বাঁশখালী বাস মালিক সমিতির ‘নিয়ন্ত্রণ’ বনাম যাত্রীসেবা—সংঘাতে ভোগান্তি বাড়ছে
নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাঁশখালী উপজেলার প্রেমবাজার এলাকায় যাত্রীবাহী একটি এসি বাস আটকে যাত্রীদের জোরপূর্বক নামিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বাঁশখালী বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়নের পরিচয় দেওয়া কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে প্রেমবাজার এলাকায় রোববার (৩ মে) সকাল ১০টার দিকে, যা স্থানীয় পরিবহন ব্যবস্থাপনা ও যাত্রী অধিকার নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
প্রেমবাজারে কী ঘটেছিল?
পেকুয়ার মগনামা ঘাট থেকে প্রায় ৩০ জন যাত্রী নিয়ে ‘এস আর পরিবহন’ নামের একটি এসি বাস চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। পথিমধ্যে প্রেমবাজার এলাকায় পৌঁছালে একদল যুবক বাসটির গতিরোধ করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, তারা নিজেদের স্থানীয় বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য পরিচয় দিয়ে বাসটি আর সামনে যেতে পারবে না বলে জানায়।
পরবর্তীতে বাসে থাকা যাত্রীদের মালামালসহ দ্রুত নেমে যেতে বাধ্য করা হয়। এতে হঠাৎ মাঝপথে পড়ে চরম বিপাকে পড়েন যাত্রীরা, বিশেষ করে তীব্র গরমে তাদের দুর্ভোগ আরও বাড়ে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাঁশখালী বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, এই রুটে এসি বাস চলাচলের জন্য তাদের থেকে পূর্ব অনুমতি নেওয়া হয়নি। অনুমতি ছাড়া কোনো গাড়ি চলাচল করতে দেওয়া হবে না—এমন অবস্থান থেকেই বাসটি আটকে দেওয়া হয়। পরে যাত্রীদের নামিয়ে দিয়ে বাসটিকে পুনরায় পেকুয়ার দিকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
যাত্রীরা যা বললেন
বাসের এক যাত্রী রাকিব জানান, প্রেমবাজার এলাকায় পৌঁছানোর পর হঠাৎ করেই আমাদের বাস থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। আমরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই লাগেজ নিয়ে রাস্তায় নামতে বাধ্য হই। পরে অনেক কষ্টে স্থানীয় সিএনজি অটোরিকশা ও ছোট যানবাহনে করে চট্টগ্রামে পৌঁছাতে হয়েছে।
তিনি আরও জানান, পেকুয়া-চট্টগ্রাম রুটে মাত্র ২০০ টাকায় এসি বাস সেবা যাত্রীদের জন্য স্বস্তিদায়ক ছিল। কিন্তু এ ধরনের ঘটনার ফলে যাত্রীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
যা বলছে মালিক সমিতি
বাঁশখালী বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়নের দাবি—এই রুটে এসি বাস চলাচলের জন্য তাদের কাছ থেকে পূর্ব অনুমতি নেওয়া হয়নি। অনুমতি ছাড়া নতুন কোনো পরিবহন চলতে দেওয়া হবে না—এমন অবস্থান থেকেই বাসটি আটকে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে সমিতির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম বলেন, “এসি বাস থেকে যাত্রী নামিয়ে দেওয়ার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবে বাইরের কোনো বাস এ রুটে চললে নিয়ম অনুযায়ী তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।”
সভাপতি নাজিম উদ্দিনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
‘রুট নিয়ন্ত্রণ’ না ‘যাত্রী হয়রানি’?
এই ঘটনা স্থানীয় পরিবহন খাতে দীর্ঘদিনের একটি অনিয়ন্ত্রিত বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে এসেছে—রুটভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। বিভিন্ন এলাকায় বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক সংগঠনগুলো অনানুষ্ঠানিকভাবে পরিবহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে থাকে, যা অনেক সময় প্রতিযোগিতা কমিয়ে যাত্রীসেবাকে বাধাগ্রস্ত করে। সচেতন মহলের প্রশ্ন, বাঁশখালী সড়ক কি মালিক সমিতির নিয়ন্ত্রণে থাকবে?
এ ঘটনার পর পেকুয়া-চট্টগ্রাম রুটের নিয়মিত যাত্রীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। অনেকেই এটিকে ‘সংগঠিত হয়রানি’ হিসেবে উল্লেখ করে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।