☰

‘এমপি হবেন লেয়াকত আলী, চেয়ারম্যান হবেন আরিফ উল্লাহ’— গণ্ডামারায় নতুন রাজনৈতিক বয়ান

রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫
‘এমপি হবেন লেয়াকত আলী, চেয়ারম্যান হবেন আরিফ উল্লাহ’— গণ্ডামারায় নতুন রাজনৈতিক বয়ান লেয়াকত আলী ও মাওলানা আরিফ উল্লাহ — ফাইল ছবি
সামিদ হাসান সিফাত, গণ্ডামারা প্রতিনিধি:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। গণ্ডামারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. লেয়াকত আলী চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করায় স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনীতিতে একাধিক সমীকরণ নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

রোববার (আজ) দুপুর ১টার দিকে লেয়াকত আলী চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা’র কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তার পদত্যাগপত্র জমা দেন। জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে এই পদত্যাগকে অনেকেই পূর্বপরিকল্পিত রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখছেন। কারণ, নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে বহাল থেকে সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই।

প্যানেল চেয়ারম্যান নিয়ে শুরু রাজনৈতিক টানাপোড়েন

লেয়াকত আলীর পদত্যাগের পরপরই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—গণ্ডামারা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বা প্যানেল চেয়ারম্যানের দায়িত্ব কে পাচ্ছেন? এই প্রশ্ন ঘিরেই ইউনিয়নজুড়ে শুরু হয়েছে গুঞ্জন, জল্পনা-কল্পনা ও রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ।
স্থানীয়ভাবে আলোচনায় রয়েছে, গণ্ডামারা ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমান প্যানেল চেয়ারম্যান-১ ওসমান গনি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেতে পারেন। তবে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে বিভক্ত প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

স্থানীয়দের একটি অংশ অভিযোগ করছে, লেয়াকত আলী কারাগারে থাকাকালীন সময়েই ওসমান গনি জোরপূর্বক চেয়ারম্যানের চেয়ারে বসার চেষ্টা করেছিলেন। সে সময় বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দেয়। ফলে বর্তমানে তাকে দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা সামনে আসতেই নতুন করে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের আগে স্থানীয় জনমত ও অতীত ঘটনাপ্রবাহ গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা প্রয়োজন। অন্যথায় ইউনিয়নে প্রশাসনিক অস্থিরতা ও রাজনৈতিক সংঘাত আরও ঘনীভূত হতে পারে।

প্রশাসনের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আইন অনুযায়ী, প্যানেল চেয়ারম্যান নিয়োগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে প্রশাসনের এখতিয়ারভুক্ত। ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত প্যানেল চেয়ারম্যানদের মধ্য থেকেই ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নির্ধারণ করা হয়। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত গণ্ডামারা ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। ফলে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে পুরো ইউনিয়ন। এই অনিশ্চয়তা স্থানীয় সেবাদান কার্যক্রম ও পরিষদের স্বাভাবিক কার্যক্রমেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

‘এমপি হবেন লেয়াকত আলী, চেয়ারম্যান হবেন আরিফ উল্লাহ’—নতুন রাজনৈতিক বয়ান

লেয়াকত আলীর পদত্যাগের পর গণ্ডামারা ইউনিয়নের রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন করে উঠে এসেছে সাবেক চেয়ারম্যান আরিফ উল্লাহর নাম। পশ্চিম বড়ঘোনা গ্রামের বাসিন্দা সুমন, মাহবুব ও আনিসের মতে, লেয়াকত আলীর পদত্যাগের ফলে আরিফ উল্লাহর চেয়ারম্যান হওয়ার পথ অনেকটাই সুগম হয়েছে। তারা জানান, আরিফ উল্লাহ গণ্ডামারা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এবং বর্তমানে বাঁশখালী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি লেয়াকত আলীর শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। সেই নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হলেও শেষ পর্যন্ত জয় পান লেয়াকত আলী।

স্থানীয়দের একাংশের ভাষ্য, রাজনৈতিক ভাগ্য সহায় হলে লেয়াকত আলী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতে পারেন এবং সেই শূন্যস্থানেই আরিফ উল্লাহ পুনরায় চেয়ারম্যান হিসেবে ফিরে আসতে পারেন। যদিও বিষয়টি এখনো সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক অনুমান ও সম্ভাবনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। সব মিলিয়ে, গণ্ডামারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে লেয়াকত আলীর পদত্যাগ শুধু একটি প্রশাসনিক ঘটনা নয়; এটি বাঁশখালীর রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ, ক্ষমতার পুনর্বিন্যাস এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্যানেল চেয়ারম্যান নিয়োগ এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচন—এই দুই সিদ্ধান্তের দিকেই এখন তাকিয়ে আছে পুরো গণ্ডামারা ইউনিয়ন।
654 জন পড়েছেন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে বাঁশখালীতে উৎপাদিত চা পাতা