বাংলাদেশ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। প্রতিষ্ঠানটির সাম্প্রতিক মূল্যায়ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুদ্রাস্ফীতি কিছুটা কমে এসেছে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে স্থিতিশীলতা ফিরেছে এবং রপ্তানি খাতেও ধীরে ধীরে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
তবে আইএমএফ জানিয়েছে, দেশের কর ব্যবস্থা, ব্যাংকিং খাত ও আর্থিক সুশাসন—এই তিনটি ক্ষেত্রে এখনো বড় ধরনের কাঠামোগত সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। কর আদায় বাড়াতে স্বচ্ছ নীতি ও প্রযুক্তিনির্ভর কর প্রশাসন গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে কর রাজস্বের হার জিডিপির তুলনায় কম থাকায় সরকারের উন্নয়ন ব্যয় নির্বাহে চাপ তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতে অনাদায়ী ঋণের পরিমাণও এখনও উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে।
অর্থনীতিবিদ ড. আরিফুল হক বলেন,
“বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন একটি সংক্রমণ পর্যায়ে আছে। সঠিক সংস্কার বাস্তবায়ন হলে দেশের প্রবৃদ্ধি টেকসই হবে, অন্যথায় সাময়িক স্থিতিশীলতা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।”
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, রাজস্ব নীতি সহজীকরণ, ব্যাংক পুনর্গঠন এবং আর্থিক খাতের স্বচ্ছতা বাড়ানোর জন্য কয়েকটি নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। এসব উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে ডিজিটাল ট্যাক্স ব্যবস্থাপনা, ব্যাংক একত্রীকরণ নীতি এবং স্বয়ংক্রিয় আর্থিক রিপোর্টিং সিস্টেম চালু করা।
আইএমএফের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে বাংলাদেশকে তার ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ আরও উন্নত করতে হবে এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমাতে হবে।