☰

পাঠক তৈরির কারখানা চেচুরিয়া বাঁধন সাংস্কৃতিক পরিষদ

রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
পাঠক তৈরির কারখানা চেচুরিয়া বাঁধন সাংস্কৃতিক পরিষদ বাঁশখালীর চেচুরিয়ায় পাঠক সমাবেশে ক্ষুদে পাঠকদের মিলনমেলা— ছবি বাঁশখালী টুডে
মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন, বাঁশখালী>> বাঁশখালীর প্রধান সড়ক থেকে মাত্র পাঁচ মিনিটের হাঁটাপথ। বৈলছড়ি ইউনিয়নের চেচুরিয়া গ্রামের অমরজিৎ মাস্টারের বাড়িতে পৌঁছালে দেখা মেলে এক অন্য রকম আয়োজনের। সেখানে নেই কোনো বিশাল পাঠাগার, নেই বই সাজানোর সুপরিসর কক্ষ কিংবা আধুনিক অবকাঠামো। আছে কেবল বইয়ের প্রতি ভালোবাসা, জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয় আর একঝাঁক কৌতূহলী শিশুর মুখ। প্রতি ২১ দিন পরপর এই উঠোনেই বসে বইয়ের উৎসব-পাঠক সমাবেশ।

শহরের ব্যস্ততা পেছনে ফেলে নির্দিষ্ট বিরতিতে গ্রামে ছুটে আসেন এই আয়োজনের উদ্যোক্তা ও বাঁধন সাংস্কৃতিক পরিষদের সভাপতি অঞ্জন কুমার দাশ। তাঁর হাত ধরে বইয়ের পাতায় পাতায় ডুব দেয় শিশুরা, উন্মোচিত হয় অজানাকে জানার নতুন দুয়ার। কখনো বাড়ির উঠোনে, কখনো বৃষ্টির দিনে ঘরের ভেতর গাদাগাদি করে চলে বই দেওয়া-নেওয়া, পড়ার অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি আর আনন্দের মেলবন্ধন।

একটি স্থায়ী অবকাঠামোর অভাবে রোদ-বৃষ্টির সঙ্গে লড়াই করেই এগিয়ে চলছে এই উদ্যোগ। অমরজিৎ মাস্টারের বাড়ির উঠানে মাদুর ও চাটাই বিছিয়ে চলছে পাঠক সমাবেশ।

স্বপ্নের শুরু ১৯৯৯ সালে

বাঁধন সাংস্কৃতিক পরিষদের যাত্রা শুরু ১৯৯৯ সালে। তখন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন অঞ্জন কুমার দাশ। সাংস্কৃতিক চর্চা, বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান এবং শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় সহযোগিতার লক্ষ্য নিয়ে গড়ে ওঠে সংগঠনটি। একপর্যায়ে সংগঠনের সদস্যদের মনে একটি পাঠাগার প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন জাগে। কিন্তু পাঠাগার গড়তে প্রয়োজন জায়গা, অবকাঠামো ও আর্থিক সামর্থ্য। নানা চেষ্টা করেও সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের মতো পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব হচ্ছিল না।

তাহলে কি থেমে থাকবে বইয়ের আলো ছড়িয়ে দেওয়ার আকাঙ্ক্ষা? বিকল্প পথ খুঁজতে গিয়ে জন্ম নেয় পাঠক সমাবেশের ভাবনা।

অঞ্জন কুমার দাশ বলেন, ‘আমরা একটি পাঠাগার করার পরিকল্পনা করেছিলাম। কিন্তু জায়গা ও অবকাঠামোর অভাবে সেটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছিল না। একদিন পয়লা বৈশাখের প্রস্তুতির সময় কয়েকজন বন্ধু মিলে বসেছিলাম। তখন ভাবলাম, স্থায়ী পাঠাগার না হোক, অস্থায়ীভাবে এমন একটি আয়োজন করা যায়, যেখানে শিশুরা বই নিয়ে যাবে, নির্দিষ্ট সময় পর ফেরত দেবে এবং আবার নতুন বই পড়ার সুযোগ পাবে। সেই ভাবনা থেকেই পাঠক সমাবেশের যাত্রা শুরু।’

১০০টি বই নিয়ে শুরু হয় যাত্রা। এরপর সংগঠনের সদস্যদের অনেকে বই কেনার জন্য অর্থ যোগান দেন। এই আয়োজনে মুগ্ধ হয়ে শুভানুধ্যায়ী বেশ কয়েকজন বই কেনার অর্থ যোগান দেন। বর্তমানে বইয়ের সংখ্যা ১ হাজার ৩০০ এর মতো। এখনো অনেকে বই দেওয়ার আগ্রহের কথা জানিয়ে রেখেছেন। কিন্তু অবকাঠামো পাঠক সংখ্যা বইয়ের সংখ্যা বিবেচনায় উদ্যোক্তারা সবার অনুদান গ্রহণ করতে পারছেন না

