নিজস্ব প্রতিবেদক:
দীর্ঘদিন ধরে গ্রাম পুলিশ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মো. আবদুল আলী ওরফে আবদুল্লাহ চৌকিদার নিজের পেশাগত দুঃখ-কষ্টের কথা জানাতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন।
বুধবার (১৯ মে) বাঁশখালীর সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা জহিরুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এ আবেগঘন ঘটনার সৃষ্টি হয়।
জানা যায়, আবদুল আলী বাঁশখালীর পুকুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে দীর্ঘদিন ধরে গ্রাম পুলিশ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বুধবার অন্যান্য গ্রাম পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে তিনি এমপির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে নিজের কষ্টের কথা তুলে ধরেন।
এসময় আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমরা গ্রাম পুলিশরা যেন ‘লাথির হাট্টল’। কখন চেয়ারম্যান, মেম্বার, মহিলা মেম্বার, আবার কখন ফাঁড়ি কিংবা থানা থেকে ডাকা হয়, তার ঠিক নেই। রাত-বিরাতেও যেখানে ডাকে সেখানে যেতে হয়। কিন্তু কাজের তুলনায় আমরা কোনো সুযোগ-সুবিধা পাই না। আমাদের প্রতি আপনার সুদৃষ্টি দিতে হবে। আমাদের আর কেউ নেই।”
গ্রাম পুলিশ সদস্যের এমন বক্তব্যে উপস্থিতদের মধ্যেও আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
এসময় সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা জহিরুল ইসলাম বলেন, “আমি চেয়ারম্যান থাকাকালীন কখনও কোনো গ্রাম পুলিশকে আমার ব্যাগ বহন করতে দিইনি। নিজের ব্যাগ নিজেই বহন করেছি।”
তিনি আরও বলেন, “গতকাল (মঙ্গলবার) জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশনের জন্য আমি একটি প্রশ্ন জমা দিয়েছি। সেখানে গ্রাম পুলিশদের সুযোগ-সুবিধার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ইনশাআল্লাহ, জাতীয় সংসদে আমি আপনাদের বিষয় নিয়ে কথা বলবো।”
পরে আবদুল আলী নিজের অসুস্থতার কথাও এমপিকে জানান। এসময় এমপি তাকে নিজের ভিজিটিং কার্ড দিয়ে প্রয়োজন হলে অপারেশনের জন্য সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
সংসদ সদস্য আরও বলেন, “গ্রাম পুলিশদের দুঃখ-কষ্ট আমি বুঝি। কারণ আমিও একসময় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলাম।”