মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে জোট রাজনীতির সমীকরণ ক্রমেই জটিল আকার ধারণ করছে। জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের আসন ভাগাভাগি আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হলেও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে ঘিরে অনিশ্চয়তা কাটেনি। ফলে এই আসনে জোটের প্রার্থী নিয়ে ধোঁয়াশা এখনো বিদ্যমান।
১১ দলীয় জোটের সিদ্ধান্ত, অনুপস্থিত ইসলামী আন্দোলন
বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আসন সমঝোতা নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। একইদিন রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে রাত ৮টায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জোটের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়। তবে বৈঠক ও সংবাদ সম্মেলন; কোনোটিতেই উপস্থিত ছিলেন না ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ রেজাউল করিম (চরমোনাই পীর)। যদিও বৈঠকে অনুপস্থিত ছিল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, তবুও জোটের পক্ষ থেকে দলটির জন্য নির্দিষ্ট কিছু আসন রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।
জহিরুল ইসলামের মাথাব্যথা রুহুল্লাহ তালুকদার
চট্টগ্রাম-১৬ আসনে ১১ দলীয় জোটের একক প্রার্থী হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর অধ্যক্ষ মাওলানা জহিরুল ইসলামের নাম ঘোষণা করা হলেও এই সিদ্ধান্ত এখনো পুরোপুরি চূড়ান্ত বলা যাচ্ছে না। কারণ, একই আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা হাফেজ রুহুল্লাহ তালুকদার দলীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন।
কেন্দ্রীয়ভাবে জামায়াতে ইসলামী অন্যান্য সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আসন সমঝোতা চূড়ান্ত করলেও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি। ফলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই অনিশ্চয়তাই জহিরুল ইসলামের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা হাফেজ রুহুল্লাহ তালুকদার বলেন, “পীর সাহেব চরমোনাইয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী দলীয় প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আমি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছি। আমার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এখন আমরা কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি।”
নেজামে ইসলাম পার্টির দাবিতে জটিলতা, তবে স্বস্তি ফিরছে
১১ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক নেজামে ইসলাম পার্টিও চট্টগ্রাম-১৬ আসনটি চেয়েছিল। দলটির চেয়ারম্যান মুফতি ইজহারুল ইসলাম চৌধুরীর ছেলে মুসা বিন ইজহার দীর্ঘদিন ধরে মাঠে সক্রিয় ছিলেন। বাঁশখালীর বৈলছড়ি ইউনিয়নে মুফতি ইজহারুল ইসলামের বাড়ি হওয়ায় এই আসনে তার প্রার্থিতা জোটের সমীকরণে বাড়তি জটিলতা সৃষ্টি করে। তবে বৃহস্পতিবার নেজামে ইসলাম পার্টি ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সঙ্গে জামায়াতের আসন সমঝোতা হওয়ায় পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে। সমঝোতার অংশ হিসেবে এলডিপির অ্যাডভোকেট কফিল উদ্দিন এবং নেজামে ইসলাম পার্টির মুসা বিন ইজহার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করবেন; এটি প্রায় নিশ্চিত বলে জানা গেছে।
এই আসনে সম্ভাব্য ৮ জনের লড়াই
চট্টগ্রাম-১৬ আসনে মোট ১১ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও শেষ পর্যন্ত ৯ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। যাচাই-বাছাই শেষে ৮ জনের মনোনয়ন বৈধ এবং একজনের মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়। পরে এলডিপি ও নেজামে ইসলাম পার্টির দুই প্রার্থী প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলে মাঠে থাকবেন মোট ৮ জন প্রার্থী। বৈধ প্রার্থীরা হলেন— জামায়াতে ইসলামীর অধ্যক্ষ মাওলানা জহিরুল ইসলাম, বিএনপির মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ লেয়াকত আলী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর হাফেজ মাওলানা রুহুল্লাহ তালুকদার, সুন্নি ঐক্যজোটের মাওলানা আব্দুল মালেক আশরাফী, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের এহসানুল হক।
এদিকে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আরিফুল হক তায়েফের মনোনয়ন প্রথমে বাতিল হলেও আপিলে নির্বাচন কমিশন তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করায় তিনি পুনরায় প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ফিরেছেন।
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা দেবাশীষ দাশ জানান, চট্টগ্রাম-১৬ আসনে ১১ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও শেষ দিনে ৯ জন জমা দেন। মনোনয়নপত্র দাখিল না করা দুইজন হলেন—বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুহাম্মদ নেছার উদ্দিন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মীর মোহাম্মদ দোস্ত।
বিএনপিতে অস্বস্তি, পাপ্পার সামনে লেয়াকত আলী
অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছেন দলের বিদ্রোহী প্রার্থী মোহাম্মদ লেয়াকত আলী। সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে তিনি গণ্ডামারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। কেন্দ্র থেকে একাধিকবার বিদ্রোহী প্রার্থীদের সরে দাঁড়ানোর নির্দেশ এলেও লেয়াকত আলী অনড় অবস্থানে রয়েছেন এবং শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন।
অপরদিকে গণঅধিকার পরিষদ বিএনপির সাথে জোট করায় অ্যাডভোকেট আরিফুল হক তায়েফ শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকবেন না; এমনটি ধারণা।
সূত্র: একুশে পত্রিকা