☰

পরিকল্পনা ছিল স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার, দেশে ফিরতেই গ্রেপ্তার হারুন

মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পরিকল্পনা ছিল স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার, দেশে ফিরতেই গ্রেপ্তার হারুন দেশে ফিরতেই বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার ছনুয়ার সাবেক চেয়ারম্যান হারুন
নিজস্ব প্রতিবেদক, বাঁশখালী টুডে>>
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দীর্ঘদিন ছিলেন আত্নগোপনে। এক দেশ থেকে আরেক দেশে বদলেছেন ঠিকানা, বিদেশের মাটিতে গড়ে তুলেছিলেন ব্যবসা-বাণিজ্য। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই দীর্ঘ প্রবাসযাত্রার ইতি ঘটল দেশের মাটিতে পা রাখার মুহূর্তেই। বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হলেন চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার ছনুয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি এম. হারুনুর রশিদ (৫৮)।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

বাঁশখালী থানা পুলিশ জানায়, ছনুয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি আমান উল্লাহ ওরফে আনু হত্যা ও লাশ গুমের অভিযোগে করা মামলায় হারুনুর রশিদ আসামি। এছাড়া জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী বিভিন্ন ঘটনায় তার বিরুদ্ধে অর্ধ ডজন মামলা রয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আত্মগোপনে চলে যান হারুনুর রশিদ। প্রথমে গোপনে মালেশিয়ায় পাড়ি জমান তিনি। পরে সেখান থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দুবাই হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার দেশ মোজাম্বিকে গিয়ে অবস্থান নেন। সেখানে বসেই ব্যবসা-বাণিজ্যে যুক্ত হন। তবে বিদেশের মাটিতে দীর্ঘদিনের অবস্থানের পর আবারও দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। মঙ্গলবার থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক হয়ে বাংলাদেশে পৌঁছানোর পর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশের হাতে আটকা পড়েন তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ছনুয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি আমান উল্লাহ আনু হত্যা মামলায় ছনুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম. হারুনুর রশিদসহ ১০ আসামিকে ছয় সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময় শেষে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় চট্টগ্রাম চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ না করে সাগরপথে মালেশিয়ায় পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন হারুনুর রশিদ। তবে সে চেষ্টা ব্যর্থ হলে পরে তথ্য গোপন করে আকাশপথে মালেশিয়ায় পাড়ি জমান। সেখান থেকে কয়েক মাস দুবাইয়ে অবস্থানের পর পাড়ি জমান মোজাম্বিকে।
দীর্ঘদিন বিদেশে থাকার পর এবার দেশের রাজনীতির পালাবদলের স্রোতে আবারও ফিরে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি।

একটি সূত্র জানায়, সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করলে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন হারুনুর রশিদ। তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলো মোকাবিলা করে ছনুয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন তিনি। মোজাম্বিক থেকে নির্বাচনের মাঠে ফেরার যে পরিকল্পনা করেছিলেন, দেশে ফিরেই তা থমকে গেল বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন ফটকে।

বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল হক জানান, সাবেক চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ গ্রেপ্তারের খবর পাওয়ার পর বাঁশখালী থানা পুলিশের একটি দল ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। তিনি বলেন, হারুনুর রশিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা ও ৫ আগস্টের ঘটনাসহ ৬ থেকে ৭টি সুনির্দিষ্ট মামলা রয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে আরও কোনো মামলা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ২ আগস্ট বাঁশখালীর অনুসন্ধানী সাংবাদিক মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিনকে অপহরণ করে ছনুয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদের অনুগত সন্ত্রাসীরা। পরে হারুনের বাড়ি থেকে আহত অবস্থায় র‍্যাব ও পুলিশের সহযোগিতায় উদ্ধার করা হয় সাংবাদিক বেলালকে। এ ঘটনায় বাঁশখালী থানায় সাংবাদিক বেলাল উদ্দিন বাদী হয়ে হারুনুর রশিদের ৫ সহযোগীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিলেন।

এর আগে, ২০১৯ সালের ১২ ডিসেম্বর হারুনুর রশিদ বাদী হয়ে ঢাকা সাইবার ট্রাইন্যুনালে বেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলা করেছিলেন। এছাড়াও ২০২২ সালে হারুনুর রশিদের সহোদর আলমগীর কবির বাদী হয়ে বেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম সাইবার ট্রাইব্যুনালে আরও একটি মামলা করেন। সিআইডি ও পিবিআই দুই সহোদরের মামলায় বেলাল উদ্দিনকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতির জন্য আদালতে প্রার্থনা করে প্রতিবেদন দাখিল করেন। পরে আদালত মামলা দুটি খারিজ করে দেয়।
529 জন পড়েছেন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে বাঁশখালীতে উৎপাদিত চা পাতা