☰

‘আমি দেরিতে আসবো। আপনি জিজ্ঞেস করার কে?’—কর্কশ গলায় বললেন প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা

শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
‘আমি দেরিতে আসবো। আপনি জিজ্ঞেস করার কে?’—কর্কশ গলায় বললেন প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জুয়েল মজুমদার— বাঁশখালী টুডে
মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন, বাঁশখালী>>
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর। ঘড়ির কাঁটায় তখন ১১ টা বেজে ৩০ মিনিট। বাঁশখালী প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জুয়েল মজুমদারের কক্ষে চেয়ারটি তখনও ফাঁকা। সরকারি অফিস সময় ৯টা হলেও তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত সাড়ে ১১টায়ও। অপরদিকে দিনের অর্ধ-বেলা ফুরিয়ে গেলেও কৃত্রিম প্রজনন কর্মকর্তা সুমন কর্মকারের অফিসটি তালাবদ্ধ। অফিসের বারান্দায় প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার জন্য অপেক্ষা করছিলেন এ প্রতিবেদক। ১১ টা ৩৮ মিনিটে তিনি হাজির হলেন। কুর্নিশ জানিয়ে প্রসঙ্গ তুলতেই কর্কশ গলায় রেগে গেলেন ডা. জুয়েল মজুমদার। পাল্টা প্রশ্ন করলেন, ‘আমি দেরিতে আসবো। আপনি জিজ্ঞেস করার কে? আপনাকে এখানে কে পাঠিয়েছে?’ অফিসের অ্যাসাইনমেন্ট আছে জানালে তিনি বলেন, ‘আপনার বস্ এর নম্বর দিন। আমি একটু কথা বলি।’ এদিকে প্রতিবেদকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নম্বর দেওয়ার পর কথা বলার অনুরোধ করলে জুয়েল মজুমদার বলেন, ‘রসুনের কোয়া ভাগ হলেও গোড়ালি একই জায়গায়। কথা বলার দরকার নেই। আপনি আসতে পারেন।’

উল্লেখ্য, বিষয়টি নিয়ে গত ১০ দিন যাবত প্রাণিসম্পদ অফিস পর্যবেক্ষণ করেছেন এ প্রতিবেদক। প্রতিদিন এমন চিত্র দেখা গেছে।

জুয়েলের বিরুদ্ধে অভিযোগ নতুন নয়

চলতি বছরের ৮ জুলাই বাঁশখালীতে যোগদান করেন ডা. জুয়েল মজুমদার। গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচারের পর সরকারি নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত না থাকার অভিযোগে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. জুয়েল মজুমদারকে গত ২৫ আগস্ট লিখিতভাবে কৈফিয়ত তলব করে জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর। তৎকালীন চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. মো. আলমগীর স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে সরকারি অফিস সময় যথাযথভাবে অনুসরণ না করার বিষয়ে তাকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে জেলা দপ্তর জানতে পারে যে, গত ২৩ থেকে ২৫ আগস্ট পর্যন্ত টানা তিন দিন সকাল ৯টা ৪০ মিনিটের আগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা অফিসে উপস্থিত ছিলেন না। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত অফিসে উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক হলেও কোনো ধরনের পূর্বানুমতি বা যৌক্তিক কারণ ছাড়া তার অনুপস্থিতি সরকারি শৃঙ্খলার পরিপন্থি বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

নোটিশে আরও বলা হয়, নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত না থাকার কারণে কেন তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না— তা নোটিশ পাওয়ার তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে জানাতে হবে। নির্ধারিত সময়ে সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে তার বিরুদ্ধে একতরফা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

এর আগে ২৪ আগস্ট সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত সরেজমিনে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল কার্যালয়ে গিয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. জুয়েল মজুমদারকে পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন গণমাধ্যমকর্মীরা। এ সময় তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি বলে জানান তারা।

পরদিন মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৩৯ মিনিট পর্যন্ত পুনরায় সরেজমিনে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে অপেক্ষা করেও ড. জুয়েল মজুমদারকে পাওয়া যায়নি বলে জানান উপস্থিত সাংবাদিকরা। বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে বিষয়টি সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন বলে জানান।

এর কিছুক্ষণ পর ড. জুয়েল মজুমদার কার্যালয়ে উপস্থিত হন। এ সময় সাংবাদিকরা সরকারি অফিস সময়ে তাকে কর্মস্থলে না পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি উত্তেজিত ও ক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া দেখান বলে অভিযোগ করেন উপস্থিত সাংবাদিকরা। তিনি সাংবাদিকদের উপস্থিতির কারণ ও কে তাকে নিয়ে অভিযোগ করেছে- এসব বিষয়ে বারবার প্রশ্ন করেন।

একপর্যায়ে তিনি রাগান্বিত কণ্ঠে সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা কেন এসেছেন? কী বিষয়ে জানতে চাইছেন? অফিসে আমাকে কেন খুঁজছেন-সেটা বলেন। আমার অফিসে আসার সময় নিয়ে আপনারা কীভাবে জানেন, কে আপনাদের অভিযোগ দিয়েছে তা আমাকে বলতে হবে।’

