ছনুয়ায় এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এমরুল কায়েস

  • ২৬ নভেম্বর ২০২৫
ছনুয়ায় এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এমরুল কায়েস ছনুয়ার উন্নয়নের অদম্য কাণ্ডারী লায়ন মো. আমিরুল হক এমরুল কায়েস

নিজস্ব প্রতিবেদক:
চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী বাঁশখালী উপজেলার সর্বদক্ষিণের জনপদ ছনুয়া। যে জনপদ যুগ যুগ ধরে পড়ে ছিল অবহেলার অন্ধকারে। বর্ষায় হাঁটু-সমান কাঁদা মাড়িয়ে স্কুলে যেতো এখানকার শিশুরা। ভেজা বই, মলিন ইউনিফর্ম আর কাঁদায় মাখা জীবন ছিল তাদের নিত্যদিনের সঙ্গী।

এই কষ্টগুলো একদিন গভীরভাবে নাড়া দেয় ছনুয়ারই এক প্রগাঢ় হৃদয়ের মানুষকে। যার নাম লায়ন মো. আমিরুল হক। এমরুল কায়েস নামে যিনি পরিচিত সবার কাছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগ থেকে মাস্টার্স পাস করা এই সমাজসেবক নিজ গ্রামকে নিয়ে ভাবতে বসেন শিল্পীর মতো, স্বপ্নের মতো।

এরপর গড়ে তোলেন  ‘ছনুয়া উন্নয়ন পরিষদ’ নামে একটি অরাজনৈতিক, নির্মল মানবসেবার পতাকা। ২০১২ সালে গঠিত এই সংগঠনের মাধ্যমে তিনি হাঁটেন গ্রাম থেকে গ্রাম, কাঁদা থেকে কাঁদা, মানুষের আশা থেকে মানুষের স্বপ্নে। তার অবিরাম প্রচেষ্টায় ছনুয়ার আনাচে–কানাচে বদলের হাওয়া লাগে৷ নির্মিত হয় অন্তত ৩০টি রাস্তা। তিন দশক ধরে ছনুয়ার মানুষের জন্য নিজ ঘামের প্রতিটি ফোঁটাকে তিনি আশীর্বাদে পরিণত করেছেন।

বাধা এসেছে, এসেছে সমালোচনার ঝড়

২০২২ সালে দুষ্কৃতকারীরা ভেঙে দেয় তার নির্মিত আলহাজ্ব মৌলভী নজরুল ইসলাম সড়কের নামফলক৷ কিন্তু তিনি হতাশ হননি, দমে যাননি। বরং আরও দৃপ্ত পদক্ষেপে তৈরি করেছেন জলকদর খালের উপর সাঁকো, ছাত্রছাত্রীদের জন্য করেছেন যাত্রীছাউনি নির্মাণ। ছনুয়া মনুমিয়াজী ঘাটে তৈরি করেছেন আরেকটি ছাউনি, আর ছনুয়া বাজার থেকে জেটিঘাট পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ করেছেন নিজের মমতা দিয়ে, নিজের শ্রমে। লায়ন মো. আমিরুল হক এমরুল কায়েস বলেন, “আজ থেকে বিশ বছর আগে ছনুয়ার পরিবর্তনের স্বপ্ন নিয়ে পথে নেমেছিলাম। পদে পদে বাধা এসেছিল, তবুও থামিনি।" ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতার পালাবদলের পর কিছু কুচক্রী মহল তার বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার চেষ্টা চালালেও দিনশেষে তাদের সব ষড়যন্ত্রই পরাজিত হয় সত্যের কাছে, মানুষের কাছে।


শিক্ষা উন্নয়নে তার আলোকবর্তিকা

অবহেলিত ছনুয়ার শিক্ষায় আলোর দিশা দেখাতে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন আলহাজ্ব মৌলভী নজরুল ইসলামপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় এবং নিজ বাবা-মায়ের স্মৃতিকে ধারণ করে নির্মাণ করেন শরীফা–নজরুল মডেল মাদ্রাসা। চট্টগ্রাম শহরেও তিনি রেখে গেছেন শিক্ষার উজ্জ্বল ছাপ।  প্রতিষ্ঠা করেছেন প্রখ্যাত অরবিট ক্রেডিট স্কুল অ্যান্ড কলেজ। এছাড়াও শরীফা আর্ট স্কুল ও শরীফা সুন্দর হাতের লেখা শেখার স্কুল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বুনেছেন আগামী প্রজন্মের সৃজনশীল ভবিষ্যতের বীজ।


ছনুয়ার মানুষের আজকের ভাবনা

দীর্ঘদিন ধরে ছনুয়ার মানুষ ছিল দুটি পরিবারের প্রভাবের ছায়ায়, যার কারণে থমকে ছিল উন্নয়নের চাকা।
আজ তারা বদলে যাচ্ছে, জেগে উঠছে। পরিবর্তনের মশাল হাতে নিতে চাইছে। তাদের বিশ্বাস, দুই পরিবারের দীর্ঘদিনের ছায়া ভেঙে তৃতীয় এক আলোর পথিক হিসেবে এমরুল কায়েস ছাড়া বিকল্প নেই।


জন্ম, শিক্ষা ও কীর্তি

লায়ন মো. আমিরুল হক এমরুল কায়েস জন্ম নিয়েছেন ছনুয়ার আলহাজ্ব অলিমিয়া সিকদারপাড়ার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে। তিনি শুধু সমাজসেবক নন; উপমহাদেশজুড়ে খ্যাতি পাওয়া এক স্বনামধন্য ক্যালিগ্রাফার, যার শিল্পে মিশে আছে মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা, জন্মভূমির প্রতি অনন্ত দায়বদ্ধতা।
164 জন পড়েছেন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে বাঁশখালীতে উৎপাদিত চা পাতা