একদিনেই নিভে গেল দুই সহোদরের জীবনপ্রদীপ
নিজস্ব প্রতিবেদক, বাঁশখালী টুডে:
জীবনের নির্মম বাস্তবতা কখনো কখনো এমন বেদনাদায়ক অধ্যায় রচনা করে, যা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। চট্টগ্রাম নগরীর দুই নম্বর গেট এলাকায় ট্রেন দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন বাঁশখালীর এ কে এম শামসুদ্দিন আহমেদ খোকন (৭৮)। আর বড় ভাইয়ের মৃত্যুর শোক সহ্য করতে না পেরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন ছোট ভাই মোহাম্মদ পেয়ারু (৬৮)।
একই দিনে দুই সহোদরের এমন আকস্মিক প্রস্থানে পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
বুধবার (১০ জুন) সন্ধ্যায় ঘটে যাওয়া এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় স্তব্ধ হয়ে পড়েছে বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের চাপাছড়ি গ্রাম। মরহুমরা ছিলেন এলাকার প্রয়াত ছাবের আহমদের পুত্র।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ন্যাশনাল ব্যাংকের সাবেক ম্যানেজার এ কে এম শামসুদ্দিন আহমেদ খোকন পরিবারের প্রয়োজনীয় কেনাকাটা শেষে বাসায় ফিরছিলেন। চট্টগ্রাম নগরীর ২ নম্বর গেট এলাকায় পথ অতিক্রমকালে একটি ট্রেনের ধাক্কায় তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও শেষ রক্ষা হয়নি। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বড় ভাইয়ের মৃত্যুর সংবাদ যখন পরিবারে পৌঁছে, তখন যেন নেমে আসে শোকের কালো মেঘ। সেই মর্মান্তিক খবর শুনে গভীরভাবে ভেঙে পড়েন ছোট ভাই মোহাম্মদ পেয়ারু। দীর্ঘদিনের অসুস্থ এই মানুষটি প্রিয় বড় ভাইকে হারানোর শোক সহ্য করতে পারেননি। একপর্যায়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রামের রহমাননগর নাসিরাবাদস্থ নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
বাঁশখালী উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন রবি জানান, “বড় ভাইয়ের মৃত্যুর খবর শোনার পর পেয়ারু ভাই অত্যন্ত মর্মাহত হয়ে পড়েন। কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন এবং আমাদের ছেড়ে চলে যান।”
একই দিনে দুই সহোদরের মৃত্যু যেন এক পরিবারের বুক থেকে দুটি স্তম্ভ উপড়ে নেওয়ার মতো ঘটনা। তাদের বিদায়ে শুধু পরিবার নয়, শোকাহত হয়েছেন আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, শুভানুধ্যায়ী এবং এলাকাবাসী। স্মৃতির পাতায় রয়ে যাবে দুই ভাইয়ের স্নেহ, ভালোবাসা ও জীবনের গল্প।