অবশেষে ২০২২ সালের ২২ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হয় পাঠক সমাবেশের প্রথম পর্ব। পরদিন ২৩ এপ্রিল ছিল বিশ্ব বই ও কপিরাইট দিবস। কাকতালীয় এই সময়ের মিল যেন উদ্যোগটির ভাবনাকে আরও অর্থবহ করে তোলে। প্রথম দিন মাত্র ২২ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে শুরু হয়েছিল যে পথচলা, তা ধীরে ধীরে রূপ নিয়েছে নিয়মিত পাঠচর্চার এক ব্যতিক্রমী পরিসরে।

২১ দিনের বিরতিতে বইয়ের টানে

শুরুতে দ্বিধা ছিল। ১৫ দিন পরপর, নাকি ২১ দিন পরপর আয়োজন করা হবে? শহরে বসবাস করায় প্রতিনিয়ত গ্রামে আসা সম্ভব নয়। অন্যদিকে, শুরুতে সংগ্রহে ছিল মাত্র ১০০টি বই। প্রত্যেক পাঠককে তিনটি করে বই দেওয়ার পরিকল্পনা থাকায় বইয়ের সীমিত সংগ্রহ ও পাঠকদের চাহিদার মধ্যে সমন্বয় করাও ছিল জরুরি।

সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে নির্ধারণ করা হয় ২১ দিনের ব্যবধান। পাঠকেরা বই নিয়ে বাড়ি ফিরবেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পড়ে আবার ফেরত দেবেন। এরপর হাতে পাবেন নতুন বই, খুলবে নতুন জগতের দরজা।

এভাবেই নিয়মিত বিরতিতে এগিয়ে চলেছে পাঠক সমাবেশ। উদ্যোক্তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে ৭৭টি পর্ব সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলের আয়োজনটি ৭৮তম পর্ব। গত বছর প্রতিটি সমাবেশে গড়ে ৭৮ জনের উপস্থিতি ছিল। পাঠকের সংখ্যা আরও বাড়াতে অংশগ্রহণকারীদের উৎসাহিত করার জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থাও করেছে সংগঠনটি।

বয়সভেদে বই, পছন্দমতো পড়ার সুযোগ

এই সমাবেশে বই বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও রয়েছে বিশেষ পরিকল্পনা। শিশুদের বয়স ও শ্রেণি অনুযায়ী পাঠকদের ভাগ করা হয়েছে তিনটি দলে। চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত ‘ক’ গ্রুপ, পঞ্চম থেকে সপ্তম শ্রেণি ‘খ’ গ্রুপ এবং অষ্টম শ্রেণি ও তদূর্ধ্ব শিক্ষার্থীরা ‘গ’ গ্রুপের অন্তর্ভুক্ত। প্রতিটি গ্রুপের উপযোগী বই আলাদা ডিসপ্লেতে সাজিয়ে রাখা হয়।

গল্প, উপন্যাস, রূপকথা, বিজ্ঞানভিত্তিক বই, গোয়েন্দাকাহিনি, ভ্রমণবৃত্তান্ত, জীবনী-বইয়ের সম্ভারজুড়ে রয়েছে বিচিত্র আয়োজন। ঠাকুরমার ঝুলি, সত্যজিৎ রায় ও সুকুমার রায়ের বইসহ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন লেখকের রচনা রয়েছে সেখানে। পাশাপাশি রাখা হয় ইংরেজি বইও।

অঞ্জন কুমার দাশ বলেন, ‘আমি ছোটবেলা থেকেই বই পড়তে পছন্দ করি। বই মানুষের কল্পনার জগৎকে সমৃদ্ধ করে। কিন্তু আমি যত বই পড়তে চাইতাম, তত বই পেতাম না। প্রত্যন্ত অঞ্চলে পাঠাগারও নেই বললেই চলে। তাই ভেবেছিলাম, সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে যদি শিশুদের এমন একটি প্ল্যাটফর্ম দিতে পারি, যেখানে অসংখ্য বই থাকবে, তাহলে তারা নিজেদের আগ্রহ অনুযায়ী বই পড়তে পারবে।’

বইয়ের জন্য শিশুর কান্না, উদ্যোক্তার চোখে স্বপ্ন

পাঠক সমাবেশের পথচলায় এমন কিছু মুহূর্ত এসেছে, যা উদ্যোক্তার হৃদয়ে গভীরভাবে দাগ কেটেছে। তেমনই একটি ঘটনা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন অঞ্জন কুমার দাশ।