 এ সময় তিনি সাংবাদিকদের নিজ নিজ প্রধান কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করার কথাও বলেন এবং বিষয়টি নিয়ে সেখানে কথা বলবেন বলে জানান। পরে তিনি সাংবাদিকদের কাছে অনুরোধ করেন, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে যেন জানানো হয় যে সাংবাদিকরা তাকে অফিসে পেয়েছেন।

চিকিৎসার বিনিময়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ

বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টা ৩৮ মিনিটেও কৃত্রিম প্রজনন কর্মকর্তা সুমন কর্মকারের কক্ষটি তালাবদ্ধ দেখা যায়। পরে পরিচয় গোপন রেখে খামারি পরিচয়ে সুমন কর্মকারকে ফোন করেন এ প্রতিবেদক। তখন সুমন কর্মকার বলেন, ‘ওখানে বারান্দায় আপু একটা আছে। আপনার ছাগলের সমস্যা নিয়ে উনাকে বলুন।’ ফোন রেখে বারান্দায় রোগীর চিকিৎসায় নিয়োজিত মহিলার পরিচয় জিজ্ঞেস করেন এ প্রতিবেদক। জবাবে তিনি জানান, তার নাম খালেছা সুলতানা মুন্নী। কর্মরত আছেন ভেটেরিনারি ফিল্ড এসিস্ট্যান্ট হিসেবে। সুমন কর্মকার কোথায় আছেন জিজ্ঞেস করা হলে মুন্নী বলেন, ‘সুমন স্যার এখনও আসেননি।’

বাঁশখালী উপজেলা প্রাণিসম্পদ ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে উপ-সহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা হিসেবে ১০ বছর যাবত কর্মরত আছেন সুমন কর্মকার। অভিযোগ রয়েছে, অফিসে চিকিৎসার বিনিময়ে অর্থ আদায়ের নিয়ম না থাকলেও সুমন কর্মকার রোগী প্রতি ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত নেন।

ভুক্তভোগী মো. ইউনুস বলেন, ‘আমার কাছ থেকে ৫০০ টাকা নিয়েছে। গাভীর কৃত্রিম প্রজনন করতে বীজের যে সরকারি তরল সিমেনের মূল্য ৩০টাকা ও সরকারি প্রোজেন সিমেনের মূল্য ৭৫ টাকা৷ সেখানে আমাদের কাছ থেকে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত নেয়।’

অভিযোগ রয়েছে, সুমন কর্মকার নিয়মিত অফিসে উপস্থিত থাকেন না। কোনদিন আসলেও তিনি ১০ টায় এসে দেড়টার পর অফিস ত্যাগ করেন। এছাড়াও ছাগল খাসি করানোর বিনিময়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

সুমন কর্মকারের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জুয়েল মজুমদার বলেন, ‘চিকিৎসার বিনিময়ে টাকা আদায় নিয়ে এ পর্যন্ত কেউ আমাকে অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেব।’

এলডিডিপি প্রকল্প থেকে প্রকৃত খামারিদের বঞ্চিত করার অভিযোগ

২০২৬ সালের ভয়াবহ বন্যা পরবর্তী অর্থাৎ আগস্টের শুরু থেকে প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের (এলডিডিপি) আওতায় বাঁশখালীর ১৪ ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার ৪০০ জন খামারিকে ভূষি, সাইলেস,  এক জোড়া গাম বোট, একটি স্টিলের বালতি ও একটি থার্মোমিটার প্রদান করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, প্রকৃত খামারিরা এসব সুযোগ পাননি।

জামশেদ ডেইরি এন্ড এগ্রো ফার্মের স্বত্বাধিকারী নুরুল আলম বলেন, ‘যাদের খামার নেই, তারা এই সুবিধা পেয়েছে বন্যার পর। রাজনৈতিক পরিচয়ে যারা পেয়েছে তাদের খামার না থাকায় পৌরসভায় এসে জিনিসগুলো বিক্রি করে দিয়েছে। আমরা তো পাইনি। অথচ বন্যার সময় আমার খামার বিভিন্ন ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত।’

পুঁইছড়ি মীরপাড়ার বাসিন্দা খালেদা খানম বলেন, ‘দুগ্ধজাত খামারিদের নিয়ে ৪০ জনের পিজি গ্রুপ করা হয়েছে। ওই গ্রুপের আমিও একজন সদস্য। কিন্তু এই সুবিধা আমি পাইনি। আমার ৭টি গরু আছে। ওখানে একজনের জিনিস দুই জনকে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে।’

পিজি গ্রুপের সদস্য শাকির আহমদ ও আবু তৈয়ব জানান, তাদেরকে একটি দুধের কেটলি ও একটি বালতি দেওয়া হলেও বাকি জিনিসগুলো দেওয়া হয়নি। শাকির বলেন, ‘আমি নিয়মিত সঞ্চয় প্রদান করেছি ১০০ টাকা করে। নিয়মিত প্রতিটি মিটিংয়ে অংশ নিয়েছি। কিন্তু আমাকে প্রণোদনা দেয়নি।’

