☰

সাবেক চেয়ারম্যানের ষড়যন্ত্র: ছনুয়ার সমাজসেবক লায়ন আমিরুল হক গ্রেপ্তার, নিন্দার ঝড়

রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬
সাবেক চেয়ারম্যানের ষড়যন্ত্র: ছনুয়ার সমাজসেবক লায়ন আমিরুল হক গ্রেপ্তার, নিন্দার ঝড় সমাজসেবক লায়ন মো. আমিরুল হক— ফাইল ছবি
নিজস্ব প্রতিবেদক, বাঁশখালী টুডে:
ছনুয়া উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি ও সমাজসেবক লায়ন মো. আমিরুল হককে গ্রেপ্তার করেছে চান্দগাঁও থানা পুলিশ। শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে চান্দগাঁও থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল সাদা পোশাকে জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে চান্দগাঁও থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলার ৮৪ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সাবেক চেয়ারম্যানের ষড়যন্ত্র, এজাহারে নাম নিয়ে প্রশ্ন

এদিকে, আমিরুল হকের পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না। বরং দীর্ঘদিন ধরে অরাজনৈতিক ও সেবামূলক সংগঠন ছনুয়া উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি হিসেবে এলাকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কারণে এক সাবেক চেয়ারম্যান তার প্রতি ক্ষুব্ধ ছিলেন। তাদের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই তাকে আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট হিসেবে মামলায় জড়ানো হয়েছে।
এছাড়া মামলার এজাহারে ‘মো. ইমরুল কায়েস’ নাম উল্লেখ থাকলেও জাতীয় পরিচয়পত্রে তার নাম ‘মো. আমিরুল হক’ বলে দাবি করেছেন স্বজনরা। বিষয়টি নিয়েও এলাকায় নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

জামিন নামঞ্জুর, কারাগারে প্রেরণ

রোববার (৫ জুলাই) চট্টগ্রাম চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১-এ তার পক্ষে জামিন আবেদন করা হলে আদালত তা নামঞ্জুর করেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

আমিরুল হকের স্ত্রী অধ্যক্ষ জেসমিন সোলতানা রিভা বলেন, “আমার স্বামী কখনো রাজনীতি করেননি। তিনি মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন। আমরা ন্যায়বিচার চাই এবং প্রয়োজন হলে উচ্চ আদালতে যাব।”

ছনুয়া উন্নয়ন পরিষদের বিবৃতি

আমিরুল হকের গ্রেপ্তারের নিন্দা ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে বিবৃতি দিয়েছে ছনুয়া উন্নয়ন পরিষদ।

সংগঠনের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সাংবাদিক বেলাল উদ্দিন বলেন, “তিনি চেয়ারম্যান না হয়েও এলাকার রাস্তা, কালভার্ট, যাত্রী ছাউনি, সাঁকোসহ নানা উন্নয়নমূলক কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাকে আওয়ামী লীগের ট্যাগ দিয়ে গ্রেপ্তার করা অত্যন্ত দুঃখজনক। জুলাই আন্দোলনে আহত অনেককেই তিনি চিকিৎসা সহায়তা দিয়েছেন। আমরা তার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছি।”

এইচএসসি পরীক্ষার্থী কন্যা, পিতার গ্রেপ্তারে আহাজারি

চলমান এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী আমিরুল হকের জ্যেষ্ঠ কন্যা তাজকিয়া আমির তার পিতার গ্রেপ্তারে ভেঙে পড়েছে। এতে করে তার লেখাপড়ায় বড় একটি প্রভাব পড়েছে। তাসাপ্পি আমির তার বাবার মুক্তি চেয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিন্দার ঝড়

চট্টগ্রামের স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অরবিট ক্রেডিট স্কুল অ্যান্ড কলেজ, শরীফা আর্ট স্কুল, শরীফা সুন্দর লেখা শেখার স্কুল, ছনুয়া মৌলভী নজরুল ইসলামপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়, ছনুয়া শরীফা-নজরুল মডেল মাদ্রাসা এবং শরীফা প্রকাশনীর প্রতিষ্ঠাতা লায়ন মো. আমিরুল হকের গ্রেপ্তারের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

সাবেক শিবির নেতা কাজী মুহিব উল্লাহ লিখেছেন, “ইমরুল কায়েস ভাইয়ের নিঃশর্ত মুক্তি চাই। তিনি একজন শিক্ষিত, মার্জিত, নিরহংকার ও স্বেচ্ছাসেবী মানুষ। দল-মত নির্বিশেষে একজন ভালো মানুষের পক্ষে সবাইকে দাঁড়ানো উচিত।”

একুশে ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা শামিম উল্লাহ আদিল লিখেছেন, “তিনি একজন সমাজসেবী, শিক্ষানুরাগী ও মানবিক মানুষ। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে ছবি থাকলেই কেউ অপরাধী হয়ে যায় না। জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত একটি মহল তাকে হয়রানির চেষ্টা করছে। আমি তার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছি।”

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমন্বয়কারী সদস্য শাহেদুল আলম সিকদার তার ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে লিখেছেন, “আমিরুল হক একজন শিক্ষিত, মার্জিত, নিরহংকার ও পরোপকারী মানুষ। দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে একজন ভালো মানুষের পক্ষে কথা বলা আমাদের দায়িত্ব। তার বিরুদ্ধে অন্যায় হলে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা উচিত।”

কুয়েত প্রবাসী নাসির উদ্দীন লিখেছেন, “আমির ভাইয়ের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে আমার ধারণা রয়েছে। আমার জানা মতে, তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না। তিনি একজন পরোপকারী মানুষ এবং এলাকার উন্নয়নে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। আমি তার মুক্তি দাবি করছি।”
681 জন পড়েছেন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে বাঁশখালীতে উৎপাদিত চা পাতা