গুরুতর আহত মা-মেয়ে
ফেসবুকে ঘটনার ভিডিও ভাইরাল, তোলপাড়
নিজস্ব প্রতিবেদক, বাঁশখালী টুডে:
আর্জেন্টিনা-স্পেন বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল খেলাকে কেন্দ্র করে কথাকাটাকাটির জেরে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় মা ও মেয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মামলা না করতে নানাভাবে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (২০ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার পুঁইছড়ি ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মওলার পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। মা-মেয়েকে অতর্কিতভাবে কুপানোর একটি ভিডিও মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
আহতরা হলেন ময়ুরা খাতুন (৫৫) ও তার মেয়ে রাবিয়া খাতুন (১৫)। চিকিৎসকরা ময়ুরা খাতুনের মাথায় চারটি এবং রাবিয়া খাতুনের মাথায় সাতটি সেলাই দিয়েছেন। ভুক্তভোগী ময়ুরা খাতুন একই এলাকার আবুল হাশেমের স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রোববার রাতে অনুষ্ঠিত আর্জেন্টিনা-স্পেন বিশ্বকাপ ফাইনাল নিয়ে স্থানীয় যুবক রাকিবের সঙ্গে অভিযুক্ত মোরশেদুল ইসলামের গ্রুপের এক সদস্যের কথাকাটাকাটি হয়। বিষয়টি জানার পর থেকেই মোরশেদুল ইসলাম রাকিবকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিলেন।
এর জেরে সোমবার সকালে মোরশেদুল ও তার ভাই মোহাম্মদ হাবিবের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল রাকিবের বাড়িতে গিয়ে হামলা চালায়। এ সময় প্রতিবেশীরা রাকিবকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ধারালো দা ও কুড়াল নিয়ে এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। এতে ময়রা খাতুন, তার মেয়ে রাবিয়া খাতুনসহ অন্তত পাঁচজন আহত হন। মা-মেয়ের মাথা, কপাল ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। হামলার পর অভিযুক্তরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
ভুক্তভোগী রাকিবুল ইসলাম বলেন, ময়ুরা খাতুনের বাড়ির সামনে মোরশেদ ও হাবিব আমাকে মারধর করছিল। এসময় ময়ুরা খাতুন এগিয়ে এসে তার বাড়ির সামনে ঝামেলা না করার জন্য তাদেরকে বারণ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ময়ুরা খাতুনের ওপর হামলে পড়ে মোরশেদ ও হাবিবসহ তাদের লোকজন। মায়ের ওপর অতর্কিত হামলা দেখে মেয়ে রাবিয়া এগিয়ে আসলে তার ওপরও হামলা চালানো হয়। দিনদুপুরে এমন ঘটনা আমি আমার জীবনে দেখিনি।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। পরে তাদের চমেক হাসপাতালের ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত মোরশেদুল ইসলাম এলাকায় একটি কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্ব দেন। তার বাবা জাকের হোসেনের বিরুদ্ধেও ভূমি দখলসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।
আহত ময়ুরা খাতুনের ছেলে মোহাম্মদ রাসেল বলেন, 'আমার মা ও বোন কারও কোনো ক্ষতি করেননি। প্রতিবেশীকে হামলা থেকে বাঁচাতে এগিয়ে যাওয়াই ছিল তাদের অপরাধ। এজন্য তাদের দা-কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে মাথা, কপাল ও মুখে গুরুতর জখম করা হয়েছে। আমরা অসহায় মানুষ। এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। একই সঙ্গে আমাদের পরিবারের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি। আজ সকালে এলাকায় এসে মোরশেদ হুমকি দিয়ে গেছে এ ঘটনায় মামলা করলে পরিণতি ভয়াবহ হবে।’
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, অভিযুক্তরা এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় তারা মামলা করতে ভয় পাচ্ছেন। ইতোমধ্যে মৌখিকভাবে বিষয়টি থানাকে জানানো হলেও মামলা করলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি তাদের।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোরশেদুল ইসলাম ও মোহাম্মদ হাবিবের বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলেও তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
বাঁশখালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুধাংশু শেখর হালদার বলেন, ‘বিশ্বকাপ ফুটবলকে কেন্দ্র করে চায়ের দোকানে চিল্লাচিল্লি করছিল কিছু ছেলে। তখন তাদেরকে চিল্লাচিল্লি না করার জন্য বারণ করেন চা দোকানি। পরদিন চা দোকানির ওপর হামলা চালানো হয়। ময়ুরা খাতুন প্রতিবেশী চা দোকানিকে উদ্ধার করার জন্য এগিয়ে গিয়েছিলেন। পুলিশের জরুরি সেবা নম্বরে ফোন পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে তাৎক্ষণিক পুলিশ পাঠিয়েছি। মা-মেয়েকে লিখিত এজাহার জমা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি।’