প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পে (এলডিডিপি) এলএসপি হিসেবে কর্মরত ছিলেন উম্মে নুরী রহিমা। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার অধীনে ১০ জন পিজি সদস্য কাজ করেছেন। কিন্তু তাদেরকে এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।’

অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জুয়েল মজুমদার বলেন, ‘২০২২ সাল থেকে যারা পিজি গ্রুপের সদস্য তাদেরকে দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয় দেখে কাউকে দেওয়া হয়নি।’

চাকরি নেই, তবু নিয়মিত অফিসে বিচরণ করেন শাওন

২০১৯ সালের ১ জানুয়ারি প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন (এলডিডিপি) প্রকল্পের অধীনে ‘প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা’ পদে চাকরি হয় মো. জুলকারনাইন শাওনের। এই প্রকল্পের মেয়াদ দুই বছর হলেও চাহিদা বিবেচনায় কয়েক ধাপে এই প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়। চলতি বছরের ৩১ জুন এই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলে আর মেয়াদ বাড়ানো হয়নি। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত জুলকারনাইন শাওন বাঁশখালী উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন।

অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও নিয়মিত অফিসে গিয়ে বিএনপির লোক পরিচয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন তিনি। সরকারি অফিস সময়ে অর্থাৎ সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত তিনি সেখানে অবস্থান করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, চাকরির মেয়াদ শেষ হলেও দলীয় লোকদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাইয়ে দিতে প্রাণিসম্পদ অফিসে অবস্থান করেন শাওন।

এ বিষয়ে প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পে (এলডিডিপি) এলএসপি হিসেবে কাজ করা উম্মে নুরী রহিমা বলেন, ‘শাওন স্যারের চাকরি না থাকলেও তিনি অফিস ছাড়েননি। আমি নিয়মিত উপজেলা সদরে যাচ্ছি। উনাকে অফিসে নিয়মিত দেখা যায়।’

অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মো. জুলকারনাইন শাওন বলেন, ‘আমি অফিসে কাজে যাই আর কি। কাজ কি থাকতে পারে না? এলডিডিপি প্রকল্পের কাজ ছিল, তাই গিয়েছি।’ প্রকল্পের মেয়াদ তো শেষ হয়ে গেছে, এরপরও কেন নিয়মিত বিচরণ— এমন প্রশ্নের কোন সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।

অফিস ফাঁকির অভিযোগ ফরিদুলের বিরুদ্ধে 

২২ বছর যাবত বাঁশখালীতে উপ-সহকারী প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত আছেন কে এন ফরিদুল আজিম। অভিযোগ রয়েছে, ফরিদুল আজিম অফিসে আসেন সকাল ১০ টায়। অফিস ত্যাগ করেন ২ টায়। এরপর আর আসেন না। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চলতি মাসে অবসরে যাবেন তিনি।

এ বিষয়ে কে এন ফরিদুল আজিম বলেন, ‘আমার কাজ তো ফিল্ডে। আমাকে সবসময় ফিল্ডে থাকতে হয়। কে অভিযোগ করেছে তাঁকে আমার সামনে নিয়ে আসেন।’

‘নতুন এসেছেন’ বলে অভিযোগ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা হিসেবে যোগদানের পরদিন বাঁশখালী উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ যোবায়ের হোসেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ যোবায়ের হোসেনকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি নতুন যোগদান করেছি চট্টগ্রামে। তাই এ বিষয়ে কিছুই জানি না। আপনার কাছ থেকে প্রথম শুনলাম। আমি বিষয়টি খোঁজ নিচ্ছি।’

বাঁশখালী প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল পরিদর্শনের বিষয়টি সামনে আনা হলে তিনি বলেন, ‘আমি যোগদান করেছি এক মাস হচ্ছে। সেখানে ভিজিট করেছিলাম অন্য একটি বিষয় নিয়ে। জুয়েল মজুমদারকে আগে কৈফিয়ত তলব করার চিঠিটি আমি দেখেছি। আমি যাচাই-বাছাই করতেছি বিষয়টি।’

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আতিয়ার রহমান বলেন, ‘আপনি জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার সাথে কথা বলুন। উনি নতুন যোগদান করলেও ইতিমধ্যে বাঁশখালী প্রাণিসম্পদ অফিস ভিজিট করেছেন। ধন্যবাদ বিষয়টি আমার নলেজে দেয়ার জন্য। এলডিডিপি প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়েছে জুনে। সে এসেছে কয়েক মাস।’

বাকি অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে এড়িয়ে যান ডা. আতিয়ার রহমান। হোয়াটসঅ্যাপে প্রশ্ন লিখে পাঠানো হলেও মেসেজ ‘সিন’ করে উত্তর দেননি তিনি।

336 জন পড়েছেন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে বাঁশখালীতে উৎপাদিত চা পাতা