শুরুর দিকে একজন পাঠককে সর্বোচ্চ তিনটি বই নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হতো। পরে পাঠকের সংখ্যা ও চাহিদা বাড়তে থাকায় নিয়ম শিথিল করার কথা ভাবা হয়। একদিন এক শিশু প্রায় ১০টি বই নিতে চেয়েছিল। সেদিন আটটি বই নিয়ে যাওয়ার পরও আরও বই নেওয়ার আকাঙ্ক্ষা ছিল তার। কিন্তু নিয়মের কারণে দায়িত্বশীলরা তার কাছ থেকে কয়েকটি বই ফিরিয়ে নেন।

এরপর ঘটে হৃদয়স্পর্শী এক ঘটনা। শিশুটি কিছুটা দূরে গিয়ে কাঁদতে থাকে। কারণ জানতে গিয়ে উদ্যোক্তা বুঝতে পারেন, বইগুলো সঙ্গে নিতে না পারার কষ্টেই তার চোখে জল।বইয়ের প্রতি একটি শিশুর এমন আকুলতা তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল।

মোবাইলের পর্দা পেরিয়ে চোখ বইয়ের পাতায়

বর্তমান সময়ে শিশু-কিশোরদের অবসরজুড়ে জায়গা করে নিচ্ছে মোবাইল ফোন ও ডিজিটাল ডিভাইস। বিনোদনের সহজলভ্য মাধ্যমের ভিড়ে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা অনেক ক্ষেত্রেই কঠিন হয়ে উঠছে। এমন বাস্তবতায় চেচুরিয়ার পাঠক সমাবেশ শিশুদের হাতে তুলে দিচ্ছে একটি বিকল্প জগৎ-যেখানে বিনোদনের পাশাপাশি রয়েছে চিন্তা, কল্পনা ও জ্ঞান অর্জনের সুযোগ।

অঞ্জন কুমার দাশ বলেন, ‘আমি একসময় দেখেছি, বাচ্চারা মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত থাকত। এখন তাদের অনেককে বই পড়তে দেখছি। তবে শুধু শিশুদের দোষারোপ করে লাভ নেই। তাদের জন্য খেলার মাঠসহ প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা আমরা সব জায়গায় তৈরি করতে পারিনি। ডিভাইসের বিকল্পও তৈরি করতে হবে। বাচ্চা শুধু তার বাবা-মায়ের সন্তান নয়, সে সমাজেরও সন্তান। এই বিশ্বাস থেকেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’

শিশুদের চোখে নতুন জগতের হাতছানি

পাঠক সমাবেশের নিয়মিত পাঠক দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সপ্তর্ষি দাশ। তিন বছর ধরে এখান থেকে বই নিয়ে পড়ছে সে। সপ্তর্ষি জানান, ‘আমি আগে থেকেই বই পড়তাম। এখানে আসার পর বই পড়ার আগ্রহ আরও বেড়েছে। সবচেয়ে ভালো লেগেছে গোয়েন্দাগিরি ও সায়েন্স ফিকশন।’

পূর্ব চেচুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী অনুষ্কা তালুকদারের কাছে এই সমাবেশ অজানাকে জানার এক নতুন সুযোগ। তার ভালো লাগে ভূতের গল্প ও ‘কিশোর আনন্দ’ বইটি। অনুষ্কা জানায়, ‘পাঠ্যবই তো সবাই পড়ে। কিন্তু এখানকার বইগুলো সম্পর্কে অনেকেরই ধারণা থাকে না। এখানে এসে অজানাকে জানার সুযোগ হয়েছে।’

আরেক শিক্ষার্থী মাশরুফাত জলিল খুঁজে পায় নিজের পছন্দের জগৎ। জলিল জানান, ‘এখানে এসে যার যেমন ইচ্ছা, যেমন পছন্দ, তেমন বই পড়তে পারে। আমার খুব ভালো লাগে।’

অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী নীলাদ্রি দাশের পছন্দ সত্যজিৎ রায়ের লেখা বই। সেসব বই পড়ে তার উপলব্ধি, যেকোনো পরিস্থিতিতে ভয়কে জয় করতে হবে। অন্যদিকে, সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী অতসী রুদ্রের আগ্রহ জ্ঞান-বিজ্ঞানের ধাঁধা ও গণিতের বইয়ে।

