☰

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১০০ পরিবারে নতুন ঘরের চাবি হস্তান্তর, বিদ্যুৎ-জ্বালানি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী

রবিবার, ০৯ আগস্ট ২০২৬
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১০০ পরিবারে নতুন ঘরের চাবি হস্তান্তর, বিদ্যুৎ-জ্বালানি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বাহারছড়া সমুদ্র সৈকতে জনসমুদ্র
মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন, বাঁশখালী:

বাঁশখালীতে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১০০টি পরিবারের পুনর্বাসন কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রবিবার (৯ আগস্ট) দুপুর ১টা ২০ মিনিটের দিকে বন্যাকবলিত বাহারছড়া ইউনিয়নে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের হাতে টিনের ছাউনি দেওয়া নতুন ঘরের চাবি তুলে দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে বাহারছড়া সমুদ্রসৈকতে মানুষের ঢল নামে। সমুদ্রের ঢেউয়ের সঙ্গে যেন জনসমুদ্রেও ওঠে উচ্ছ্বাসের ঢেউ। প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখতে বিপুলসংখ্যক মানুষ সাগরপাড়ে জড়ো হন।

চাবি হস্তান্তরের সময় তারেক রহমান ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের পরিবার ও সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন। পরে তিনি সেখানে একটি মেহগনি গাছের চারা রোপণ করেন।

অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পরে প্রধানমন্ত্রী বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন কর্মসূচিতে অংশ নিতে পশ্চিম বাঁশখালী উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে যান।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিয়ে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান

বাহারছড়া সমুদ্রসৈকতে আয়োজিত সমাবেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে জনগণের শান্তি নষ্ট না করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, ‘কিছুদিন ধরে গুটিকয়েক মানুষ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। বিভ্রান্তিকর কথা বলে দেশে বিশৃঙ্খলা ও জনগণের শান্তি নষ্ট করা যাবে না।’

প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী ১০ বছরের জন্য দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের পরিকল্পনা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, শিল্পকারখানা ও বাসাবাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি যানবাহনের জন্য প্রয়োজনীয় গ্যাসের ব্যবস্থাও করা হবে।

তিনি বলেন, বিগত সরকারের সময়ে দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত গুটিকয়েক ব্যক্তির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। এখন জনগণের স্বার্থে এ খাতকে নতুন করে পরিকল্পিতভাবে সাজাতে কিছুটা সময় প্রয়োজন। এরই মধ্যে সেই কাজ শুরু হয়েছে।

দেশে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের জন্য শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগকারীরা চান নির্বিঘ্নে পণ্য বন্দরে নিতে এবং কাঁচামাল দেশে আনতে। শিল্পকারখানা চালু রাখতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রয়োজন।

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চীনা বিনিয়োগের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সেখানে কয়েক শ মিল-কারখানা তৈরি হবে। এতে চট্টগ্রামের বহু মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হবে।

ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড

ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চলতি অর্থবছরে প্রায় ৪১ লাখ পরিবারের মায়ের হাতে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। বাঁশখালী এলাকায় ১০ থেকে ১২ হাজার পরিবারের হাতে এ কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, শুধু ধান, পাট বা অন্যান্য ফসলের চাষিরাই নন, বাঁশখালীর লবণচাষিরাও কৃষক কার্ড পাবেন। লবণের ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে এবং শিগগিরই তা সবাইকে জানানো হবে।

সমাবেশে বাঁশখালী উপজেলা হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

নজর কাড়ল পালকিতে বসা খুদে ‘অতিথি’

প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে বাহারছড়া সমুদ্রসৈকতে যখন হাজারো মানুষের ভিড়, তখন সেই জনসমুদ্রের মধ্যে আলাদা করে নজর কাড়ে আলিফা আক্তার নামের একটি ছোট্ট শিশু।

জনতার মাথার ওপর দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিল একটি সুসজ্জিত পালকি। আর সেই পালকিতে বসে ছিল ছোট্ট এক শিশু। চোখে কালো রোদচশমা, পরনে সাদা-লাল শাড়ি। বড়দের মতো সাজে সেজে জনসমুদ্রে হাজির হওয়া শিশুটিকে দেখে অনেকেই থমকে দাঁড়ান।

কেউ মোবাইল ফোনে ছবি তুলছিলেন, কেউ ধারণ করছিলেন ভিডিও। মুহূর্তেই পালকিতে বসা শিশুটি হয়ে ওঠে আশপাশের মানুষের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শিশুটি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার একজন ছোট্ট ভক্ত। মা-বাবার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে এসেছিল সে। তবে বিপুল মানুষের ভিড়ে একপর্যায়ে স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা কঠিন হয়ে পড়ে। তখন স্থানীয় কয়েকজন তাকে পালকিতে তুলে নেন।

ভিড়ের মধ্যে শিশুটি যাতে হারিয়ে না যায়, সে বিষয়টিও পালকিতে তোলার অন্যতম কারণ ছিল বলে জানান স্থানীয়রা।

পালকিতে বসে কখনো চারপাশের মানুষের দিকে তাকাচ্ছিল শিশুটি, আবার কখনো হাত নেড়ে অভিবাদন জানানোর ভঙ্গি করছিল। তার এই দৃশ্য দেখে অনেকের মুখেই ফুটে ওঠে হাসি।

সাগরের ঢেউ আর মানুষের ঢেউ—দুটো মিলিয়ে যখন বাহারছড়া সমুদ্রপাড় সরব, তখন পালকিতে বসা এই শিশুটিই হয়ে ওঠে অনেকের ক্যামেরার বিষয়। উপস্থিত কয়েকজনের ধারণ করা ছবি ও ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে।

রাজনৈতিক কর্মসূচির ব্যস্ততা, স্লোগান ও মানুষের কোলাহলের মধ্যে শিশুটির সরল উপস্থিতি যেন কিছুক্ষণের জন্য তৈরি করে ভিন্ন এক আবহ। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে বড়দের উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি আলিফা নামের ছোট্ট এই শিশুটিও হয়ে ওঠে বাহারছড়ার জনসমুদ্রের একটি আলোচিত দৃশ্য।
214 জন পড়েছেন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে বাঁশখালীতে উৎপাদিত চা পাতা