বাঁশখালী টুডে ডেস্ক:
বাঁশখালীতে জমি দখল, জাল কাগজপত্র তৈরি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রতারণার অভিযোগে শফকত হোসাইন চাটগামী (৪৫) নামের এক সাংবাদিকসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ আইনে মামলা হয়েছে। এতে আইনের দণ্ডবিধির ৪ (১) (ক) (২), ৭ (২) (৩) এবং ৫০৬ (২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে বাঁশখালী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বাদী হয়ে ছলিমা বেগমের পক্ষে আমমোক্তার নামা মূলে নিযুক্ত আমমোক্তার সাঈদ নুর সিদ্দিক মামলাটি করেছেন। আদালতের বিচারক আবদুল হামিদ মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর চট্টগ্রাম জেলা ইউনিটকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
ছলিমা বেগম বৈলছড়ি ইউনিয়নের চেচুরিয়া গ্রামের মৃত এজাহার মিয়ার কন্যা। অপরদিকে সাঈদ নুর সিদ্দিক বাঁশখালী পৌরসভার উত্তর জলদী গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে।
মামলার আসামিরা হলেন— গণ্ডামারা ইউনিয়নের পশ্চিম বড়ঘোনা গ্রামের মৃত রৌশন আলীর ছেলে শফকত হোসাইন চাটগামী (৪৫), জঙ্গল জলদী আমিরাঘোনা এলাকার মৃত মো. ফরিদের ছেলে নজরুল ইসলাম (৩৫), বদি আহমদের ছেলে মোহাম্মদ ইসলাম (৪২), মৃত খলিলুর রহমানের স্ত্রী ফরিদা খানম (৫০), ছেলে ছমিদুল হক (৩২), মৃত ফরিদের স্ত্রী জাহানারা বেগম (৫০), মৃত বদিউর রহমানের ছেলে নন্না মিয়া (৪৮) ও মৃত এজাহার মিয়ার ছেলে তৈয়ব মিয়া (৪৮)।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, মামলায় বাদী ছলিমা বেগম তাদের পৈতৃক ও ওয়ারিশসূত্রে প্রাপ্ত জমি দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে থাকলেও অভিযুক্তরা বিভিন্ন সময়ে জাল বিএস খতিয়ান ও কাগজপত্রের মাধ্যমে জমির মালিকানা দাবি করে দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছেন।
মামলার এজাহারে অভিযুক্তদের মধ্যে শফকত হোসাইন চাটগামীকে এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, তিনি তার প্রভাব খাটিয়ে সংঘবদ্ধভাবে জমি দখলের চেষ্টা, হুমকি-ধমকি এবং ভুক্তভোগীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছেন। বাধা দিলে প্রাণনাশের হুমকিসহ লাঠিসোঁটা ও লোহার রড নিয়ে হামলার ভয় দেখানো হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
বাদীর দাবি, অভিযুক্তরা মিথ্যা মালিকানা দাবি করে আদালতে বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপনের চেষ্টা করছেন এবং প্রকৃত মালিকদের জমি থেকে উচ্ছেদের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ ঘটনায় পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। মামলায় আদালতের কাছে অভিযোগগুলো তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিচার চাওয়া হয়েছে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী সাদমান মেহজাবিন বলেন, দীর্ঘ শুনানির পর আদালত মামলাটি গ্রহণ করে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার প্রধান আসামি শফকত হোসাইন চাটগামী দৈনিক খবরের কাগজ ও দৈনিক সাঙ্গু পত্রিকার বাঁশখালী প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত আছেন।
অভিযোগ প্রসঙ্গে শফকত হোসাইন চাটগামী বলেন, ‘সাবেক এমপি মোস্তাফিজ আমল থেকে যেই মামলা হামলা আমাদের উপর চলছিল এটি তার নতুন রুপ মাত্র। এসব ভূয়া হাস্যকর মামলায় আমাদের কিছুই হবে না। সবচেয়ে বড় বিষয়টি হচ্ছে মামলার বাদী পক্ষের কাছ থেকে আমার খরিদা মসজিদের জায়গা দখল বুঝিয়ে না দিয়ে উল্টো আমাকে ১নং বিবাদী করেছে। গ্রামের অনেক লোককে বিবাদী করেছে। এখন এলাকাবাসীই এই মামলা মোকাবেলা করবে ইনশাআল্লাহ। শত্রুরা খুশি হলেও এই মামলা প্রমাণ করতে পারবে না। বিজয় আমাদেরই হবে। কারণ, এর আগে হাইকোর্টসহ সবকিছুতে আমরাই জিতে এসেছি আলহামদুলিল্লাহ।’