বাঁশখালী উপজেলা

চট্টগ্রাম জেলার দক্ষিণ অংশে অবস্থিত বাঁশখালী একটি সমৃদ্ধ উপকূলীয় উপজেলা, যা প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য, দীর্ঘ উপকূলরেখা, নদীভিত্তিক জীবন, সমুদ্রের অর্থনীতি, কৃষি সম্পদ এবং ঐতিহ্যে পরিপূর্ণ।

আরও জানুন

ভূমিকা

চট্টগ্রাম জেলার দক্ষিণ অংশে অবস্থিত বাঁশখালী একটি সমৃদ্ধ উপকূলীয় উপজেলা, যা প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য, দীর্ঘ উপকূলরেখা, নদীভিত্তিক জীবন, সমুদ্রের অর্থনীতি, কৃষি সম্পদ এবং ঐতিহ্যে পরিপূর্ণ। জনসংখ্যা, অর্থনৈতিক কার্যক্রম, শিক্ষা এবং বাণিজ্যের দ্রুত অগ্রগতির কারণে বাঁশখালী চট্টগ্রাম অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা হিসেবে বিবেচিত।

উপজেলাটির উত্তর-পূর্বে পাহাড়ি অঞ্চল, দক্ষিণ ও পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরের উপকূল, আর মাঝখানে বিস্তীর্ণ সমতলভূমি—এই বহুমাত্রিক ভূপ্রকৃতি বাঁশখালীকে অনন্য বৈশিষ্ট্য দিয়েছে।

নামকরণ ও ইতিহাস

বাঁশখালী নামের উৎপত্তি নিয়ে কয়েকটি জনশ্রুতি প্রচলিত। সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ধারণা হলো— আগে এই পুরো অঞ্চলজুড়ে বিস্তৃত ছিল বড় বড় বাঁশঝাড়। স্থানীয়রা বলতো—“বাঁশের খাল” বা “বাঁশ খাঁড়ি”—যার উচ্চারণ রূপান্তর হয়ে পরবর্তীতে দাঁড়ায় বাঁশখালী

ইতিহাসের প্রধান অধ্যায়:

আরাকান রাজ্যের প্রভাব

বাঁশখালী অঞ্চলে আরাকান রাজ্যের প্রভাব ছিল উল্লেখযোগ্য।

পর্তুগিজ জলদস্যুদের আক্রমণ

পর্তুগিজ জলদস্যুদের আক্রমণ ও বাণিজ্য এই অঞ্চলের ইতিহাসের অংশ।

মুঘল প্রশাসন

মুঘল প্রশাসনের অধীনে রাজস্ব ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়।

ব্রিটিশ আমল

ব্রিটিশ আমলে প্রশাসনিক পুনর্গঠন ঘটে।

১৯২৮ সালে বাঁশখালী থানা

১৯২৮ সালে বাঁশখালী থানা প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৯৮৩ সালে পূর্ণাঙ্গ উপজেলা

১৯৮৩ সালে বাঁশখালী পূর্ণাঙ্গ উপজেলায় উন্নীত হয়।

ভৌগোলিক অবস্থান ও প্রকৃতি

অবস্থান

চট্টগ্রামের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত বাঁশখালী ২২°০২' থেকে ২২°১৮' উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯১°৫৫' থেকে ৯২°১২' পূর্ব দ্রাঘিমাংশে।

ক্ষেত্রফল

প্রায় ৩৯৭ বর্গকিলোমিটার—যা চট্টগ্রামের অন্যতম বৃহৎ উপজেলা।

ভূপ্রকৃতি

  • সমুদ্র উপকূল
  • মাঝখানে সমতল কৃষিভূমি
  • পূর্বে পাহাড়ি টিলা
  • শঙ্খ নদীর তীর
  • জোয়ার-ভাটা অঞ্চল

প্রশাসনিক কাঠামো

বাঁশখালী উপজেলাটি ১টি পৌরসভা, ১৪টি ইউনিয়ন, ১০০+ গ্রাম এবং বিভিন্ন মৌজা নিয়ে গঠিত।

ইউনিয়নসমূহের বিস্তারিত

খানখানাবাদ ইউনিয়ন

ঐতিহাসিক জমিদারি এলাকা, নদী ও খালে সমৃদ্ধ, কৃষি ও মৎস্য সম্পদ

কালাপানিয়া ইউনিয়ন

চরাঞ্চল ও সমুদ্রবাতাস প্রভাবিত এলাকা, লবণচাষে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা

বাহারছড়া ইউনিয়ন

উপকূল, বালিয়াড়ি ও জেলেপাড়ার জন্য পরিচিত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্রমবর্ধমান

পুঁইছড়ি ইউনিয়ন

পাহাড়ঘেঁষা এলাকা, ফলমূল ও সবজি উৎপাদনে বিখ্যাত, পুঁইছড়ি কলেজ এ এলাকার উচ্চ শিক্ষার কেন্দ্র

জনসংখ্যা

৪-৫ লাখ
মোট জনসংখ্যা
প্রায় সমান
পুরুষ ও মহিলা
৪-৫
পরিবারপ্রতি গড় জনসংখ্যা

অর্থনীতি

🌾

কৃষি

ধান, তিল, আলু, শাকসবজি, ফল, পান

🐟

মাছ ও সামুদ্রিক সম্পদ

শুঁটকি শিল্প, মৎস্যচাষ, চিংড়ি ঘের

🧂

লবণ উৎপাদন

বাংলাদেশের মোট লবণের একটি বড় অংশ

🏪

বাণিজ্য ও ব্যবসা

কালীপুর বন্দর, বাঁশখালী বাজার, বৈলছড়ি বাজার

🌍

বিদেশে কর্মসংস্থান

ইউএই, সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার

শিক্ষা ব্যবস্থা

প্রাথমিক শিক্ষা

প্রায় ৭০+ সরকারি-বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

মাধ্যমিক শিক্ষা

২০+ উচ্চ বিদ্যালয়, যার মধ্যে কিছু ঐতিহ্যবাহী।

উচ্চ শিক্ষা

  • বাঁশখালী সরকারি কলেজ

মাদরাসা শিক্ষা

ফাজিল, কামিল পর্যায়ের মাদরাসাসহ ৫০+ প্রতিষ্ঠান।

পর্যটন — দর্শনীয় স্থান