বৈকুণ্ঠধামে রূপ নিয়েছে বাণীগ্রাম জগন্নাথধাম!

বুধবার, ২০ মে ২০২৬
বৈকুণ্ঠধামে রূপ নিয়েছে বাণীগ্রাম জগন্নাথধাম! মৃদঙ্গ-জুড়ির উত্তাল ঝংকার ও বাঁশি-বেলার মেলবন্ধন— ছবি বাঁশখালী টুডে।
অভি পাল, বাঁশখালী টুডে:
মৃদঙ্গ ও জুড়ির উত্তাল ঝংকার, হারমোনিয়ামের মিষ্টি সুর আর বাঁশি ও বেলার (বেহালা) মেলবন্ধনে বাণীগ্রামের আকাশ-বাতাস যেন আজ একাকার, সুরের প্রতিটি লহড়ীতে আজ জীবন্ত হয়ে উঠেছে সাক্ষাৎ বৈকুণ্ঠধাম!

বুধবার (২০ মে) যুগাবতার শ্রীমৎ স্বামী অদ্বৈতানন্দ পুরী মহারাজের ১২৩তম আবির্ভাব উৎসবের দ্বিতীয় দিনে বাঁশখালীর বাণীগ্রাম শ্রীশ্রী জগন্নাথধাম রূপ নিয়েছে এক অলৌকিক ভাবসমুদ্রে। অদ্বৈত-অচ্যুত ধামের মোহন্ত মহারাজ শ্রীমৎ দেবদীপ মিত্র চৌধুরী (পুরী)-র দিব্য ও জ্যোতির্ময় পৌরোহিত্যে ভোরের মাঙ্গলিক উপাচার শেষ হতেই শুরু হয় পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃণের সেই যুগান্তকারী নাম ও লীলাসংকীর্তন। 

দেশের প্রথিতযশা কীর্তনীয়াদের কণ্ঠ থেকে নিঃসৃত সুমধুর সুরালাপ আর বাদ্যযন্ত্রের এই অপূর্ব যুগলবন্দীর অমোঘ আকর্ষণে উপস্থিত হাজারো ভক্তের চোখের কোণ বেয়ে বইছে আনন্দের অশ্রুধারা—কেউ পরম আবেশে দু'হাত তুলে নাচছেন, আবার কেউবা স্তব্ধ হয়ে হারিয়ে গেছেন এই অলৌকিক আধ্যাত্মিক পরমানন্দে, যা পুরো ধাম প্রাঙ্গণকে এক অপার্থিব সৌন্দর্যে মুড়িয়ে দিয়েছে।

কীর্তনের এই জাদুকরী সুরের টান যত বাড়ছে, বাণীগ্রামের পুণ্য অঙ্গনে ভক্তের ঢলও ততটাই আছড়ে পড়ছে—যেদিকেই চোখ যায়, শুধুই ভাববিহ্বল মানুষের এক মহাসমুদ্র, যেখানে সমস্ত বিভেদ ভুলে সবাই একাকার হয়ে গেছে। উৎসব উদযাপন পরিষদের নিখুঁত ও রাজকীয় ব্যবস্থাপনায় এই বিপুল ভক্তকুলের জন্য একদিকে যেমন অবিরাম চলছে সুধাময় কীর্তন আস্বাদন, অন্যদিকে তেমনি দিনভর অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে পরিবেশন করা হচ্ছে অমৃতময় মহাপ্রসাদ। পুরো এলাকায় এখন কেবলই এক স্বর্গীয় আনন্দের আমেজ এবং হরিনামের জয়ধ্বনি।

উৎসব কমিটির সভাপতি শ্রী ঋত্বিক চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক শ্রী সমিত দে গভীর আবেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, আগামীকাল বৃহস্পতিবার সমাপনী দিবসের বিশেষ আয়োজন ও মহোৎসবের মধ্য দিয়ে এই পুণ্য তিথির সমাপ্তি ঘটবে; আর তাই আজকের এই ঐশ্বরিক কীর্তনের আঙিনায় জীবনের পরম শান্তি ও ভক্তি সুধা খুঁজে নিতে তাঁরা সর্বস্তরের ভক্তপ্রাণ জনতাকে বুকভরা ব্যাকুলতায় আহ্বান জানিয়েছেন।
115 জন পড়েছেন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে বাঁশখালীতে উৎপাদিত চা পাতা