☰

ছনুয়ায় দাঁড়িপাল্লার নিরঙ্কুশ জয়: নেপথ্যের নায়ক কী এমরুল কায়েস?

শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ছনুয়ায় দাঁড়িপাল্লার নিরঙ্কুশ জয়: নেপথ্যের নায়ক কী এমরুল কায়েস? ছনুয়া উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি লায়ন মো. আমিরুল হক এমরুল কায়েসের সাথে আনন্দঘন মূহুর্তে এমপি জহিরুল ইসলাম
নিজস্ব প্রতিবেদক:
লায়ন মো. আমিরুল হক (এমরুল কায়েস) ছনুয়া ইউনিয়নে সর্বমহলে একজন গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি। অবহেলিত ছনুয়ায় উন্নয়নের মশাল জ্বালানোর মহান ব্রত নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন ‘ছনুয়া উন্নয়ন পরিষদ’। এই সংগঠনের মাধ্যমে ছনুয়ার আনাচে-কানাচে বহু সড়ক-কালভার্ট নির্মাণ করেছেন তিনি। বিগত আ. লীগ সরকারের আমলে ছনুয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে অংশ নিয়ে বিপুল ভোটে এগিয়ে থাকলেও ‘ম্যাকানিজম’ করে তার ফল পাল্টে দেওয়া হয়। তবুও তিনি থেমে থাকেননি। আত্নবিশ্বাস হারাননি। 

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আ. লীগের ‘জাদুর কাঠি’ ইভিএম জালিয়াতির ভোটে হেরে গেলেও তিনি ছনুয়ার মানুষকে ফেলে কোথাও যাননি। প্রতি সপ্তাহে এলাকার মানুষকে দেখার জন্য তিনি শহর থেকে ছনুয়া যান। এছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তার উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। ছনুয়ার অন্য চেয়ারম্যান প্রার্থী কিংবা চেয়ারম্যান নির্বাচনের পর এলাকা ছেড়ে শহরে পাড়ি জমানোর পর কর্মীদের খোঁজ খবর না রাখলেও সে ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম এমরুল কায়েস।

এদিকে সদ্য সমাপ্ত হওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ছনুয়া ইউনিয়নে দাঁড়িপাল্লা নিরঙ্কুশ জয়লাভের পর এই উপকূলীয় ইউনিয়নে নানা সমীকরণ শুরু হয়েছে। এই ইউনিয়নে বাঁশখালী উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব রেজাউল হকের বাড়ি। তিনি বিগত সময়ে ১৪ বছর ছনুয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন। রেজাউল হকের ঘাটিতে জামায়াতে ইসলামী তথা দাঁড়িপাল্লার ভূমিধস জয়ের পর নানা আলোচনা চলছে। ভোটারদের কৌতূহল এই বিজয়ের নেপথ্যের নায়ক কে?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতে ইসলামীর সক্রীয় নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি এই ইউনিয়নে দাঁড়িপাল্লার জয়ের পেছনে অন্যতম ভূমিকা রেখেছেন ভারতীয় উপমহাদেশের খ্যাতিমান ক্যালিওগ্রাফার এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ডিপার্টমেন্ট থেকে অনার্স-মাস্টার্স করা বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী লায়ন মো. আমিরুল হক এমরুল কায়েস। গত ৮ ফেব্রুয়ারি বাঁশখালী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় জোটের জনসভায় ছনুয়া থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতিও নিশ্চিত করেন তিনি। এমনকি জনসভায় আগত কর্মীদের ৫০০ পিছ নান্দনিক টি-শার্ট সরবরাহ করেন। তার ভক্ত-অনুরাগীদের ফোন করে দাঁড়িপাল্লায় ভোট প্রার্থনাও করেছেন এমরুল কায়েস।

উপকূলে আলোর প্রদীপ
লায়ন মো. আমিরুল হক এমরুল কায়েস এর জন্ম ছনুয়ার সম্ভ্রান্ত জমিদার পরিবার অলী মিয়া সিকদারপাড়ায়। উপকূলীয় জনপদ ছনুয়ার মানুষের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ছনুয়ায় প্রতিষ্ঠা করেছেন নিজের পিতার নামে ‘আলহাজ্ব মৌলভী নজরুল ইসলামপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়।’ এই বিদ্যালয়ের জন্য ১০০ শতক জমি দান করেছেন তিনি। এছাড়াও মায়ের নামে প্রতিষ্ঠা করেছেন শরীফা নজরুল মডেল মাদ্রাসা। এসব প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি উপকূলে নতুন জাগরণ সৃষ্টি করেছেন।

বন্দরনগরীতে শিক্ষার আলো
বাণিজ্যিক শহর চট্টগ্রামের স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অরবিট ক্রেডিট স্কুল অ্যান্ড কলেজ তার প্রতিষ্ঠিত; যে প্রতিষ্ঠানে ৫ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। এছাড়াও সুন্দর লেখা শিক্ষা ও চিত্রাঙ্কনের জন্য প্রসিদ্ধ ‘শরীফা আর্ট স্কুল ও শরীফা সুন্দর লেখা শেখার স্কুল’ তার প্রতিষ্ঠিত এবং তার সুন্দর ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়াও প্রকাশনা জগতে একধাপ এগিয়ে থেকে পাঠক মহলে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করা শরীফা প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী তিনি।
372 জন পড়েছেন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে বাঁশখালীতে উৎপাদিত চা পাতা