☰

বাঁশখালীতে কমিটি নিয়ে বিরোধ: মসজিদের ইমামকে কামড় দেওয়ার অভিযোগ সহ-সভাপতির বিরুদ্ধে

মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
বাঁশখালীতে কমিটি নিয়ে বিরোধ: মসজিদের ইমামকে কামড় দেওয়ার অভিযোগ সহ-সভাপতির বিরুদ্ধে বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ইনসেটে আহত মাওলানা আবদুল আখের— ছবি বাঁশখালী টুডে
নিজস্ব প্রতিবেদক, বাঁশখালী টুডে:
বাঁশখালীতে মসজিদ-মাদ্রাসার কমিটি নিয়ে বিরোধের জেরে মাওলানা আবদুল আখের (৪৬) নামের এক মসজিদের ইমামকে মারধর ও হাতে কামড় দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতার ছেলের বিরুদ্ধে। 

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে দক্ষিণ সরল আল্লামা সিকান্দার শাহ্ (রহ.) ইসলামী কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত কাশেম উল্লাহ মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা মরহুম মাওলানা সিকান্দার শাহ্ (রহ.)-এর ছেলে এবং বর্তমানে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি।
আহত ইমাম মাওলানা আবদুল আখেরকে বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০০ সালে মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা সিকান্দার শাহ্ (রহ.) মৃত্যুবরণ করেন। জীবদ্দশায় তিনিই মসজিদ-মাদ্রাসাটি পরিচালনা করতেন। তাঁর মৃত্যুর পর ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ছেলে তৈয়ব উল্লাহ প্রতিষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন।

পরবর্তীতে মসজিদের জমিদাতারা বৈঠক ডেকে প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ের হিসাব চাইলে তৈয়ব উল্লাহ তা দিতে ব্যর্থ হন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর ২০০৬ সালের জুন মাসে এলাকাবাসী মাওলানা সিকান্দার শাহ্ (রহ.)-এর বড় ছেলেকে সভাপতি করে নতুন পরিচালনা কমিটি গঠন করে, যা ২০২০ সাল পর্যন্ত বহাল ছিল।

অভিযোগ রয়েছে, ২০২০ সালে কাশেম উল্লাহ ও তৈয়ব উল্লাহ জোরপূর্বক মসজিদ-মাদ্রাসার নিয়ন্ত্রণ নেন। তারা ২০২০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করলেও কোনো হিসাব-নিকাশ প্রকাশ করেননি।

মসজিদ-মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি মো. সিরাজউদ্দৌলা বলেন, “প্রায় এক বছর আগে কমিটির সর্বসম্মতিক্রমে মাওলানা আবদুল আখেরকে ইমাম ও খতিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে শুরু থেকেই কাশেম উল্লাহ তাঁর ইমামতিতে অসন্তুষ্ট ছিলেন। মঙ্গলবার সকালে ইমাম সাহেব আমাকে ফোন করে জানান, কাশেম উল্লাহ তাকে মসজিদের ছাদে থাকা ট্যাংকের পানি ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে কাশেম উল্লাহ তাকে মারধর করেন এবং হাতে কামড় দেন।”

ভুক্তভোগী মাওলানা আবদুল আখের বলেন, “আমাকে নিয়োগ দেওয়ার পর থেকেই কাশেম উল্লাহ বলে আসছেন, আমি এই মসজিদে চাকরি করতে পারব না। তিনি নিজেই ইমামতি করতে চান। আমি ছুটিতে গেলে তিনি জোর করে ইমামতি করার চেষ্টা করেন। কিন্তু মুসল্লিরা তাঁর ইমামতিতে নামাজ পড়তে রাজি হন না।”

তিনি আরও বলেন, “কিছুদিন আগে মাদ্রাসার হাফেজ ও শিক্ষার্থীদের আমার সঙ্গে কথা বলতে নিষেধ করা হয়। আজ হঠাৎ আমাকে বলা হয়, পাইপের পানি ব্যবহার করা যাবে না। আমি বিষয়টি কমিটির কাছে বিচার দিয়েছিলাম। কিন্তু কোনো সিদ্ধান্ত হওয়ার আগেই বলা হয়, এখানে কিছুই ব্যবহার করতে পারব না, সবকিছু নাকি তাদের। তখন আমি বলি, এগুলো তো মানুষের সদকায়ে জারিয়ার দান। এরপর আমাকে মারধর করা হয় এবং হাতে কামড় দেওয়া হয়।”

অভিযোগ অস্বীকার করে কাশেম উল্লাহ বলেন, “আমার বাবা তিলে তিলে এই প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। অথচ বর্তমান কমিটিতে আমাদের রাখা হয়নি। কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন রেজুলেশনে আমার কোনো স্বাক্ষরও নেই।”

ইমামের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, “তিনি অজুর জন্য নির্ধারিত পাইপের পানি দিয়ে হাঁড়ি-পাতিল ধুচ্ছিলেন। আমি শুধু বলেছি, এই পানি অজুর জন্য। তখন তিনি আমাকে মারতে উদ্যত হন। আমি তাকে মারধর করিনি। সেখানে একটি পিলার আছে, তিনি ধাক্কা খেয়ে পড়ে গেছেন।”
520 জন পড়েছেন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে বাঁশখালীতে উৎপাদিত চা পাতা