☰

বাঁশখালীতে ঈদে মিলাদুন্নবীর মিছিলে বাধা: কওমি-সুন্নী মুখোমুখি

শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬
বাঁশখালীতে ঈদে মিলাদুন্নবীর মিছিলে বাধা: কওমি-সুন্নী মুখোমুখি বাঁশখালী পৌরসভার ভাদালিয়া গ্রামে কওমি-সুন্নী মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে পাল্টাপাল্টি স্লোগান দেয়।
নিজস্ব প্রতিবেদক, বাঁশখালী টুডে:
বাঁশখালী উপজেলায় পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষ্যে বের করা জশনে জুলুসের মিছিলে বাধা দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে কওমি ও সুন্নী জনতার মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কওমি মাদরাসা ও সুন্নি জনতার মধ্যস্থতায় এগিয়ে এসেছে স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসন।

শনিবার (২২ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে বাঁশখালী পৌরসভার ১নম্বর ওয়ার্ডের ভাদালিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সকালে দু-পক্ষের মধ্যে সৃষ্টি হওয়া উত্তেজনা দিনভর স্থায়ী ছিল।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাঁশখালী পৌরসভার শেষ প্রান্তে সরল ইউনিয়নের সংযোগস্থলে ঈদে মিলাদুন্নবীর মিছিল বের করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন সুন্নি আলেম-ওলামা ও সাধারণ জনতা। আশেপাশের এলাকা থেকে অটোরিকশা, পিকআপ ও জিপ যোগে কয়েকশ মানুষ মিছিলের জন্য জড়ো হতে থাকেন। মিছিল শুরু হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে স্থানীয় একটি কওমি মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় কওমিপন্থীরা এতে আপত্তি জানান। তাদের দাবি ছিল, মাদরাসার সামনের সড়ক দিয়ে কোনো জুলুস বা মিছিল অতিক্রম করতে দেওয়া হবে না।

এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এসময় উভয়পক্ষ পাল্টাপাল্টি স্লোগান দেয়। খবর পেয়ে উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আরও সুন্নি অনুসারীরা ঘটনাস্থলে এসে জড়ো হতে শুরু করেন। সংঘর্ষের ভয়ে মুহূর্তের মধ্যে ভাদালিয়া বাজারের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায় এবং পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে কওমিপন্থীরা ভাদালিয়া বড় মাদরাসার সামনে এবং জুলুসে অংশগ্রহণকারীরা ছিদ্দিক আকবর তাহেরীয়া উম্মীদ আলী শাহ্ সুন্নিয়া মাদরাসার সামনে অবস্থান নিয়ে মুখোমুখি হন।

সংবাদ পেয়ে বাঁশখালী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দু-পক্ষের মাঝে অবস্থান নেয় এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে নিরাপত্তা জোরদার করে। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন বাঁশখালী পৌরসভার সাবেক মেয়র কামরুল ইসলাম হোসাইনী। তিনি উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলেন এবং শান্ত থাকার আহ্বান জানান।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সৈয়দ হালিম জানান, ‘জশনে জুলুসের মিছিল ভাদালিয়া বাজার পর্যন্ত পৌঁছালে ভাদালিয়া বড় মাদ্রাসার সামনে দিয়ে যেতে নিষেধ করে কওমিপন্থী লোকজন। তখন ওই মাদ্রাসার সামনে বড় বড় গাছের গুঁড়ি ফেলে পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়।’

বাঁশখালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুধাংশু শেখর হালদার বলেন, ‘ঈদে মিলাদুন্নবীর মিছিল বের করাকে কেন্দ্র করে দুটি পক্ষের মধ্যে পুরোনো বিরোধের জেরে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আমরা অত্যন্ত সতর্কতা ও দক্ষতার সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। আপাতত অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা ঘটতে দেওয়া হয়নি।’

বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল হক বলেন, ‘ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে। দুই পক্ষের মধ্যে বিদ্যমান মতপার্থক্য ও ক্ষোভ নিরসনে আগামীকাল (রোববার) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং পুলিশের উপস্থিতিতে একটি সুনির্দিষ্ট বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। এতে উভয়পক্ষের ৫ জন করে উপস্থিত থাকবে। আশা করছি, আলোচনার মাধ্যমে এ সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান হবে।’
307 জন পড়েছেন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে বাঁশখালীতে উৎপাদিত চা পাতা