ভালোবাসা থেকেই নিয়মিত পথচলা

বাঁধন সাংস্কৃতিক পরিষদের নারী সদস্য রাখী দেব শুরু থেকেই এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত। পাঠক সমাবেশে শিশুদের উপস্থিতি ও বই পড়ার আগ্রহই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

তিনি বলেন, ‘আমার উদ্দেশ্য হচ্ছে পাঠক বৃদ্ধি করা। শুরু থেকেই আছি। শিশুরা যে বই পড়ছে, এটাই আমার সার্থকতা। এই আনন্দ থেকেই নিয়মিত চলে আসি।’

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অচিন্ত্য সিকদার একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করেন। কাজের ব্যস্ততা থাকলেও পাঠক সমাবেশের দিন তাঁর মন পড়ে থাকে চেচুরিয়ায়। তিনি বলেন, ‘পাঠক সমাবেশের দিন অন্য কোনো কাজ ভালো লাগে না। সোজা এখানে চলে আসি। শিক্ষার আলো ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি আমরা।’

বাইরের জেলায় ব্যবসা করেন সংগঠনের সদস্য বিকাশ কান্তি দাশ। শিশুদের কোলাহল আর বইয়ের প্রতি তাদের আগ্রহ তাঁকে টেনে আনে গ্রামের এই আয়োজনে। তিনি বলেন, ‘উদ্যোগটি আরও এগিয়ে নিতে একটি স্থায়ী অবকাঠামো প্রয়োজন। সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও মন্ত্রণালয় সহযোগিতার হাত বাড়ালে এলাকার শিশুরা আরও বেশি উপকৃত হবে।’

ব্যাংকার প্রান্ত তালুকদার বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন ধরনের বইয়ের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুফল ভবিষ্যৎ জীবনে পাওয়া যায়। চাকরি কিংবা ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় বিভিন্ন বইয়ের সঙ্গে পরিচিতির প্রয়োজনীয়তা তিনি নিজেও অনুভব করেছেন। তাঁর বিশ্বাস, শৈশব থেকে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে উঠলে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার পরিধি বাড়বে।’

অভিভাবক অসীম কান্তি দে চাকরিসূত্রে এই এলাকায় থাকেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি চকরিয়ার বরইতলী। তিনি বলেন, ‘আমাদের বাচ্চারা অবসর সময়ে মোবাইল হাতে না নিয়ে বইমুখী হচ্ছে। অঞ্জন দাদার কল্যাণে এই গ্রাম জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হচ্ছে। আমি মনে করি, এ ধরনের আয়োজন পুরো বাঁশখালীতে করা প্রয়োজন।’

সীমিত সামর্থ্য, অপূর্ণ স্বপ্ন

সংগঠনের সদস্যদের সহযোগিতায় নিয়মিত আয়োজন পরিচালিত হলেও স্থায়ী অবকাঠামোর অভাব এখনো বড় সীমাবদ্ধতা। রোদ-বৃষ্টির অনিশ্চয়তা মাথায় নিয়ে কখনো উঠোনে, কখনো ঘরের ভেতরে চলে পাঠক সমাবেশ। অথচ একটি স্থায়ী পাঠাগার হলে বই সংরক্ষণ, সংগ্রহ বৃদ্ধি ও পাঠকদের জন্য আরও সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হতো।

বিভিন্ন গ্রামের কয়েকজন ব্যক্তি ইতোমধ্যে অঞ্জন কুমার দাশের কাছে এমন উদ্যোগ শুরু করার বিষয়ে পরামর্শ নিয়েছেন। তাঁর অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ কাজে লাগিয়ে তাঁরা নিজেদের এলাকায় পাঠক সমাবেশ গড়ে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান তিনি।

অঞ্জন কুমার দাশের স্বপ্ন, চেচুরিয়ার এই ছোট্ট আয়োজন একদিন আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে পড়বে। বর্তমানে প্রতি সমাবেশে গড় উপস্থিতি ৭৮ জন হলেও আগামী পাঁচ বছরে তা দেড়শতে উন্নীত করতে চান তিনি। পাশাপাশি রয়েছে একটি স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, যেখানে বইগুলো সুশৃঙ্খলভাবে সংরক্ষণ ও প্রদর্শন করা যাবে।

তবে তাঁর স্বপ্ন কেবল একটি পাঠাগার নির্মাণ কিংবা পাঠকের সংখ্যা বাড়ানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি চান, শিশুরা বই পড়ুক, নিজের মতো করে ভাবতে শিখুক, প্রশ্ন করুক এবং জ্ঞানের আলোয় নিজেদের সমৃদ্ধ করুক।
259 জন পড়েছেন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে বাঁশখালীতে উৎপাদিত চা পাতা