নিজস্ব প্রতিবেদক:
চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে লবণের মাঠে কাজ করার সময় এক চাষিকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করে লবণ লুট করে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাঁশখালী থানায় মামলাটি দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী লবণ চাষির ছেলে মো. দিদার হোসাইন।
মামলায় একই এলাকার চরপাড়ার মৃত কবির আহমদের ছেলে আব্দুল কাদের (২৫), মো. আজম প্রকাশ জমির (৪০) ও মো. মিজান (৩০) কে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে ছনুয়া ইউনিয়নের ২নম্বর ওয়ার্ডের চরপাড়া ও ছাদেক গং-এর স্বত্বভুক্ত লবণের মাঠে এ ঘটনা ঘটে। এঘটনায় আহতরা হলেন মোহাম্মদ হোছাইন (৫০) ও তার ছেলে মোহাম্মদ দিদার (২৭)। তারা লবণ মাঠে কাজ করার সময় অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আব্দুল কাদের, মো. আজম প্রকাশ জমির, মো. মিজান (৩০)সহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন পূর্বপরিকল্পিতভাবে দা, কিরিচ ও লোহার রড নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে লবণ চাষি মোহাম্মদ হোছাইন ও তার ছেলের ওপর হামলা করে। এতে মোহাম্মদ হোছাইনের মাথা, হাত ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। তাকে রক্ষা করতে গেলে তার ছেলে মোহাম্মদ দিদারও আঘাতপ্রাপ্ত হন। স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে গুরুতর অবস্থার কারণে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) রেফার করা হয় বলে জানা গেছে।এছাড়া, হামলার সময় লবণ মাঠে উৎপাদিত লবণ অভিযুক্তরা লুট করে নিয়ে যায় বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার সকালে উপজেলার ছনুয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মধুখালী চরপাড়া লবণের মাঠে এ ঘটনা ঘটে।
হামলায় গুরুতর আহত লবণ চাষি মোহাম্মদ হোছাইন (৪৫) ওই এলাকার জেবর মুল্লুকের ছেলে। তাকে প্রথমে বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলেও অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে মোহাম্মদ হোছাইন তার বর্গা নেওয়া লবণের মাঠে কাজ করতে যান। এ সময় ছনুয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রেজাউল হক চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত জমির উদ্দিনের নেতৃত্বে মিজান, কলিম উল্লাহ, নাছির ও আবদুল কাদের দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা সবাই একই ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের চরপাড়ার মৃত কবির আহমদের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা মোহাম্মদ হোছাইনকে কিরিচ ও লাঠিসোঁটা দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। এরপর বিক্রির জন্য মজুদ রাখা লবণ লুট করে নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগীর ছেলে মোহাম্মদ আকতার হোছাইন বলেন, আমার বাবা সকালে লবণের মাঠে গেলে তারা নির্বিচারে হামলে পড়ে। আমাদের মাথার ঘাম পায়ে ফেলে উৎপাদন করা লবণ লুট করে নিয়ে গেছে। ওরা রেজাউল হক চৌধুরীর প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে লবণ চাষিদের ওপর জুলুম করে আসছে। তাদের ভয়ে এলাকায় কেউ মুখ খুলতে পারে না।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বাঁশখালী উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ও ছনুয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রেজাউল হক চৌধুরী বলেন, জাতীয় নির্বাচনের পর থেকে আমি চট্টগ্রাম শহরের নিজ বাসায় অবস্থান করছি। এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।
বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খালেদ সাইফুল্লাহ বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে সম্ভাব্য স্থানে অভিযান চলনান রয়েছে।