যা, পিতার গ্রেপ্তারে আহাজারি
চলমান এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী আমিরুল হকের জ্যেষ্ঠ কন্যা তাজকিয়া আমির তার পিতার গ্রেপ্তারে ভেঙে পড়েছে। এতে করে তার লেখাপড়ায় বড় একটি প্রভাব পড়েছে। তাজকিয়া তার বাবার মুক্তি চেয়েছেন।