বাঁশখালী থেকে প্রিন্ট পত্রিকা প্রকাশিত না হওয়ার কারণ কী?

  • ১৮ অক্টোবর ২০২৫
বাঁশখালী থেকে প্রিন্ট পত্রিকা প্রকাশিত না হওয়ার কারণ কী? বাঁশখালী টুডে

মানব সভ্যতায় ইতিহাস ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ধারক বাহক হিসেবে ছাপা পত্রিকার ভূমিকা অনন্য অসাধারণ। কিন্তু অনলাইন মাধ্যম আসার পর থেকে বিজ্ঞাপন সংকুচিত হওয়ায় অনেক প্রিন্ট পত্রিকা বন্ধ হয়ে গেছে। এরপরেও পাঠকপ্রিয়তার কারণে এখনো বের হচ্ছে ছাপা পত্রিকা।

আবার অনেকেই ক্ষতি কমাতে সার্কুলেশন কমিয়ে দিয়েছে। অব্যাহত গতিতে কাটতি পড়া, বিজ্ঞাপন কম, সেইসাথে পাঠকরাও অনলাইনে ভাগ হয়ে যাওয়ায় এমনটা ঘটছে বলে অভিমত সংশ্লিষ্টদের।

৩৯২ বর্গকিলোমিটারের বৃহৎ উপজেলা বাঁশখালী। এই উপজেলা থেকে কোনও দৈনিক পত্রিকা প্রকাশিত না হলেও বেশ কয়েকটি সাপ্তাহিক পত্রিকা চালু ছিল। কালের বিবর্তনে সেসব পত্রিকা বন্ধ হয়ে গেছে।

২০০০ সালে বাঁশখালীর প্রবীণ সাংবাদিক কল্যাণ বড়ুয়া মুক্তার সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় ‘আজকের বাঁশখালী’। তবে তা দীর্ঘ সময় চালু ছিল না। বর্তমানে ওই পত্রিকার অনলাইন ভার্সন চালু আছে।

পরবর্তীতে ২০১০ সালে বাঁশখালীর আরেক প্রবীণ সাংবাদিক শফকত হোসাইন চাটগামীর সম্পাদনায় বাজারে আসে ‘বাঁশখালীর খবর’ নামের আরও একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা। অল্প সময়ে পত্রিকাটি বাঁশখালীতে হাজার হাজার পাঠকের প্রিয় পত্রিকা হিসেবে আলোড়ন সৃষ্টি করে। তবে বিজ্ঞাপনের বাজার সংকুচিত হওয়ার কারণে পত্রিকাটিও বেশিদিন টিকতে পারেনি। ২০২০ সালে অর্থ সংকটে বন্ধ হয়ে যায় বাঁশখালীর পত্রিকা ‘সাপ্তাহিক বাঁশখালীর খবর।’

সাপ্তাহিক বাঁশখালীর খবর পত্রিকার সম্পাদক সাংবাদিক শফকত হোসাইন চাটগামী বাঁশখালী টুডেকে বলেন, ‘২০১০ সালে হাঁটি হাঁটি পা পা করে বাঁশখালীর খবর পত্রিকাটি চালু করি। বিজ্ঞাপনের বাজার সংকুচিত হওয়ায় আর্থিক সংকটের মধ্যে করোনাকালীন সময়ে অর্থাৎ ২০২০ সালে পত্রিকাটি ছাপা বন্ধ হয়ে যায়। কেউ বিজ্ঞাপন অথবা আর্থিক জোগান দিলে পত্রিকাটি বের করা সম্ভব হতো।’

অপরদিকে ২০১৩ সালে ডামাডোল পিটিয়ে বাজারে আসে ‘সাপ্তাহিক বাঁশখালী সমাচার’। এই পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক ছিলেন সাংবাদিক মুহিব্বুল্লাহ ছানুবী। কয়েক সংখ্যা ছাপানোর পর সেটিও বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে বাঁশখালীতে ‘প্রিয় বাঁশখালী’ নামে একটি মাসিক ম্যাগাজিন বাজারে আসে। কাজী শাহরিয়ার সম্পাদিত ওই জনপ্রিয় ম্যাগাজিন আর্থিক সংকটের মধ্যে ২০২০ সালে বন্ধ হয়ে যায়। তবে কর্তৃপক্ষ ওই ম্যাগাজিনটি আবার চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে বলে জানান প্রিয় বাঁশখালী’র সম্পাদনা সহযোগী সাংবাদিক শিব্বির আহমেদ রানা।

২০১৫ সালে শাহ্ মোহাম্মদ শফি উল্লাহ’র সম্পাদনায় মাসিক আলোকিত বাঁশখালী নামে একটি পত্রিকা বের হয়। যে পত্রিকাটি ছিল বাঁশখালীর একমাত্র মাসিক মুখপাত্র। তবে পত্রিকাটি নিয়মিত ছাপা হতো না। পরে ২০১৮ সালের দিকে পত্রিকাটিরও ছাপা বন্ধ হয়ে যায়। ২০১৬ সালে মোহাম্মদ ছৈয়দুল আলমের সম্পাদনায় পাক্ষিক বাঁশখালীর জনতা নামের আরও একটি পত্রিকা প্রকাশিত হয়। তবে বেশিদিন পত্রিকাটি স্থায়ী হতে পারেনি। ২০১৮ সালে এই পত্রিকাটি ছাপা বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়াও ‘মাসিক আলোছায়া’ নামের আরও একটি পত্রিকা প্রকাশিত হতো এই উপজেলা থেকে। পত্রিকাটির সম্পাদক ও প্রকাশক ছিলেন সাংবাদিক এনামুল হক রাশেদী। তবে সে পত্রিকাটিও বেশিদিন বাজারে স্থায়ী হয়নি।

সচেতন মহল মনে করেন, ছাপা পত্রিকাগুলো ইতিহাসের ধারক বাহক। চট্টগ্রামের পঞ্চম বৃহৎ উপজেলা বাঁশখালীতেও প্রিন্ট পত্রিকা চালু করা প্রয়োজন। এ জন্য বাঁশখালীর গন্যমান্য ব্যক্তিদের উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

32 জন পড়েছেন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে বাঁশখালীতে উৎপাদিত চা পাতা