☰

বাঁশখালীতে নির্মিত হলো ‘শহীদ শরীফ ওসমান হাদি স্মৃতি পাঠাগার’

রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫
বাঁশখালীতে নির্মিত হলো ‘শহীদ শরীফ ওসমান হাদি স্মৃতি পাঠাগার’ চাম্বল ইউনিয়নের মুন্সিখীল গ্রামে অবস্থিত শহীদ ওসমান হাদি স্মৃতি পাঠাগার
মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম):
‘ইনসাফের বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে—এই অঙ্গীকারকে ধারণ করে ইনকিলাব মঞ্চের সাবেক মুখপাত্র ও সাহসী ছাত্রনেতা শহীদ শরীফ ওসমান হাদির স্মরণে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার চাম্বল ইউনিয়নের মুন্সিখীল গ্রামের চৌধুরী বাড়ি এলাকায় নির্মিত হয়েছে ‘শহীদ শরীফ ওসমান হাদি স্মৃতি পাঠাগার’। ইতোমধ্যে পাঠাগারটির নির্মাণকাজ প্রায় ৯০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। স্থানীয় শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক অগ্রযাত্রায় এটি একটি ব্যতিক্রমী ও দীর্ঘমেয়াদি অবদান রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এই স্মৃতি পাঠাগারটি কেবল বই পড়ার একটি স্থান নয়; বরং এটি হবে শহীদ শরীফ ওসমান হাদির আদর্শ, চিন্তা ও সংগ্রামের একটি জীবন্ত প্রতিফলন। ন্যায়বিচার, মানবিকতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থানের শিক্ষা ছড়িয়ে দেওয়াই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। স্থানীয় শিক্ষার্থী, তরুণ ও সচেতন পাঠকদের জন্য পাঠাগারটি একটি মুক্ত জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে।

পাঠাগারটি প্রতিষ্ঠায় সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করছে মাওলানা জুলকারনাইন চৌধুরী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট। এছাড়া সাবেক ছাত্রনেতা আনিসুল আজম চৌধুরীর পৃষ্ঠপোষকতায় এই মহতী উদ্যোগ বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। উদ্যোক্তাদের মতে, সমাজে আদর্শিক নেতৃত্ব ও মননশীল প্রজন্ম গড়ে তুলতে এমন উদ্যোগ সময়ের দাবি।

মাওলানা জুলকারনাইন চৌধুরী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট সূত্রে জানা যায়, পাঠাগারটি ২০২৬ সালের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে উদ্বোধন করে পাঠকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। উদ্বোধনের দিন হাদির স্মরণে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্প করার পাশাপাশি শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচি পালন করা হবে। পরবর্তীতে পাঠাগারটি জাতীয়করণের জন্য গ্রন্থাগার অধিদপ্তরে আবেদনের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। পাঠাগারটি চালু হলে নিয়মিত পাঠচক্র, আলোচনা সভা, স্মরণসভা ও আদর্শভিত্তিক পাঠ আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে শহীদ শরীফ ওসমান হাদির আদর্শ নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া হবে এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে সচেতন ভূমিকা পালন করবে এই প্রতিষ্ঠান। সব মিলিয়ে, বাঁশখালীর চাম্বলে নির্মাণাধীন ‘শহীদ শরীফ ওসমান হাদি স্মৃতি পাঠাগার’ শুধু একটি স্মৃতিচিহ্ন নয়—বরং এটি হয়ে উঠতে পারে শিক্ষা, আদর্শ ও মানবিক চেতনার এক অনন্য কেন্দ্র।

পাঠাগার প্রতিষ্ঠা প্রসঙ্গে পৃষ্ঠপোষক সাবেক ছাত্রনেতা আনিসুল আজম চৌধুরী বলেন, “শহীদ শরীফ ওসমান হাদি ছিলেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন একজন সংগ্রামী মানুষ। তাঁর স্বপ্ন ছিল ইনসাফভিত্তিক একটি বাংলাদেশ। এই স্মৃতি পাঠাগার শুধু একটি স্থাপনা নয়; এটি তাঁর চিন্তা ও আদর্শের ধারক হয়ে থাকবে।”

তিনি আরও জানান, পাঠাগারে শহীদ হাদির পরিধান করা দুটি বস্ত্র দর্শনার্থীদের জন্য প্রদর্শনী হিসেবে সংরক্ষণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ বিষয়ে হাদির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে। পাশাপাশি হাদির লেখা ও তাঁর জীবন-সংগ্রামভিত্তিক গ্রন্থ, প্রবন্ধ ও স্মারক সংগ্রহ করে পাঠাগারে রাখা হবে, যাতে পাঠকরা তাঁর চিন্তাধারার সঙ্গে সরাসরি পরিচিত হতে পারেন।

স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষক ও সচেতন মহলের মতে, ‘শহীদ শরীফ ওসমান হাদি স্মৃতি পাঠাগার’ চাম্বলসহ আশপাশের এলাকার শিক্ষার্থী ও তরুণ সমাজের জন্য একটি অনুপ্রেরণার বাতিঘর হয়ে উঠবে। যেখানে তরুণরা কেবল পাঠ্যবই নয়, বরং ন্যায়বোধ, প্রতিবাদী চেতনা ও সামাজিক দায়িত্ববোধের শিক্ষা গ্রহণ করবে। তাঁদের মতে, বর্তমান সময়ে যখন তরুণ সমাজ নানামুখী অবক্ষয় ও বিভ্রান্তির মধ্যে রয়েছে, তখন এমন একটি আদর্শভিত্তিক পাঠাগার গড়ে ওঠা সমাজের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক ও সময়োপযোগী উদ্যোগ।

সূত্র: একুশে পত্রিকা। 
457 জন পড়েছেন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে বাঁশখালীতে উৎপাদিত চা পাতা