নিজস্ব প্রতিবেদক, বাঁশখালী টুডে:
বাঁশখালীর ১১নং পুঁইছড়ি ইউনিয়নকে বিভক্ত করে পৃথক “১১নং (ক) পূর্ব পুঁইছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ” গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন চট্টগ্রামের কর আইনজীবী আবদুর রাজ্জাক রাজু। তিনি স্থানীয় সরকার বিভাগের কাছে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ভৌগোলিক আয়তন, জনসংখ্যা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমের দিক থেকে ১১নং পুঁইছড়ি ইউনিয়ন একটি বৃহৎ ইউনিয়ন। দীর্ঘদিন ধরে পূর্ব পুঁইছড়ি এলাকার জনগণ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, অবকাঠামো উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং স্থানীয় সরকার সেবার ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে। ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় থেকে দূরত্ব এবং প্রশাসনিক জটিলতার কারণে অনেক নাগরিক সেবা গ্রহণেও ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়।
আবদুর রাজ্জাক রাজু বলেন, জনগণের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিতকরণ, সুষম উন্নয়ন এবং কার্যকর স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বর্তমান ইউনিয়নকে বিভক্ত করে পৃথক “পূর্ব পুঁইছড়ি ইউনিয়ন” গঠন সময়ের দাবি।
তিনি স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর উল্লেখ করে বলেন, জনস্বার্থে সরকার ইউনিয়নের সীমানা পরিবর্তন, পুনর্গঠন কিংবা নতুন ইউনিয়ন গঠনের ক্ষমতা রাখে। জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট কারিগরি কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে নতুন ইউনিয়ন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব।
প্রস্তাবে নতুন ইউনিয়ন গঠনের পক্ষে কয়েকটি যৌক্তিক কারণ তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বর্তমান ইউনিয়নের অতিরিক্ত ভৌগোলিক বিস্তৃতি, জনসংখ্যার চাপ, উন্নয়ন বৈষম্য দূরীকরণ, নাগরিক সেবা সহজীকরণ, স্থানীয় নেতৃত্বের বিকাশ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করা।
প্রস্তাবিত ইউনিয়নের নাম “১১নং (ক) পূর্ব পুঁইছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ” নির্ধারণের পাশাপাশি পূর্ব পুঁইছড়ি অঞ্চলের সংশ্লিষ্ট মৌজা, গ্রাম ও ওয়ার্ডসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত সীমানা জনমত ও প্রশাসনিক জরিপের ভিত্তিতে নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া যোগাযোগ সুবিধাসম্পন্ন কেন্দ্রীয় স্থানে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় স্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে।
দাবিসমূহের মধ্যে রয়েছে পূর্ব পুঁইছড়িকে পৃথক ইউনিয়ন ঘোষণার সম্ভাব্যতা জরিপ পরিচালনা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তদন্ত ও সুপারিশ প্রেরণ, গণশুনানি আয়োজন, সীমানা নির্ধারণে বিশেষ কমিটি গঠন এবং দ্রুত গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে নতুন ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠা।
আবদুর রাজ্জাক রাজু বলেন, “জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে হলে প্রশাসনকে জনগণের আরও নিকটে আনতে হবে। বৃহৎ ১১নং পুঁইছড়ি ইউনিয়নকে বিভক্ত করে ‘পূর্ব পুঁইছড়ি ইউনিয়ন’ প্রতিষ্ঠা শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, এটি পূর্ব পুঁইছড়িবাসীর দীর্ঘদিনের ন্যায্য অধিকার, সুষম উন্নয়ন ও কার্যকর স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন।”
এ দাবির সমর্থনে তিনি কয়েকটি স্লোগানও তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে— “উন্নয়নের স্বার্থে, জনসেবার তাগিদে— চাই পৃথক পূর্ব পুঁইছড়ি ইউনিয়ন”, “পূর্ব পুইছড়ির অধিকার, পৃথক ইউনিয়ন এবার” এবং “বৈষম্য নয়, সমান উন্নয়ন চাই— পূর্ব পুইছড়ি ইউনিয়ন গঠন চাই”।