নিজস্ব প্রতিবেদক:
চট্টগ্রামের বাঁশখালী থেকে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে ২৬ মাঝি–মাল্লাসহ একটি ফিশিং ট্রলার ভারতীয় কোস্টগার্ডের হাতে আটক হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার রাতে বাঁশখালী উপজেলার শেখেরখীল উপকূল থেকে যাত্রা করা ট্রলারটি ঘন কুয়াশার কারণে দিক হারিয়ে ভারতের জলসীমায় ঢুকে পড়লে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা উপকূলীয় অঞ্চল থেকে ভারতীয় কোস্টগার্ড তাদের আটক করে—এ তথ্য জানিয়েছেন ভুক্তভোগী জেলেদের পরিবার।
ট্রলারটির মালিক শেখেরখীল এলাকার এফ বি ‘মায়ের দোয়া’ ফিশিং ট্রলারের মালিক জাহাঙ্গীর আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ২৬ জন মাঝি-মাল্লাকে নিয়ে ট্রলারটি ১৪ নভেম্বর শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) সকালেই যাত্রা করেছিল। পরে ১৫ নভেম্বর শনিবার রাতে তাদের ভারতীয় কোস্টগার্ডে আটক হওয়ার খবর পরিবারগুলোর কাছে আসে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, আটক জেলেরা বর্তমানে ভারতের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার ফ্রেজারগঞ্জ থানার হেফাজতে রয়েছেন।
আটক জেলেরা বাঁশখালী, কুতুবদিয়া, মহেশখালী, পেকুয়া ও লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের বাসিন্দা। এরমধ্যে মো. আলী চাঁন, মো. জিয়াউল হক, মো. ইউসুফ, মো. জোবাইর, ওসমান গণি বাঁশখালীর শীলকূপ ইউনিয়নের বাসিন্দা। এছাড়াও রেজাউল করিম, আবু তাহের, ছরওয়ার হোসেন, মোঃ মিরাজ উদ্দীন, মামুনুর রশীদ, ছৈয়দ নূর, শওকত আলম, মো. ইলিয়াস, মো. মারুফুল ইসলাম, মো. ফারুক, মো. একরাম, নূর মোহাম্মদ কক্সবাজারের বাসিন্দা। অন্য জেলেরা হলেন, মহেশখালীর আজিজুর রহমান, মুজাম্মেল হক, পেকুয়া উপজেলার মোহাম্মদ আজিজ ও লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের মো. হাসান। এ ছাড়া ট্রলারে থাকা আরও পাঁচজনের নাম এখনো জানা যায়নি।
ট্রলার মালিক জাহাঙ্গীর আলম জানান, ঘটনার পর চট্টগ্রাম সদরঘাট নৌ থানায় লিখিতভাবে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম সদরঘাট নৌ থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, “বিষয়টি অবহিতকরণ ডায়েরি হিসেবে থানায় লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।”
এদিকে পরিবারগুলো দ্রুত জেলেদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।