বাঁশখালীর লস্কর মৌলভীপাড়া যেভাবে রাতারাতি হয়ে গেল ‘আর্জেন্টিনা পাড়া’

শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
বাঁশখালীর লস্কর মৌলভীপাড়া যেভাবে রাতারাতি হয়ে গেল ‘আর্জেন্টিনা পাড়া’ এভাবে আর্জেন্টিনা ও বাংলাদেশের পতাকায় ছেয়ে গেছে লস্কর মৌলভীপাড়া— ছবি বাঁশখালী টুডে।
মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন, বাঁশখালী:
উপকূলীয় জনপদ বাঁশখালীর ছনুয়া ইউনিয়নের লস্কর মৌলভীপাড়া। চারপাশে বিস্তীর্ণ লবণ মাঠ, নীরব প্রকৃতি আর সাদামাটা গ্রামীণ জীবন। কিন্তু হঠাৎ করেই যেন বদলে গেছে সেই চিরচেনা দৃশ্য। রাস্তার দুই ধারে উড়ছে শত শত আকাশি-সাদা পতাকা, সঙ্গে বাংলাদেশের লাল-সবুজ। দূর থেকে দেখলে মনে হবে, যেন বাংলাদেশের কোনো গ্রাম নয়; এ যেন আর্জেন্টিনারই এক ক্ষুদ্র সংস্করণ!

প্রায় এক কিলোমিটারজুড়ে রাস্তার দুই পাশে শোভা পাচ্ছে ১৫০টি আর্জেন্টিনা ও বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা। দক্ষিণ ছনুয়ার উলুখালী লস্কর মৌলভীপাড়ার আর্জেন্টিনা সমর্থকদের ব্যতিক্রমী এই আয়োজন পুরো এলাকাকে পরিণত করেছে এক উৎসবের নগরীতে। বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম জনপ্রিয় দল আর্জেন্টিনার প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা থেকেই স্থানীয় তরুণ ও ক্রীড়াপ্রেমীরা একত্রিত হয়ে সাজিয়ে তুলেছেন তাদের স্বপ্নের এই ‘আর্জেন্টিনা পাড়া’।

পতাকার মৃদু দোলায় বাতাস যেন গেয়ে ওঠে ফুটবলের জয়গান। ছোট-বড় সবার চোখেমুখে উচ্ছ্বাসের ঝিলিক। কেউ গায়ে জড়িয়েছেন প্রিয় দলের জার্সি, কেউ হাতে নিয়েছেন পতাকা। আনন্দমুখর পরিবেশে সমর্থকেরা অংশ নিয়েছেন র‌্যালি, স্লোগান আর মিলনমেলায়। পুরো পাড়া যেন ফুটবলপ্রেমের রঙে রঙিন হয়ে উঠেছে।

আর্জেন্টিনা সমর্থক গোষ্ঠীর সদস্য নাজিম উদ্দীন, সোহেল, আনিছ ও কামরুল বলেন, “ফুটবল আমাদের কাছে শুধু একটি খেলা নয়, এটি আবেগ, ভালোবাসা ও একতার প্রতীক। সেই অনুভূতি থেকেই আমরা এই আয়োজন করেছি। ভবিষ্যতেও খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে এমন ইতিবাচক উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে চাই।”

লস্কর মৌলভীপাড়ার আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মতে, এই আয়োজন শুধু ফুটবলপ্রেমই প্রকাশ করেনি, বরং তরুণদের মধ্যে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও খেলাধুলার প্রতি আগ্রহও বাড়িয়েছে। আকাশি-সাদা পতাকার সারি আর উৎসবের আবহে পুরো লস্কর মৌলভীপাড়া যেন সত্যিই এক টুকরো আর্জেন্টিনায় রূপ নিয়েছে।

আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬-কে স্মরণীয় করে রাখতেই এই ব্যতিক্রমী আয়োজন বলে জানান আর্জেন্টিনা সমর্থক মো. এনামুল হক।

তিনি বলেন, “আর্জেন্টিনা ও বাংলাদেশের ১৫০টি পতাকা, খুঁটি ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। বিশ্বকাপকে ঘিরে এই আয়োজন আমাদের আনন্দকে আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেবে বলে বিশ্বাস করি।”
263 জন পড়েছেন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে বাঁশখালীতে উৎপাদিত চা পাতা