নিজস্ব প্রতিবেদক:
একটি সেতু শুধু ইট-পাথর-লোহার কাঠামো নয়; এটি হতে পারে দুই জনপদের হৃদয়ের সংযোগ, উন্নয়নের সোপান এবং ভবিষ্যতের সম্ভাবনার দ্বার। এমনই এক স্বপ্নের কথা তুলে ধরে ছনুয়া-রাজাখালী সেতু নির্মাণের জোরালো দাবি জানিয়েছেন পেকুয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শাফায়েত আজিজ রাজু।
শুক্রবার (৫ জুন) নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, চট্টগ্রামের দক্ষিণ প্রান্তের বাঁশখালী উপজেলার ছনুয়া ইউনিয়ন এবং কক্সবাজারের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নের মাঝখানে প্রবাহিত জলকদর খালের ওপর একটি ৬০ থেকে ৭০ ফুট দৈর্ঘ্যের সেতু নির্মাণ সময়ের দাবি। রাজাখালীর ভাঙার মুখ থেকে ছনুয়ার ছেলবন বেড়িবাঁধ পর্যন্ত এই সেতু গড়ে উঠলে দুই অঞ্চলের মানুষের বহুদিনের যাতায়াত-দুর্ভোগের অবসান ঘটবে।
তার মতে, সেতুটি নির্মিত হলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষার সুযোগ আরও প্রসারিত হবে, ব্যবসা-বাণিজ্যে আসবে নতুন গতি, আর দুই ইউনিয়নের মানুষের মধ্যে গড়ে উঠবে ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের আরও দৃঢ় বন্ধন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের আন্তরিক উদ্যোগে দুই উপজেলার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত এই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেবে।
উল্লেখ্য, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় রাজাখালীর ঐতিহ্যবাহী জমিদার বাড়িতে আয়োজিত এক নির্বাচনী পথসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ জলকদর খালের ওপর একটি দৃষ্টিনন্দন সেতু নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, জনগণের সমর্থন পেলে দুই ইউনিয়নের মানুষের বৃহত্তর স্বার্থে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবেন।
আজও সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নের অপেক্ষায় দক্ষিণ বাঁশখালী ও রাজাখালীর হাজারো মানুষ। তাদের প্রত্যাশা—জলকদরের বুকে একদিন মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে সেই কাঙ্ক্ষিত সেতু, যা শুধু দুই পাড়কে নয়, দুই জনপদের স্বপ্ন, সম্ভাবনা ও উন্নয়নের পথকেও একসূত্রে গেঁথে দেবে।
প্রসঙ্গত, রাজাখালী ও ছনুয়ার কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে ওই জায়গায় জলকদর খালের ওপর ব্যক্তিগত অর্থায়নে একটি সাঁকো স্থাপন করে দিয়েছিলেন ছনুয়া উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি লায়ন মো. আমিরুল হক (এমরুল কায়েস)। কিন্তু কয়েক মাসের মাথায় লবণ বোঝাই বোটের আঘাতে সাঁকোটি ভেঙে গেলে দুই ইউনিয়নের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।