☰

স্থানীয় নির্বাচনে তরুণদের উত্থান: বদলে দিতে পারে উন্নয়নের গতিপথ

সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্থানীয় নির্বাচনে তরুণদের উত্থান: বদলে দিতে পারে উন্নয়নের গতিপথ ফাইল ছবি
হাফিজুর রহমান হিরো>>
আধুনিক যুগে তারুণ্যের প্রভাব চোখে পড়ার মতো, তরুণতুর্কীরা বিশ্ব জয় করছে, বিভিন্ন সেক্টরে তাদের মেধা, মনন, জ্ঞান-বিজ্ঞান ও  প্রযুক্তির সমন্বয়ের আধুনিক বিশ্বকে যুগোপযোগী করার জন্য প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। 

তারুণ্য শুধু বয়সের একটি সীমারেখা নয়; তারুণ্য হলো স্বপ্ন দেখার সাহস, স্বপ্ন পূরণের তীব্র আকাঙ্খা, নতুন কিছু করার অভিলাষ, পরিবর্তনের প্রত্যয় এবং ভবিষ্যৎকে নিজের মতো করে গড়ে তোলার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা। পৃথিবীর প্রতিটি বৈপ্লবিক পরিবর্তনের পেছনে কোনো না কোনোভাবে তরুণদের চিন্তা-চেতনা, শ্রম-ঘাম, ত্যাগ তিতিক্ষা ও দূরন্তপনা ও অসীম সাহস জড়িয়ে আছে । তাই সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় নেতৃত্বেও তারুণ্যের অংশগ্রহণ একটি সারাদেশে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় নির্বাচন মানুষের সবচেয়ে কাছের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা। জাতীয় রাজনীতিতে বৃহৎ ব্যাপ্তিতা ও আদর্শ নীতির পাশাপাশি একজন সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে স্থানীয় নেতৃত্বের সম্পর্ক সবচেয়ে বেশি। একটি ভালো রাস্তা, নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিদ্যালয়ের উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা, সুপেয় পানি, কৃষি ও মৎস্যের বিকাশ, কর্মসংস্থান কিংবা দুর্যোগ মোকাবিলা-অন্যদিকে অন্যায়, অবিচার, দূর্নীতি, অনিয়ম, চুরি-ডাকাতি, রাহাজানি, মাদকাসক্ত, যৌক্তিক ও বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক ব্যাধি থেকে মুক্তি ও উত্তোরণের একমাত্র সাহয়ক সিঁড়ি তারুণ্য তথা তরুণ নেতৃত্ব।  তরুণরা সাহসিকতা ও বিচক্ষণতার সাথে বর্তমান সময়ের জটিল সব সমস্যা সমাধানে ঝাপিয়ে পড়ে, বার্ধক্য কখনো অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে না।

এসব বাস্তব সমস্যার সমাধান স্থানীয় নেতৃত্বের কার্যকর ভূমিকার ওপর অনেকটাই নির্ভর করে।

এখানেই তরুণ প্রার্থীদের সামনে তৈরি হয় নতুন সম্ভাবনা। আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে বেড়ে ওঠা তরুণ প্রজন্ম তথ্যপ্রযুক্তি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে মানুষের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করতে পারে। তারা স্থানীয় সমস্যাগুলোকে নতুন দৃষ্টিতে দেখতে পারে এবং প্রচলিত পদ্ধতির পাশাপাশি নতুন সমাধানের চিন্তা করতে পারে। একটি ইউনিয়ন বা ওয়ার্ডের উন্নয়ন পরিকল্পনাকে যদি তথ্যভিত্তিক, স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক করা যায়, তাহলে স্থানীয় সরকারব্যবস্থায়ও পরিবর্তনের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে।

তবে শুধু তরুণ হলেই কেউ ভালো জনপ্রতিনিধি হয়ে উঠবেন-এমন নিশ্চয়তা নেই। বয়সের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো যোগ্যতা, সততা, মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা, নেতৃত্বের দক্ষতা, বাস্তব সমস্যা বোঝার ক্ষমতা এবং জনগণের কাছে জবাবদিহি করার মানসিকতা। তরুণ প্রার্থীর সবচেয়ে বড় শক্তি হতে পারে তার উদ্যম; কিন্তু সেই উদ্যমকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে প্রয়োজন অভিজ্ঞতা, প্রজ্ঞা ও দায়িত্ববোধ।

অন্যদিকে অভিজ্ঞ নেতৃত্বের অবদানও অস্বীকার করার সুযোগ নেই। দীর্ঘদিনের সামাজিক ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা স্থানীয় বাস্তবতা বুঝতে সহায়তা করে। তাই বিষয়টিকে ‘তরুণ বনাম বার্ধক্য’ হিসেবে দেখার পরিবর্তে ‘অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের সমন্বয়’ হিসেবে দেখা অধিক অর্থবহ মনে হয়। প্রবীণের অভিজ্ঞতা এবং তরুণের উদ্ভাবনী চিন্তা যদি একই লক্ষ্যে কাজ করে, তাহলে একটি এলাকার উন্নয়ন আরও সুসংগঠিত হতে পারে।

 তরুণরা শুধু আগামী দিনের নেতৃত্ব নয়; তারা আজকের সমাজেরও সক্রিয় অংশীদার। তাদের মধ্যে কেউ উদ্যোক্তা, কেউ শিক্ষক, কেউ কৃষক, কেউ প্রযুক্তিবিদ,  কেউ না দূরদেশের রেমিট্যান্স যোদ্ধা, কেউ সামাজিক সংগঠক—অর্থাৎ সমাজের বিভিন্ন স্তরে তারুণ্যের উপস্থিতি রয়েছে। নির্বাচনে তাদের অংশগ্রহণ সেই সামাজিক শক্তিকে প্রাতিষ্ঠানিক নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্ত করার একটি সুযোগ তৈরি করে।

তবে নির্বাচনের সময় প্রার্থীর বয়সের চেয়ে তার কর্মপরিকল্পনা, চরিত্র, যোগ্যতা ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতাকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। কারণ একটি ভোট শুধু একজন ব্যক্তিকে নির্বাচিত করে না; সেই ভোটের মাধ্যমে একটি এলাকার আগামী দিনের পথচলার দায়িত্বও অর্পিত হয়।

“তরুণ প্রার্থী নাকি অভিজ্ঞ প্রার্থী?”-এতে সীমাবদ্ধ নয়। বরং প্রশ্ন হওয়া উচিত-কে মানুষের কথা শুনবেন, কে বাস্তব সমস্যার সমাধান খুঁজবেন, কে উন্নয়নের জন্য সুস্পষ্ট পরিকল্পনা দেবেন এবং কে জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে প্রস্তুত?

তারুণ্য যখন জ্ঞান, সততা, অভিজ্ঞতা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে মিলিত হয়, তখন সেটিই হয়ে ওঠে সমাজ পরিবর্তনের সবচেয়ে শক্তিশালী সম্ভাবনা। তারুণ্যের হাত ধরে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।  আগামীর বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি হবে তারুণ্য নির্ভর রাষ্ট্র ও সমাজ ব্যবস্থা।

লেখক: তরুণ রাজনীতি বিশ্লেষক।
309 জন পড়েছেন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে বাঁশখালীতে উৎপাদিত চা পাতা